এক ম্যাচে দুই ‘অভিশাপ’ কাটাতে হবে স্পেনকে

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে স্পেন। তবে শেষ চারে ওঠার পথে তাদের সামনে শুধু শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামই নয়, রয়েছে দীর্ঘদিনের দুটি দুঃসহ স্মৃতিও—বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিক্ত ইতিহাস এবং কোয়ার্টার ফাইনালের ব্যর্থতার রেকর্ড। ঠিক ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেই বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন। ডেনমার্ককে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফেভারিট হিসেবে সেই ম্যাচে নেমেছিল স্প্যানিশরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে স্পেনকে বিদায় করে বেলজিয়াম। সেই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে বেলজিয়ানরা। চলতি আসরেও কোয়ার্টার ফাইনালে আবার মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। এবারও ফেভারিটের তকমা স্পেনের গায়েই। শেষ ষোলোতে শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী স্প্যানিশরা। তবে অতীতের তিক্ত স্মৃতি তাদের জন্য বাড়তি সতর্কবার্তা হয়ে আছে। ১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক জ্যঁ-মারি ফাফ ছিলেন স্পেনের হতাশার অন্যতম কারণ। এবার বেলজিয়ামের শেষ প্রহরায় আছেন থিবো কোর্তোয়া—দুইবারের বিশ্বের সেরা গোলকিপার এবং আধুনিক ফু

এক ম্যাচে দুই ‘অভিশাপ’ কাটাতে হবে স্পেনকে

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে স্পেন। তবে শেষ চারে ওঠার পথে তাদের সামনে শুধু শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামই নয়, রয়েছে দীর্ঘদিনের দুটি দুঃসহ স্মৃতিও—বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিক্ত ইতিহাস এবং কোয়ার্টার ফাইনালের ব্যর্থতার রেকর্ড।

ঠিক ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেই বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন। ডেনমার্ককে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফেভারিট হিসেবে সেই ম্যাচে নেমেছিল স্প্যানিশরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে স্পেনকে বিদায় করে বেলজিয়াম। সেই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে বেলজিয়ানরা।

চলতি আসরেও কোয়ার্টার ফাইনালে আবার মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। এবারও ফেভারিটের তকমা স্পেনের গায়েই। শেষ ষোলোতে শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী স্প্যানিশরা। তবে অতীতের তিক্ত স্মৃতি তাদের জন্য বাড়তি সতর্কবার্তা হয়ে আছে।

১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক জ্যঁ-মারি ফাফ ছিলেন স্পেনের হতাশার অন্যতম কারণ। এবার বেলজিয়ামের শেষ প্রহরায় আছেন থিবো কোর্তোয়া—দুইবারের বিশ্বের সেরা গোলকিপার এবং আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা পেনাল্টি রুখে দেওয়ার বিশেষজ্ঞ। ফলে টাইব্রেকারে গড়ালে স্পেনের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হতে পারে।

চার দশক আগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করেছিলেন স্পেনের তৎকালীন ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এলয় ওলায়া। পরে তিনি সেই মুহূর্তকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

১৯৮৬ সালের সেই পরাজয়ের পর থেকেই বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে স্পেনের ব্যর্থতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে বারবার বিদায় নেওয়ার কারণে স্প্যানিশ ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে যায় ‘কোয়ার্টার ফাইনাল অভিশাপ’ শব্দবন্ধ।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে মাত্র একবারই কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ের স্বাদ পেয়েছে স্পেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে তারা। পরে সেই আসরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে স্প্যানিশরা।

এর আগে ১৯৫০ বিশ্বকাপে শেষ চারে খেললেও তখনকার প্রতিযোগিতার ফরম্যাট ছিল ভিন্ন। নকআউটের পরিবর্তে চার দলের ফাইনাল গ্রুপে খেলেছিল স্পেন। তাই নকআউট পর্বে সেমিফাইনালে ওঠার অভিজ্ঞতা তাদের একমাত্র ২০১০ সালেই।

বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের ইতিহাসও স্পেনের জন্য সুখকর নয়। ১৯৩৪ সালে রিপ্লে ম্যাচে ইতালির কাছে হারে তারা। ১৯৮৬ সালে বিদায় নিতে হয় বেলজিয়ামের কাছে টাইব্রেকারে। ১৯৯৪ সালে ইতালির বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে পেনাল্টি এলাকায় লুইস এনরিকের নাক ভেঙে গেলেও স্পেন পেনাল্টি পায়নি। আর ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল বাতিল হওয়ার পর আবারও টাইব্রেকারে হারতে হয়েছিল তাদের।

তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান স্পেনের পক্ষেই কথা বলছে। গত চার দশকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে স্পেনকে হারাতে পারেনি বেলজিয়াম। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেনের ১২টি জয়, ৬টি ড্র এবং মাত্র ২টি হার রয়েছে।

বিশ্বকাপেও ১৯৮৬ সালের হতাশার আংশিক প্রতিশোধ নেয় স্পেন। ১৯৯০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা।

আজ যদি বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে পারে স্পেন, তাহলে একসঙ্গে ভাঙবে দুটি দীর্ঘদিনের বাধা—বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের তিক্ত স্মৃতি এবং বিশ্বকাপের ‘কোয়ার্টার ফাইনাল অভিশাপ’। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নও আরও এক ধাপ কাছে চলে আসবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow