কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ ৭, বিএনপি ৪, জামায়াত ৬

 জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে তিনটি রাজনৈতিক ঘরানার প্যানেলের অংশগ্রহণে জমজমাট লড়াই হয়েছে। ১৭টি পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ৭টি, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল ৬টি এবং বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ৪টি পদে জয় পেয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। কেন্দ্র দুটি ছিল কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন ও চকরিয়া উপজেলা চৌকি আদালত ভবন। সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমির হোসাইন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বদিউল আলম সিকদার পরাজিত হন। সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা। বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্

কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ ৭, বিএনপি ৪, জামায়াত ৬

 জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে তিনটি রাজনৈতিক ঘরানার প্যানেলের অংশগ্রহণে জমজমাট লড়াই হয়েছে। ১৭টি পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ৭টি, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল ৬টি এবং বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ৪টি পদে জয় পেয়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। কেন্দ্র দুটি ছিল কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন ও চকরিয়া উপজেলা চৌকি আদালত ভবন।

সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমির হোসাইন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বদিউল আলম সিকদার পরাজিত হন।

সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা। বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা তৃতীয় অবস্থানে থাকেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পাঠাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান এবং নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল করিম জয় নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী দেয় এবং ৪ জন জয়ী হন।

জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবদুল বারী, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তমাল, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক ও অ্যাডভোকেট এ কে এম শাহজালাল চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট এস এম জসিম জয় পান। এই প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থী দেয় এবং ৬ জন বিজয়ী হন।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সহ-সাধারণ সম্পাদক (হিসাব) পদে অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ান আলী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নাহিদা খানম কক্সী, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট ইকবালুর রশিদ আমিন ও অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা পিয়া ও অ্যাডভোকেট সেকাব উদ্দিন জয়লাভ করেন। এই প্যানেল ১৪ জন প্রার্থী দেয় এবং ৭ জন নির্বাচিত হন।

সমিতির মোট ভোটার ছিলেন ৯৪৮ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার কেন্দ্রের ভোটার ৮৬১ জন এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৭ জন। মোট ৮৯২টি ভোট কাস্ট হয়েছে। কক্সবাজার কেন্দ্রে ৮০৬ জন এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৬ জন ভোট দেন।

নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবারই প্রথম বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিনটি প্যানেল আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাং আহমদ কবির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম রেজাউল করিম, সৈয়দ রাশেদ উদ্দিন ও মোস্তাক আহমদ। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফরিদ আহমদ, নূর আহমদ, আবু ছিদ্দিক, তাপস রক্ষিত, মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ, এ কে ফিরোজ আহমদ ও মোহাং আরিফ উল্লাহ।

জানা গেছে, ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণে এবার প্রথমবারের মতো রমজান মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। গত বছরের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে, জামায়াত সমর্থিত প্যানেল ৬টি পদে এবং আওয়ামী লীগ ঘরানার ২ জন প্রার্থী জয় পেয়েছিলেন। এবার ফলাফলে তিন পক্ষের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য দেখা গেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow