একযুগ পর বিশ্বকাপে ফিরে আইভরি কোস্টের লক্ষ্য নকআউট
দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে দেখা যাবে ‘লে জেলেফঁ’দের। এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪- টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেললেও কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি পশ্চিম আফ্রিকার দলটি। তবে এবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে উত্তর আমেরিকায় যাচ্ছে তারা। ২০২৪ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের পর কোচ এমার্স ফায়ের অধীনে দারুণ ছন্দে রয়েছে আইভরি কোস্ট। কোচ এমার্স ফায়ের হাত ধরে নতুন আইভরি কোস্ট ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস চলাকালীন সময়ে জ্যঁ-লুই গাসের বরখাস্ত হওয়ার পর দায়িত্ব পান এমার্স ফায়ে। শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেও খুব দ্রুতই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন ৪১ বছর বয়সী এই কোচ। তার অধীনেই ফাইনালে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হয় আইভরি কোস্ট। এরপর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও ছিল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। পুরো বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় আইভরিয়ানরা। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়- ১০ ম্যাচে একটিও গোল হজম করেনি দলটি। দুর্দান্ত বাছাইপর্ব আফ্রিকান অ
দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে দেখা যাবে ‘লে জেলেফঁ’দের।
এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪- টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেললেও কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি পশ্চিম আফ্রিকার দলটি। তবে এবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে উত্তর আমেরিকায় যাচ্ছে তারা। ২০২৪ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের পর কোচ এমার্স ফায়ের অধীনে দারুণ ছন্দে রয়েছে আইভরি কোস্ট।
কোচ এমার্স ফায়ের হাত ধরে নতুন আইভরি কোস্ট
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস চলাকালীন সময়ে জ্যঁ-লুই গাসের বরখাস্ত হওয়ার পর দায়িত্ব পান এমার্স ফায়ে। শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেও খুব দ্রুতই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন ৪১ বছর বয়সী এই কোচ। তার অধীনেই ফাইনালে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হয় আইভরি কোস্ট।
এরপর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও ছিল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। পুরো বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় আইভরিয়ানরা। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়- ১০ ম্যাচে একটিও গোল হজম করেনি দলটি।
দুর্দান্ত বাছাইপর্ব
আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘এফ’-এ খেলেছিল আইভরি কোস্ট। শেষ ম্যাচে কেনিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে তারা। পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াংয়ের গ্যাবনের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে গ্রুপসেরা হয় এমার্স ফায়ের দল।
বাছাইপর্বে আইভরি কোস্টের গোলদাতারা
* সেকো ফোফানা - ৩ গোল
* সিমন আদিংরা - ২ গোল
* ইয়ান দিয়োমান্দে - ২ গোল
* এভান গেসাঁ - ২ গোল
* সেবাস্তিয়ান হলার - ২ গোল
* ফ্রাঙ্ক কেসি - ২ গোল
* করিম কোনাতে - ২ গোল
* ইব্রাহিম সাঙ্গারে - ২ গোল
* হামেদ ত্রাওরে - ২ গোল
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আইভরি কোস্টের গ্রুপ ও সূচি
গ্রুপ পর্বে আইভরি কোস্ট খেলবে ‘ই’ গ্রুপে। খেলতে হবে ইকুয়েডর, জার্মানি ও কুরাসাওয়ের বিপক্ষে।
ম্যাচসূচি
* ১৪ জুন ২০২৬, আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর, ভেন্যু: ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
* ২০ জুন ২০২৬, জার্মানি বনাম আইভরি কোস্ট, ভেন্যু: টরন্টো স্টেডিয়াম
* ২৫ জুন ২০২৬, কুরাসাও বনাম আইভরি কোস্ট, ভেন্যু: ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
