কন্ডিশনের সুবিধা নয়, যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে বাংলাদেশ: বাশার
কথায় বলে চাঁদেরও নাকি কলঙ্ক থাকে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের অমন উদ্ভাসিত নৈপুণ্যের মিশেলে পাওয়া গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের পরও কথা উঠছে ডারউইনের উইকেট খানিক বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পক্ষে ছিল। খুব দ্রুতগতির উইকেটে তেমন সমস্যা না হলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা সাধারণত বাড়তি বাউন্স ও বাড়তি সুইংয়ে অস্বস্তিবোধ করেন। আসলে বল স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি উচ্চতায় বিপজ্জনকভাবে লাফিয়ে উঠলে আর সুইং করলে পৃথিবীর যেকোনো ব্যাটসম্যানেরই সমস্যা হয়। অস্বস্তি লাগে। ইতিহাস সাক্ষী, এই ধরনের পিচে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ভালো খেলার রেকর্ড খুব কম। খুব বেশি দূরে যেতে হবে না। এই তো সেদিন (এ বছর জুড়ে) হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তিন দীর্ঘদেহী জিম্বাবুয়ান ফাস্টবোলার মুজারাবানি, এনগারাভা আর নিউম্যান নিয়ামহুরির বাড়তি উচ্চতায় লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারি সামলাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। পাঁচদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ একবারও ২০০-ও করতে পারেননি। এবার অস্ট্রেলিয়া গিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও অখ্যাত আনকোরা তরুণ ফাস্টবোলার ক্যাম্পবেল থমসনের বোলিংয়ে ধরাশায়ী হয়েছে বাংলাদেশ। ক্যাম্পবেল থ
কথায় বলে চাঁদেরও নাকি কলঙ্ক থাকে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের অমন উদ্ভাসিত নৈপুণ্যের মিশেলে পাওয়া গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের পরও কথা উঠছে ডারউইনের উইকেট খানিক বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পক্ষে ছিল। খুব দ্রুতগতির উইকেটে তেমন সমস্যা না হলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা সাধারণত বাড়তি বাউন্স ও বাড়তি সুইংয়ে অস্বস্তিবোধ করেন।
আসলে বল স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি উচ্চতায় বিপজ্জনকভাবে লাফিয়ে উঠলে আর সুইং করলে পৃথিবীর যেকোনো ব্যাটসম্যানেরই সমস্যা হয়। অস্বস্তি লাগে।
ইতিহাস সাক্ষী, এই ধরনের পিচে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ভালো খেলার রেকর্ড খুব কম। খুব বেশি দূরে যেতে হবে না। এই তো সেদিন (এ বছর জুড়ে) হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তিন দীর্ঘদেহী জিম্বাবুয়ান ফাস্টবোলার মুজারাবানি, এনগারাভা আর নিউম্যান নিয়ামহুরির বাড়তি উচ্চতায় লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারি সামলাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। পাঁচদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ একবারও ২০০-ও করতে পারেননি।
এবার অস্ট্রেলিয়া গিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও অখ্যাত আনকোরা তরুণ ফাস্টবোলার ক্যাম্পবেল থমসনের বোলিংয়ে ধরাশায়ী হয়েছে বাংলাদেশ। ক্যাম্পবেল থমসন মাত্র ২৫ রানে ৮ উইকেটের পতন ঘটালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়ে যায় মাত্র ৫৪ রানে। সে ম্যাচেও ইনিংস পরাজয়ের স্বাদ নেয় শান্তর দল।
সেই দল ডারউইনে বিশ্বের তিন দুর্ধর্ষ ফাস্টবোলার হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক আর প্যাট কামিন্সের বল অবলীলায় খেলে প্রথম ইনিংসে সোয়া চারশো পেরিয়ে (৪২৬) গেছেন। আর ট্রেভিস হেড, ল্যাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ আর ক্যামেরন গ্রিনরা বাংলাদেশের ফাস্টবোলার হাসান মাহমুদ, অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের ঘূর্ণি বলে নাকানিচুবানি খাইয়েছেন।
কারও কারও মত, সেটা ডারউনের ড্রপ-ইন পিচের কারণেই অসিদের এতটা নাকাল করা সম্ভব হয়েছে। কারণ ড্রপ-ইন পিচে বলের গতি, বাউন্স আর মুভমেন্ট কোনোটাই বেশি হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাটিং কোচ ও ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ডারউইনে প্রথম টেস্ট খেলা মোহাম্মদ আশরাফুল ড্রপ-ইন পিচের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ড্রপ-ইন পিচে বল যত জোরে আসে, পিচে পড়ে তত জোরে ব্যাটে আসে না। আর সকালের সেশনে ময়েশ্চার কমে যাওয়ার পর এই পিচে টিকে থাকা তুলনামূলক সহজ।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন তা মনে করেন না। জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়কের ধারণা, কন্ডিশন মোটেই ফেভার করেনি। বাংলাদেশ কিছুতেই কন্ডিশনের কারণে জেতেনি।
জাগো নিউজের সঙ্গে মুঠোফোন আলাপে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘উইকেট যদি সত্যিই হেল্প করত, তাহলে আমাদের হাসান মাহমুদের মতো অস্ট্রেলিয়ার তিন ফাস্টবোলারেরও তো বল হাতে জ্বলে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু কই, তারাতো কেউ হাসান মাহমুদের মতো বল হাতে দুর্মনীয় হয়ে ওঠেনি। হ্যাজেলউড, কামিন্স আর স্টার্কের কেউ তো আনপ্লেয়েবল ডেলিভারি ছুঁড়তে পারেননি। তাদের বলে ভয়ঙ্কর কিছু ছিল না। আমাদের ব্যাটাররা স্বস্তিতেই খেলেছেন।’
একইভাবে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক মনে করেন, উইকেট যদি সহায়তাই করত, তাহলে বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ কেন একা সফল হলেন? কেন টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুলের বল অত ঘোরেনি। সর্বশেষ ১০ টেস্টে যার ঝুলিতে ৫৪ উইকেট জমা পড়েছে, সেই তাইজুল কেনইবা ডারউইন টেস্টে মাত্র ১ উইকেট পেলেন?
অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের মধ্যে টেস্টে লেগস্পিনার শেন ওয়ার্নের (৭০৮) পর যিনি অসিদের মধ্যে সর্বাধিক ৫৬৮ উইকেট শিকারী, উইকেট প্রাপ্তিতে গ্লেন ম্যাকগ্রা, মিচেল স্টার্ক, ডেনিস লিলি, প্যাট কামিন্স, ব্রেট লি, জনসন ও হ্যাজেলউডরা যার পিছনে, যাকে ধরা হয় অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা ও সফলতম অফস্পিনার, সেই নাথান লায়ন কেন ডারউইন টেস্টে ৩৬ ওভার বল করে ১২৫ রানে মাত্র ১ উইকেট পেয়েছেন? তার বল কেন সাপের মতো ঘুরে বাংলাদেশের ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তোলেনি?
হাবিবুল বাশার বোঝানোর চেষ্টা করেন, আসলে উইকেট বা কন্ডিশন কোনো ফ্যাক্টর নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ভালো খেলতে মুখিয়ে ছিলেন। নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস পরাজয়ের পর পুরো দল সংকল্পবদ্ধ ছিল ভালো খেলতে। নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে। এবং যাদের চেষ্টা বেশি ছিল, যারা প্রসেস মেনে নিজের সেরাটা দিতে পেরেছেন, তারাই সফল হয়েছেন।
এখানে কন্ডিশন কোনো ফ্যাক্টর ছিল না। কন্ডিশনের অ্যাডভান্টেজ নিয়ে বাংলাদেশ জেতেনি। মাঠে যে ১১ সেশন খেলা হয়েছে, তার ৯ সেশন শ্রেয়তর পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো খেলে দাপুটে পারফরম্যান্সে ম্যাচের ফল নিজেদের অনুকূলে নিয়ে নিয়েছে টাইগাররা।
এআরবি/আইএইচএস
What's Your Reaction?