একবারেই পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ, বৈঠক আজ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো এক ধাপেই বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। কারণ, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়ন হলে আইবাস সিস্টেমে (অনলাইনে বেতন নির্ধারণী) সমন্বয় জটিল হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন ব্যয়ও বাড়বে এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা হলেও কমিশনের সুপারিশের চেয়ে বেতনের হার কমানো হতে পারে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।  এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গঠিত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য করণীয় নির্ধারণ করা হবে।    অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছিল সরকার। দুই ধাপে বাস্তবায়ন হলে আইবাস সিস্টেম জটিল হয়ে পড়বে। এছাড়া দুই ধাপে এ কাজ বাস্তবায়ন করতে গেলে টাকা খরচ হবে বেশি। চাকরিজীবীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একবারে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও প্রস্তাবিত বেতনহার

একবারেই পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ, বৈঠক আজ
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো এক ধাপেই বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। কারণ, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়ন হলে আইবাস সিস্টেমে (অনলাইনে বেতন নির্ধারণী) সমন্বয় জটিল হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন ব্যয়ও বাড়বে এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা হলেও কমিশনের সুপারিশের চেয়ে বেতনের হার কমানো হতে পারে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।  এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গঠিত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য করণীয় নির্ধারণ করা হবে।    অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছিল সরকার। দুই ধাপে বাস্তবায়ন হলে আইবাস সিস্টেম জটিল হয়ে পড়বে। এছাড়া দুই ধাপে এ কাজ বাস্তবায়ন করতে গেলে টাকা খরচ হবে বেশি। চাকরিজীবীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একবারে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও প্রস্তাবিত বেতনহার কিছুটা কমানো হতে পারে। বর্তমানে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বৈঠকে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব, সময়সূচি, পর্যায়ক্রমিক বেতন সমন্বয় এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে, কোথায় সংশোধন আনা হবে এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ কী হবে, সে বিষয়েও অগ্রগতি হতে পারে। বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধির হার নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আজই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। সরকার ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন কার্যকরের পরিকল্পনা করলেও বিভিন্ন ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে কার্যকর হতে পারে। এর আগে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কমিটির দায়িত্ব হলো জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করা। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী নতুন পে-স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow