কম খরচের ‘স্পিড পোস্টে’ প্রাণ ফিরেছে ডাক বিভাগে

বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীদের লাগেজ নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেবে শিগগির ৩০ কেজি পর্যন্ত পার্সেল, প্রথম কেজি ১০ টাকা মোটরসাইকেল-সাইকেল পরিবহনের উদ্যোগ বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর দ্রুত সেবার কাছে ক্রমে পিছিয়ে পড়ছিল সরকারি ডাক বিভাগ। মানুষ ভুলতে বসেছিল পোস্ট অফিসের কথা। কম খরচে, অল্প সময়ে পার্সেল পৌঁছে দিয়ে ফের মানুষের আস্থা ফেরাচ্ছে ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’। ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবা গত ৯ বছর চালু থাকলেও তাতে ‘গতি’ ছিল না। নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়িয়েছে ডাক বিভাগ। একই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সেবা। মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পার্সেল পৌঁছে দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি আবারও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করছে।  দ্রুত ডেলিভারি ও দেশব্যাপী নেটওয়ার্কের কারণে সেবাটি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ডাক বিভাগের ফেসবুক পেজ ঘেঁটে দেখা যায়, স্পিড পোস্ট সেবার প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া মিলছে। রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টা ও দেশের যে কোনো প্রান্তে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্

কম খরচের ‘স্পিড পোস্টে’ প্রাণ ফিরেছে ডাক বিভাগে
  • বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীদের লাগেজ নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেবে শিগগির
  • ৩০ কেজি পর্যন্ত পার্সেল, প্রথম কেজি ১০ টাকা
  • মোটরসাইকেল-সাইকেল পরিবহনের উদ্যোগ

বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর দ্রুত সেবার কাছে ক্রমে পিছিয়ে পড়ছিল সরকারি ডাক বিভাগ। মানুষ ভুলতে বসেছিল পোস্ট অফিসের কথা। কম খরচে, অল্প সময়ে পার্সেল পৌঁছে দিয়ে ফের মানুষের আস্থা ফেরাচ্ছে ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’।

ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবা গত ৯ বছর চালু থাকলেও তাতে ‘গতি’ ছিল না। নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়িয়েছে ডাক বিভাগ। একই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সেবা। মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পার্সেল পৌঁছে দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি আবারও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করছে। 

দ্রুত ডেলিভারি ও দেশব্যাপী নেটওয়ার্কের কারণে সেবাটি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কম খরচের ‘স্পিড পোস্টে’ প্রাণ ফিরেছে ডাক বিভাগে

ডাক বিভাগের ফেসবুক পেজ ঘেঁটে দেখা যায়, স্পিড পোস্ট সেবার প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া মিলছে। রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টা ও দেশের যে কোনো প্রান্তে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্বল্প খরচে দ্রুত ও নিরাপদ সেবা পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি।

এক নজরে স্পিড পোস্ট 

যে সব পণ্য পাঠানো যাবে

  • পোশাক ও কাপড়
  • বই ও কাগজপত্র
  • ইলেকট্রনিক সামগ্রী
  • উপহার সামগ্রী
  • মৌসুমি ফল
  • ডকুমেন্টস ও ফাইল
  • অন্য অনুমোদিত পণ্য

সুবিধা

  • দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা
  • দেশের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে যায়
  • অনলাইন ট্র্যাকিং
  • নিরাপদে পার্সেল ডেলিভারি
  • ঢাকার মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি
  • জেলা শহর ও উপজেলায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা

খরচ

  • প্রথম ১ কেজি ১০ টাকা
  • পরবর্তী প্রতি কেজি ৫ টাকা করে

জানতে চাইলে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্পিড পোস্ট আমাদের নতুন কোনো সেবা নয়। ২০১৮ সালে এই সেবা চালু হয়েছিল। কিন্তু নানা ধরনের লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই সেবা প্রত্যাশার জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। নতুন সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী সেবাটি নতুনভাবে জনপ্রিয় করে তোলার কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকদের উৎপাদিত কেমিক্যালমুক্ত মৌসুমি ফল স্বল্প খরচে দ্রুত মহাপরিচালক ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া। শুধু এবারের ফলের মৌসুমেই আমরা সাড়ে ৩শ মেট্রিক টন ফল পরিবহন করেছি।’

কম খরচের ‘স্পিড পোস্টে’ প্রাণ ফিরেছে ডাক বিভাগে বুকিং পণ্য সিল করা হচ্ছে/ছবি: ডাক বিভাগের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

এখন শুধু আম নয়, রংপুর ও দিনাজপুরের লিচু, মধুপুরের আনারস, পাহাড়ি এলাকার ড্রাগন ফল, বরিশালের সুপারি, কক্সবাজারের শুঁটকি, খুলনা অঞ্চলের মাছ, এমনকি পার্বতীপুর থেকে কাঁচা মাংসও পরিবহন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মহাপরিচালক বলেন, ‘কেউ কেউ রান্না করা খাবারও বিশেষভাবে প্যাক করে পাঠাচ্ছেন। স্পিড পোস্ট সেবাটি এখন অনেকেরই নজর কাড়ছে।’

২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ঢাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ও দেশের যে কোনো প্রান্তে ৪৮ ঘণ্টায় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে ডাক বিভাগ। যে কোনো পোস্ট অফিস থেকে পণ্য পাঠানো যাবে গ্রাহকের নিকটস্থ পোস্ট অফিসে। আর গ্রাহককে পোস্ট অফিস থেকে গিয়ে ওই পণ্য সংগ্রহ করতে হবে। 

এ সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে পাঠানো পার্সেল আমরা ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে দিতে পারছি। অনেক জেলা শহরেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডেলিভারি সম্ভব হচ্ছে। দূরবর্তী জেলায় পৌঁছে যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছি।’

৩০ কেজি পর্যন্ত পার্সেল, প্রথম কেজি ১০ টাকা

স্পিড পোস্টের চার্জ সম্পর্কে ডাকের ডিজি বলেন, ‘বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত একটি পার্সেল গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রথম এক কেজির জন্য ১০ টাকা ও পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য ৫ টাকা করে চার্জ নেওয়া হয়। এছাড়া এসএমএস ও ফোন নোটিফিকেশনের জন্য অতিরিক্ত মাত্র ১ টাকা নেওয়া হয়। যেমন ২০ কেজি ওজনের একটি আমের ক্যারেট পাঠাতে মোট খরচ হয় ১০৬ টাকা।’

এখনই হোম ডেলিভারি নয়

এই সেবা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও এখনো হোম ডেলিভারি সেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান ডাক অধিদপ্তরের ডিজি।

কম খরচের ‘স্পিড পোস্টে’ প্রাণ ফিরেছে ডাক বিভাগে বুকিং পণ্য/ছবি: ডাক বিভাগের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বড় আকারের পার্সেলের ক্ষেত্রে হোম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে না। গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিস থেকে পার্সেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে পার্সেল পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহককে ফোন ও এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল চালু হলে হোম ডেলিভারিও শুরু করা হবে।’

মোটরসাইকেল, সাইকেল ও লাগেজ পরিবহনের উদ্যোগ

ডাকের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে আমরা ইতোমধ্যে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল পরিবহন করেছি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ, বেডিংসহ বিভিন্ন মালামালও পরিবহন করা হচ্ছে। শিগগির বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীদের লাগেজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার সেবাও চালু করা হবে। অধিকাংশ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

দুই মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ক্যাশ অন ডেলিভারি

ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের ব্যাপক আগ্রহের ভিত্তিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে ক্যাশ অন ডেলিভারি চালুর চিন্তা রয়েছে বলে জানান ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) মো. জাকির হাসান নূর। 

জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত চিঠিপত্র কমে যাওয়ায় ডাকঘরে মানুষের আসা কমে গিয়েছিল। কিন্তু পার্সেল সেবার কারণে আবার মানুষ ডাকঘরে আসছে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ই-কমার্স খাতের জন্য ক্যাশ অন ডেলিভারি সেবা চালুর কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে এটি চালু করতে পারবো। তখন যে কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাদের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য বিক্রি করতে পারবে।’

৬ মাসের মধ্যে সব পোস্ট অফিসে ‘স্পিড পোস্ট’ সেবা 

দেশের গ্রামীণ পোস্ট অফিসগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডাক অধিদপ্তরের ডিজি কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে ১১টি স্থানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে দেশের প্রায় ১০ হাজার সরকারি ও অ-বিভাগীয় পোস্ট অফিসে এই সেবা চালু করা হবে। আশা করছি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব পোস্ট অফিসে স্পিড পোস্ট সেবা পাওয়া যাবে।’

গ্রাহকের আগ্রহ বাড়ছে, ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া 

স্পিড পোস্ট সেবা নিয়ে ডাক বিভাগের ফেসবুক পেজে গ্রাহকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সৌদি আরবপ্রবাসী মাহাবুব আলম রুবেল লিখেছেন, মাত্র ১২৬ টাকায় প্রায় ২৩ কেজি মালামাল উপজেলা পর্যায়ে পাঠাতে পেরে সন্তুষ্ট। আগে একই পণ্য পাঠাতে এক হাজার টাকার বেশি খরচ হতো।

