এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামে ১৩৭ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম অঞ্চলে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম অংশ এবং আরাকান সড়ক ঘিরে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচলকারী এসব গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল এবং জরুরি সেবা যানবাহনের চলাচল থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ তথ্য জানায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সারা দেশে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে জানানো হয়, এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত এবং ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১০৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৪৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮১ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৪ জন শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ১ জন সাংবাদিক, ১ জন আইনজীবী এবং ৯ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন বিমানবাহিনী সদস্য, ২ জন বিজিবি

এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামে ১৩৭ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম অঞ্চলে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম অংশ এবং আরাকান সড়ক ঘিরে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচলকারী এসব গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল এবং জরুরি সেবা যানবাহনের চলাচল থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ তথ্য জানায়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সারা দেশে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে জানানো হয়, এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত এবং ২৬৩ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১০৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৪৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮১ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৪ জন শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ১ জন সাংবাদিক, ১ জন আইনজীবী এবং ৯ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন বিমানবাহিনী সদস্য, ২ জন বিজিবি সদস্য, ৩ জন চিকিৎসক, ৯৯ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫২ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ২৫ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫ জন শিক্ষক, ১ জন আইনজীবী, ১ জন সাংবাদিক এবং ৮ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ঘিরে দুর্ঘটনার চিত্র সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। এই মহাসড়ক চট্টগ্রাম বন্দর, কক্সবাজার পর্যটন এলাকা, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রধান সংযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।

লোহাগাড়া এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। এর ধারাবাহিকতায় চুনতি এলাকায় মারছা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন নিহত এবং আরও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতির ফোর সিজন রেস্টুরেন্ট–সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলে এবং তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধনে মহাসড়কের ঝুঁকি কমানোর দাবি জানানো হয়। এই মহাসড়ক শুধু আঞ্চলিক যোগাযোগ নয়, দেশের পর্যটন অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই সড়ক ব্যবহার করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে রোড মার্কিং, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ঘাটতি রয়েছে। কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহন সেক্টর পরিচালনার পদ্ধতি আপাদমস্তক সংস্কার জরুরি। আমলাতন্ত্রের পরিবর্তে পরিবহন বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে এ খাত পরিচালনা করলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাতায়াত দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও আলোকসজ্জার ঘাটতি, রোড ডিভাইডারের অভাব, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, উল্টোপথে চলাচল, অতিরিক্ত গতি, চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন।

সুপারিশে বলা হয়েছে— সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, স্মার্ট ভাড়া ব্যবস্থা চালু, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণ, রাতের সড়কে আলোকসজ্জা, দক্ষ চালক তৈরি, ডিজিটাল ফিটনেস ব্যবস্থা, পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সার্ভিস লেন নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ, রোড সাইন স্থাপন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গঠন এবং বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow