এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিসকে তামাকমুক্ত ঘোষণা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষা করতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিসকে জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত এলাকাঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মিটিং রুমে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ: এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিস প্রাঙ্গণকে তামাকমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।  ঘোষণায় জানানো হয়, এখন থেকে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিস প্রাঙ্গণে যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত দর্শনার্থীদের কেউই পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার না হন। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে এই অফিসের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।  সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ৩৫.৩ শতাংশ, যা ভারতে ২৮.৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯.১ শতাংশ। 

এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিসকে তামাকমুক্ত ঘোষণা
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষা করতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিসকে জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত এলাকাঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মিটিং রুমে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ: এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিস প্রাঙ্গণকে তামাকমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।  ঘোষণায় জানানো হয়, এখন থেকে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিস প্রাঙ্গণে যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত দর্শনার্থীদের কেউই পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার না হন। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে এই অফিসের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।  সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ৩৫.৩ শতাংশ, যা ভারতে ২৮.৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯.১ শতাংশ।  গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস, ২০১৭)-এর তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে তিন কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ এর তথ্যমতে, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ মৃত্যু বরণ করে ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরও কয়েক লাখ মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। পক্ষান্তরে, তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু, অন্যান্য স্বাস্থ্য ক্ষতি এবং পরিবেশের ক্ষতি ছিলো প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে ক্ষতি দ্বিগুণেরও বেশি। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার এবং ক্ষয়ক্ষতি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে হুমকি সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল’- এ স্বাক্ষর করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়।  এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো হলো-পাবলিক প্লেস এবং সব যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ; পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকা রাখা নিষিদ্ধ; তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়স্থল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, প্রেক্ষাগৃহ এবং চলচ্চিত্রে যেকোনো উপায়ে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ; সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির নামে কোনো তামাক কোম্পানির নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক ও প্রতীক ব্যবহার এবং কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ; ১৮ বছরের নিচে কারো কাছে ও কারো দ্বারা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ; পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘নো-স্মোকিং সাইনেজ’ স্থাপন বাধ্যতামূলক ইত্যাদি। এই প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষা করতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অফিসকে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, ‘ধূমপানের কারণে যে শুধু ধূমপায়ীই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, বরং পাশে থাকা অধূমপায়ীরাও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এনজিও বিষয়ক ব্যুরো যেহেতু একটি পাবলিক প্রতিষ্ঠান এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ অনুযায়ী সকল পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ, তাই এর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই অফিসকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃত আকারে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম-এর আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, ‘এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কার্যালয়কে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত ঘোষণা করা নিঃসন্দেহে একটি দূরদর্শী ও জনস্বাস্থ্যবান্ধব উদ্যোগ। এই ঘোষণার মাধ্যমে ব্যুরো শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি, বরং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণে তাদের দৃঢ় অবস্থানেরও পরিচয় দিয়েছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যুরোর আওতাধীন সব এনজিও প্রতিষ্ঠান ও কার্যালয় পর্যায়ক্রমে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’ তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরাম-এর সহ-আহ্বায়ক তনুশ্রী হালদার বলেন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর এই সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। কর্মক্ষেত্রকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত ঘোষণা করার মাধ্যমে শুধু একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে না, বরং তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের চলমান উদ্যোগও আরও শক্তিশালী হবে।’ এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি বলেন, ‘এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর এই উদ্যোগ তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এটি যেন শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থকে। এটি কার্যকর করতে হলে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow