এক মাস পর উৎপাদনে ফিরল ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা

এক মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর সোমবার দুপুর ১২টা থেকে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ থাকা নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত এই কারখানাটি ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় গ্যাস সংযোগ পুনরায় পাওয়ার পর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। যার সংযোগ দেওয়ার ছয় দিনের মাথায় উৎপাদন শুরু হয়। সোমবার (০৬ এপ্রিল) বিকেলে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পুনরায় গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর দুপুর ১২টা থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। কারখানা সূত্রে জানা যায়, দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। ফলে গ্যাস নির্ভর এশিয়ার অন্যতম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় দুই হাজার আটশ টন ইউরিয়া উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে কারখানাটি। গত ৪ মার্চ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার সম

এক মাস পর উৎপাদনে ফিরল ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা
এক মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর সোমবার দুপুর ১২টা থেকে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ থাকা নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত এই কারখানাটি ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় গ্যাস সংযোগ পুনরায় পাওয়ার পর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। যার সংযোগ দেওয়ার ছয় দিনের মাথায় উৎপাদন শুরু হয়। সোমবার (০৬ এপ্রিল) বিকেলে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পুনরায় গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর দুপুর ১২টা থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। কারখানা সূত্রে জানা যায়, দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। ফলে গ্যাস নির্ভর এশিয়ার অন্যতম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় দুই হাজার আটশ টন ইউরিয়া উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে কারখানাটি। গত ৪ মার্চ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার সময় কারখানার গোডাউনে মাত্র ৫৫ হাজার টন ইউরিয়া সার মজুত ছিল, যা ১ এপ্রিলে এসে মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ব্যাগে ১৮ হাজার ৯৮০ টন এবং খোলা ৯ হাজার ৯৬৮ টন ইউরিয়া। কারখানাটি উদ্বোধনের পর থেকে শতভাগ উৎপাদন চলমান ছিল। কারখানাটিতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৭১/৭২ এমএমসি গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে ৫২/৫৩ এমএমসি পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও উৎপাদন চালিয়ে রাখা সম্ভব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি সার কারখানাটি ২৭ দিন বন্ধ থাকায় কৃষি খাতে নেতিবাচক কোনো প্রভাব পরেনি। কেননা যে পরিমাণ সারের মজুত আছে তা আগামী জুন মাস পর্যন্ত চলবে। তাছাড়া সার কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই কারখানাটি স্থাপনের পর ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ২০২৪ সালের ১১ মার্চে কারখানাটির উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটি থেকে বার্ষিক ১০ লাখ টন ইউরিয়া সার উৎপাদনে সক্ষমতা রয়েছে। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ লাখ টন ইউরিয়া সার। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ১৬ হাজার টন ইউরিয়া।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow