কোনো মুসলমানের মৃত্যুর পর তাকে গোসল করানো, কাফন পরানো ও জানাজার নামাজ পড়ে তাকে কবরস্থ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আবু রাফে (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে গোসল করায় এবং তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা তাকে চল্লিশবার ক্ষমা করে দেন। যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেয়, আল্লাহ তাকে জান্নাতের রেশমি পোশাক পরিয়ে দেবেন। আর যে ব্যক্তি মৃতের জন্য কবর খনন করে এবং তাতে তাকে শুইয়ে দেয়, তার জন্য ওই ব্যক্তিকে কেয়ামত পর্যন্ত থাকার জন্য একটি বাসস্থান দান করার সওয়াব লেখা হয়। (মুসতাদরাকে হাকেম)
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের জানাজায় ঈমান ও সওয়াবের আশায় শরিক হয় এবং জানাজার নামাজ আদায় ও দাফন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে থাকে— সে দুটি কীরাত পরিমাণ সওয়াব নিয়ে ফিরে আসে। প্রতিটি কীরাত উহুদ পর্বতের সমান। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
একইসাথে মৃতের প্রতি এই দায়িত্বগুলো পালন করা মুসলমানদের ওপর ফরজে কেফায়া। মৃতের ওয়ারিস, অভিভাবক ও তার আত্মীয়-স্বজন থাকলে কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব প্রথমত তাদের ওপর বর্তায়। যদি মৃতের কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করার কেউ না থাকে, তাহলে তার কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা মুসলমানদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। কেউ এই দায়িত্ব পালন না করলে সবাই গুনাহগার হবে।
তাই কবর খনন সওয়াবের আশায় ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই করা উচিত। তবে কেউ কবর খনন করে দিলে মৃতের আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কেউ যদি সেজন্য হাদিয়া দেয়, তাহলে তা গ্রহণ করাও জায়েজ আছে। আর যেখানে এ কাজের জন্য একাধিক ব্যক্তি রয়েছে, সেখানে কেউ যদি নির্ধারিত পারিশ্রমিক নিয়ে এ কাজ করতে চায়, তবে সেটিও নাজায়েজ নয়।
কিন্তু যদি কোনো পরিস্থিতিতে কবর খননের জন্য একজন ব্যক্তিই থাকে, সে কবর খনন না করলে মরদেহ কবরস্থ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাহলে পরিশ্রমিক না পেলেও কবর খনন করে দেওয়া ওই ব্যক্তির জন্য অবশ্যকর্তব্য হয়ে যায়। এ রকম পরিস্থিতিতে পরিশ্রমিক না পাওয়ার কারণে কবর খনন না করলে ওই ব্যক্তি গুনাহগার হবে।
ওএফএফ/এমএস