তারায় ভরা স্কোয়াড
এমার্স ফায়ের স্কোয়াডে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার মিশেল। উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন
* এভান এনডিকা - রক্ষণভাগের মূল ভরসা
* ফ্রাঙ্ক কেসি - অধিনায়ক ও মিডফিল্ড নেতা
* আমাদ দিয়ালো - আফকনে উজ্জ্বল পারফরমার
* ইয়ান দিয়োমান্দে - ২০২৫/২৬ বুন্দেসলিগার অন্যতম আবিষ্কার
* সেবাস্তিয়ান হলার
* সিমন আদিংরা
* ইব্রাহিম সাঙ্গারে
বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের ইতিহাস
* কনফেডারেশন: সিএএফ (আফ্রিকা)
* প্রথম বিশ্বকাপ: ২০০৬
* সর্বশেষ বিশ্বকাপ: ২০১৪
* মোট অংশগ্রহণ: ৪ বার (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০২৬)
* সেরা সাফল্য: গ্রুপ পর্ব
* মোট ম্যাচ: ৯
* জয়: ৩
* ড্র: ১
* হার: ৫
* গোল করেছে: ১৩
* গোল হজম: ১৪
২০১৪ বিশ্বকাপের হতাশা
ব্রাজিল বিশ্বকাপে দারুণ সম্ভাবনা নিয়েও হতাশ হতে হয়েছিল আইভরি কোস্টকে। প্রথম ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। গোল করেছিলেন উইলফ্রিড বনি ও জারভিনহো। দ্বিতীয় ম্যাচে হামেস রদ্রিগেজের কলম্বিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারার পর গ্রিসের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে অন্তত ড্র প্রয়োজন ছিল।
ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল; কিন্তু যোগ করা সময়ে জর্জিওস সামারাসের পেনাল্টি গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় দ্রগবা-জারভিনহোরা।
২০০৬: স্বপ্নের শুরু
জার্মানিতে ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয় আইভরি কোস্ট। প্রথম বিশ্বকাপেই তাদের পড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলের গ্রুপে। ফলাফল, আর্জেন্টিনার কাছে হার: ২-১, নেদারল্যান্ডসের কাছে হার: ২-১, সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে জয়: ৩-২।
সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে জিতেছিল আইভরিয়ানরা।
২০১০: আফ্রিকার মাটিতে স্মরণীয় লড়াই
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০১০ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্ট খেলেছিল ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ। ম্যাচ ফলাফল, পর্তুগালের সঙ্গে ড্র: ০-০, ব্রাজিলের কাছে হার: ৩-১, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে জয়: ৩-০। যদিও চার পয়েন্ট পেয়েও শেষ ষোলোতে উঠতে পারেনি তারা, তবে পর্তুগালের মতো দলের বিপক্ষে ড্র করে আলোড়ন তুলেছিল আইভরিয়ানরা।
বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের সেরা গোলদাতারা
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৩ গোল করেছে আইভরি কোস্ট। মোট ৮ জন খেলোয়াড় গোল করেছেন। দুই গোল করে শীর্ষে আছেন: দিদিয়ের দ্রগবা, আরুনা দিনদানে, উইলফ্রেড বনি, জারভিনহো।
দ্রগবাই করেছিলেন আইভরি কোস্টের প্রথম বিশ্বকাপ গোল। ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক গোল করেন তিনি।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার
ইয়ায়া তোরে বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪- তিন বিশ্বকাপেই দেশের সবগুলো ম্যাচ খেলেছিলেন সাবেক বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ড তারকা। মোট ম্যাচ খেলেছেন ৯টি।
২০১৪ বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে ২০১৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে ঘানাকে টাইব্রেকারে ৯-৮ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আইভরি কোস্ট।
এবার কি বদলাবে ইতিহাস?
আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে যাচ্ছে আইভরি কোস্ট। শক্তিশালী রক্ষণ, অভিজ্ঞ মিডফিল্ড এবং তরুণ আক্রমণভাগ নিয়ে এবার নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে তারা। দিদিয়ের দ্রগবা, ইয়ায়া তোরেদের প্রজন্ম যে স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি, এমার্স ফায়ের দল এবার সেই ইতিহাস বদলাতে পারে কিনা—সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?