একসঙ্গে এত মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মানুষ

এবারের ঈদে বাড়ি এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তরুণ তারেক হোসেনের (২১)। সেই আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিল পরিবার। বাড়িঘর মেরামতের কাজও প্রায় শেষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু টাঙ্গাইলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই থেমে গেল সব স্বপ্ন। ভাতিজা তারেকের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ফুফু খাদিজা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরই তারেকের বিয়ের কথা চলছিল। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটার। সেই ছেলে আজ লাশ হয়ে ফিরবে!’ টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের বাড়িই নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। জীবিকার তাগিদে তারা নোয়াখালীতে ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতেন। ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। এতে পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ স্বামী, আবার কেউ সন্তান। স্থানীয়রা বলছেন, নিহতরা মূলত বিভিন্ন এলাকা থেকে চুল সংগ্রহ করে বিক্রির কাজ করতেন। কম খরচে বাড়ি ফিরতে তারা ফেনীর মহাসড়ক থেকে রডবোঝাই একটি ট্রাকে করে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

একসঙ্গে এত মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মানুষ

এবারের ঈদে বাড়ি এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তরুণ তারেক হোসেনের (২১)। সেই আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিল পরিবার। বাড়িঘর মেরামতের কাজও প্রায় শেষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু টাঙ্গাইলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই থেমে গেল সব স্বপ্ন।

ভাতিজা তারেকের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ফুফু খাদিজা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরই তারেকের বিয়ের কথা চলছিল। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটার। সেই ছেলে আজ লাশ হয়ে ফিরবে!’

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের বাড়িই নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। জীবিকার তাগিদে তারা নোয়াখালীতে ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতেন। ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। এতে পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ স্বামী, আবার কেউ সন্তান।

একসঙ্গে এত মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মানুষ

স্থানীয়রা বলছেন, নিহতরা মূলত বিভিন্ন এলাকা থেকে চুল সংগ্রহ করে বিক্রির কাজ করতেন। কম খরচে বাড়ি ফিরতে তারা ফেনীর মহাসড়ক থেকে রডবোঝাই একটি ট্রাকে করে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

গ্রামের বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু এই গ্রামে আগে কখনো হয়নি। তারা সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। আগে মাছ ধরে জীবিকা চললেও বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে নোয়াখালীতে ফেরিওয়ালার কাজ করতে গিয়েছিলেন।’

একসঙ্গে এত মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মানুষ

আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫
১৩০০ টাকা বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকে ঈদযাত্রাই শেষযাত্রা হলো ১৫ জনের

স্থানীয় সূত্র ও থানা পুলিশের তথ্যমতে, নিহতরা হলেন সুলতানের ছেলে তারেক (২১), আব্দির রশিদের ছেলে আব্দুল বারেক (২৪), আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশাহ (২৮), একাব্বরের ছেলে সোহাগ (২১), শহিদুলের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬), জাদর আলীর ছেলে মাইনুল (৩০), আব্দুর রশিদের দুই ছেলে ময়নুল ও গিয়াস এবং একই গ্রামের সাগর (২৬)।

একসঙ্গে এত মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মানুষ

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘টাঙ্গাইলের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জন মান্দা উপজেলার বাসিন্দা বলে আমরা জেনেছি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সেখানকার থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।’

এর আগে সোমবার (২৫ মে) ভোরের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হন।

একসঙ্গে এত মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মানুষ

পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গগামী রডবোঝাই ট্রাকটিতে যাত্রী ছিল এবং ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ছিল। মহাসড়কের কালিহাতীতে পৌঁছালে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে রড এবং চাকার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ নিহত হন।

আরমান হোসেন রুমন/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow