এনসিপিকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ রুমিন ফারহানার কাল্পনিক: আতাউল্লাহ

2 days ago 9

একটি টেলিভিশন টকশোতে বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার অভিযোগের জবাব দিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আতাউল্লাহ। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে এ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ পৈরতলা বাসস্ট্যান্ডে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এসময় মো. আতাউল্লাহ বলেন, রুমিন ফারহানা সম্প্রতি সময় টিভির একটি টকশোতে অভিযোগ করেছেন যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী এনসিপির নেতৃবৃন্দকে টাকা দিয়ে নিয়োগ করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার-৩ আসন থেকে যিনি প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ভাই পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক, অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার কৌশল হিসেবেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।

মো. আতাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন বিজয়নগরের তিনটি ইউনিয়নকে অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত করে খসড়া প্রকাশের পর থেকেই এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। পরে আমাদের আবেদনের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন ২৪ আগস্ট শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। যেহেতু আমাদের আবেদন সর্বপ্রথম জমা হয়েছিল, তাই শুনানিতে আমাদের সিরিয়াল রাখা হয় ১ নম্বরে। কিন্তু শুনানিতে অংশগ্রহণের আগেই আমাকে নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। ২৪ আগস্ট কমিশন ভবনে পৌঁছালে প্রধান ফটকে রুমিন ফারহানার অনুসারীরা আমাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবুও আমরা ভেতরে প্রবেশ করি। দুপুর ১২টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের মাধ্যমে শুনানির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। রুমিন ফারহানাসহ শুনানিতে অংশ নেওয়া সবাই তাদের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করে।

এক পর্যায়ে আমার বক্তব্য প্রদানের সময় হলে আমি ডায়াসে দাঁড়াই। আমি বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তে রুমিন ফারহানা হঠাৎ আসন থেকে উঠে আমার দিকে তেড়ে আসেন এবং তার অনুসারীদের আক্রমণের জন্য হাত দিয়ে ইঙ্গিত দেন। যা মিডিয়াতে এসেছে। পরবর্তীতে তারা আমাকে আক্রমণ করে এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। এসময় আমার সঙ্গে থাকা বিজয়নগর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী জনাব আমিনুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক শেখ মুস্তফা সুমন গুরুতরভাবে আহত হন।

তিনি বলেন, এ অবস্থাতেও আমি পুনরায় ডায়াসের দিকে এগিয়ে এসে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এ কর্তিত অংশের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে আমাকে আক্রমণকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান লিটন, যুগ্ম সমন্বয়কারী আবদুল্লাহ আল জিহান মাহমুদ, আশুগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী জয়ন্তী বিশ্বাস, জেলা গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সমন্বয়কারী মোহাইমিনুল আজবিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এফএ/জেআইএম

Read Entire Article