এবার ইন্টারনেট ক্যাবলে টোল আরোপ করছে ইরান

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া সমুদ্র তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে আয় বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট মহল। জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি এবার এই জলপথকে ডিজিটাল প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা তাসনিম সম্প্রতি ‘হরমুজ প্রণালির ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে রাজস্ব আয়ের তিনটি বাস্তবধর্মী উপায়’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। সংস্থাটির দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ইরান এখন পর্যন্ত এর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। নিবন্ধে তিনটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে লাইসেন্স ও নবায়ন ফি আদায়। দ্বিতীয়ত, মেটা, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ইরানের আইন মেনে পরিচালিত হতে বাধ্য করা। তৃতীয়ত, সাবমেরিন ক্যা

এবার ইন্টারনেট ক্যাবলে টোল আরোপ করছে ইরান

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া সমুদ্র তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে আয় বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট মহল। জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি এবার এই জলপথকে ডিজিটাল প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা তাসনিম সম্প্রতি ‘হরমুজ প্রণালির ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে রাজস্ব আয়ের তিনটি বাস্তবধর্মী উপায়’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়।

সংস্থাটির দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ইরান এখন পর্যন্ত এর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।

নিবন্ধে তিনটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে লাইসেন্স ও নবায়ন ফি আদায়। দ্বিতীয়ত, মেটা, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ইরানের আইন মেনে পরিচালিত হতে বাধ্য করা। তৃতীয়ত, সাবমেরিন ক্যাবলের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্ব ইরানি কোম্পানির হাতে একচেটিয়াভাবে তুলে দেওয়া।

তাসনিমের ভাষ্য, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য একটি “কৌশলগত অর্থনৈতিক সম্পদে” পরিণত হতে পারে।

এদিকে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট আরেক সংবাদমাধ্যম ফার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হরমুজকে “লুকানো ডিজিটাল মহাসড়ক” হিসেবে বর্ণনা করেছে। সেখানে বলা হয়, বিশ্বের ৯৯ শতাংশের বেশি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ সমুদ্র তলদেশের ক্যাবলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এই অবকাঠামো গুগল, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফার্স আরও সতর্ক করে বলেছে, কয়েক দিনের জন্যও এসব ক্যাবলে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিপুল ক্ষতি হতে পারে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালির একটি বড় অংশ এমন এলাকায় অবস্থিত যেখানে ইরান সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রয়োগের অধিকার রাখে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় সমুদ্র তলদেশের ক্যাবলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানে অনুমতিপত্র ও টোল ফি বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাসনিমের আগের এক প্রতিবেদনে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের সাবমেরিন ক্যাবল ও ক্লাউড অবকাঠামোর মানচিত্রও প্রকাশ করা হয়। সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের ইন্টারনেট সংযোগের রুট তুলে ধরা হয়েছিল।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানের তুলনায় সমুদ্র তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর বেশি নির্ভরশীল। ফলে অবতরণ কেন্দ্র, ডেটা হাব ও ক্লাউড অবকাঠামো ভবিষ্যৎ যেকোনো সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

সূত্র: বার্তা সংস্থা তাসনিম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow