কখন আপনার ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা উচিত?
সুস্থ থাকার জন্য আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। অনেক সময় ভুলবশত খারাপ কিছু খেয়ে ফেললে বা পেটে অস্বস্তি হলে আমাদের মাথায় প্রথম যে চিন্তাটি আসে তা হলো, ‘জোর করে বমি করে দিলেই বোধহয় সব ঠিক হয়ে যাবে’। বিশেষ করে বিষক্রিয়া বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষেত্রে অনেকেই একে ঘরোয়া সমাধান হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এই ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা’ বা Induced Vomiting যতটা সহজ মনে হয়, আদতে এটি ততটাই জটিল এবং অনেক ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। শরীরের এই স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরপূর্বক ব্যবহার করার আগে আমাদের জানা প্রয়োজন এটি কখন উপকারী আর কখন প্রাণঘাতী হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বমি করা কি নিরাপদ? সাধারণভাবে বলতে গেলে, ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করার পরামর্শ খুব কম ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়। আপনার মনে হতে পারে বমি করলে বিষাক্ত দ্রব্যটি শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে, কিন্তু অনেক সময় এটি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। চিকিৎসকদের মতে, কেবলমাত্র বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সরাসরি নির্দেশনা থাকলেই কেবল এই কাজ করা উচিত। কখন এটি করা যেতে পারে? খুবই বিরল কিছু পরিস্থিতিতে চিকিৎসক আপনাকে বমি
সুস্থ থাকার জন্য আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। অনেক সময় ভুলবশত খারাপ কিছু খেয়ে ফেললে বা পেটে অস্বস্তি হলে আমাদের মাথায় প্রথম যে চিন্তাটি আসে তা হলো, ‘জোর করে বমি করে দিলেই বোধহয় সব ঠিক হয়ে যাবে’। বিশেষ করে বিষক্রিয়া বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষেত্রে অনেকেই একে ঘরোয়া সমাধান হিসেবে বেছে নেন।
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এই ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা’ বা Induced Vomiting যতটা সহজ মনে হয়, আদতে এটি ততটাই জটিল এবং অনেক ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। শরীরের এই স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরপূর্বক ব্যবহার করার আগে আমাদের জানা প্রয়োজন এটি কখন উপকারী আর কখন প্রাণঘাতী হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বমি করা কি নিরাপদ?
সাধারণভাবে বলতে গেলে, ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করার পরামর্শ খুব কম ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়। আপনার মনে হতে পারে বমি করলে বিষাক্ত দ্রব্যটি শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে, কিন্তু অনেক সময় এটি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। চিকিৎসকদের মতে, কেবলমাত্র বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সরাসরি নির্দেশনা থাকলেই কেবল এই কাজ করা উচিত।
কখন এটি করা যেতে পারে?
খুবই বিরল কিছু পরিস্থিতিতে চিকিৎসক আপনাকে বমি করার পরামর্শ দিতে পারেন:
- অ-বিষাক্ত পদার্থের কারণে ব্লকেজ: যদি কেউ এমন কোনো অ-বিষাক্ত বা পেট্রোলিয়াম-মুক্ত পদার্থ প্রচুর পরিমাণে খেয়ে ফেলেন যা পাকস্থলীতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে।
- বিশেষ বিষক্রিয়া: যদি বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র মনে করে অন্য কোনো চিকিৎসার (যেমন অ্যাক্টিভেটেড চারকোল) চেয়ে বমি করা নিরাপদ, তবেই তারা এটি করার নির্দেশ দেয়।
সাবধান! এই পরিস্থিতিগুলোতে ভুলেও বমি করবেন না
কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বমি করার চেষ্টা করা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে:
- ১. ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য: ব্লিচ বা কড়া ক্লিনার জাতীয় কিছু খেয়ে ফেললে তা পেটে যাওয়ার সময় একবার পোড়ায়, আর বমির মাধ্যমে বের হওয়ার সময় গলা ও মুখকে দ্বিতীয়বার মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে দেয়।
- ২. ধারালো বস্তু: কাচ বা মাছের কাঁটাজাতীয় কিছু গিলে ফেললে বমি করার সময় তা শরীরের অভ্যন্তরীণ টিস্যু ছিঁড়ে ফেলতে পারে।
- ৩. পেট্রোলিয়াম ও তৈলাক্ত পদার্থ: গ্যাসোলিন বা পেন্ট থিনারের মতো তরল বমি করলে তা ফুসফুসে ঢুকে নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে।
- ৪. অচেতন অবস্থায়: কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে বমি করানোর চেষ্টা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এতে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি
জোর করে বমি করলে শরীরে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে:
- খাদ্যনালীর ক্ষত: পাকস্থলীর তীব্র অ্যাসিড খাদ্যনালীর আস্তরণ পুড়িয়ে দেয়, যার ফলে রক্তপাত বা ‘ম্যালরি-ওয়েইস টিয়ার’ হতে পারে।
- দাঁতের ক্ষয়: বমির অ্যাসিড দাঁতের এনামেল নষ্ট করে ফেলে, ফলে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং একসময় পড়ে যেতে পারে।
- পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের ভারসাম্যহীনতা: অতিরিক্ত বমিতে শরীর পানিশূন্য হয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা হৃদপিণ্ড ও পেশির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
- অন্যান্য সমস্যা: এর ফলে লালা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ঘনঘন বুক জ্বালাপোড়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অস্বস্তি কমাতে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায়
বমি বমি ভাব দূর করতে জোরপূর্বক বমি না করে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা নিরাপদ:
আদা বা ক্যামোমাইল চা: এটি পেট শান্ত করতে এবং অস্বস্তি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
সহজপাচ্য খাবার: পেট খারাপ থাকলে কলা, ভাত বা টোস্ট বিস্কুটের মতো হালকা খাবার খান।
আকুপ্রেশার: কবজির ভেতরের দিকে বিশেষ বিন্দুতে (P6 পয়েন্ট) চাপ দিলে বমি বমি ভাব কমে।
গভীর শ্বাস ও তাজা বাতাস: দীর্ঘ শ্বাস নেওয়া এবং একটু খোলা বাতাসে হাঁটাহাঁটি করলে মস্তিষ্ক শান্ত হয় এবং বমি বমি ভাব দূর হয়।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
যদি বমির সাথে রক্ত দেখা যায়, বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে, মাথা ব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যায় কিংবা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বমি হতে থাকে, তবে দেরি না করে দ্রুত জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, আপনার একটি ভুল সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে, তাই সব সময় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ
What's Your Reaction?