কম খরচের ‘স্পিড পোস্টে’ প্রাণ ফিরেছে ডাক বিভাগে ফ্রজেন জিনিসও পাঠানো যাচ্ছে/ছবি: ডাক বিভাগের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

আরেক ব্যবহারকারী মামুনের মতে, ইউনিয়নভিত্তিক ডাকঘরের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি কাজে লাগানো গেলে ডাক বিভাগ দেশের সবচেয়ে বড় কুরিয়ার নেটওয়ার্কে পরিণত হতে পারে। তবে বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি।

ডাক বিভাগের একাধিক পোস্টে দ্রুত ডেলিভারির উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। একটি পোস্টে দেখা যায়, ঢাকা জিপিও থেকে পাঠানো একটি ব্লেন্ডার একই দিনে ঠাকুরগাঁও প্রধান ডাকঘরে পৌঁছে গ্রাহকের কাছে বিতরণ করা হয়েছে। 

আবার কানকিরহাট পোস্ট অফিসের একটি ভিডিওতে জানানো হয়, ৪৮ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ৩৬ থেকে ৩৭ ঘণ্টার মধ্যেই ১৯ ক্যারেট আম গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওই ভিডিওতে এক গ্রাহক ডাক বিভাগের সেবার গতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে পোস্ট অফিস দেশের শীর্ষ কুরিয়ার সেবায় পরিণত হতে পারে।

কম খরচের ‘স্পিড পোস্টে’ প্রাণ ফিরেছে ডাক বিভাগে বুকিং পণ্য/ছবি: ডাক বিভাগের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

তবে সেবা নিয়ে আগ্রহের পাশাপাশি আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশাও রয়েছে। একই পোস্টে কাওসার ইমন নামে এক ব্যবহারকারী জানতে চান, ইউনিয়ন পর্যায়ের সব পোস্ট অফিসে কবে এ সেবা চালু হবে। 
এতে স্পিড পোস্ট সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়।

কেন স্পিড পোস্টে আগ্রহ বাড়ছে

বেসরকারি কুরিয়ার সেবা দেওয়া শীর্ষ কোম্পানিগুলোর একটি সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস। সুন্দরবনের চার্জ সাধারণত পার্সেলের ওজন, আকার ও দূরত্বের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো খামে যদি কোনো ডকুমেন্ট পাঠানো হয় ও তার ওজন এক কেজির ভেতরে থাকে, সেটি দেশের যে কোনো জেলা সদরের ভেতরে অফিস থেকে গ্রাহক ডেলিভারি নিলে চার্জ ৪৫ টাকা। যদি গ্রাহকের ঠিকানায় ডেলিভারি করতে হয়, আর সেটি যদি সদরের ভেতের হয় তবে চার্জ ৫০ টাকা। আর থানা লেভেলে যদি গ্রাহক অফিস থেকে ডেলিভারি নেয় তাহলে চার্জ ৫৫ টাকা। গ্রাহকের ঠিকানায় ডেলিভারি দিতে হলে চার্জ ৭০ টাকা।

তবে দেশের সব গ্রামগঞ্জে ডকুমেন্ট হোম ডেলিভারি দেওয়ার সক্ষমতা এখনো অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। যদি কোনো পার্সেল পাঠাতে হয়, সেটি কোন ধরনের পণ্য তার ওপর নির্ভর করে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়।

৫ কেজির মধ্যে সবচেয়ে ছোট সাইজের কার্টন পার্সেল করতে হলে সার্ভিস চার্জ পড়ে ১৩০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি পণ্য পরিবহনে চার্জ ২৬ টাকা। আর আমের মৌসুমে সুন্দরবন কুরিয়ার ১৬ থেকে ২২ টাকা কেজিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম পরিবহন করে।

ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) মো. জাকির হাসান নূর জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডকুমেন্ট পরিবহনে বেসরকারি কুরিয়ারগুলো খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। তাদের আয়ের খুব সামান্য অংশ আসে এ খাত থেকে। তাই ডকুমেন্টের চার্জেও খুব বেশি প্রতিযোগিতা নেই। তবে পার্সেল পরিবহনের ক্ষেত্রে স্পিড পোস্টের সঙ্গে বেসরকারি কুরিয়ারের পার্থক্য অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘ধরুন, কোনো বেসরকারি কুরিয়ার ৫ কেজি পার্সেল পাঠাতে ১৩০ টাকা নেয়। অর্থাৎ, কেজিপ্রতি ২৬ টাকা। সেখানে স্পিড পোস্টে ৫ কেজি পার্সেল পাঠাতে খরচ পড়ে ৩০ টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৬ টাকা। সে হিসাবে স্পিড পোস্টের তুলনায় বেসরকারি কুরিয়ারের সার্ভিচ চার্জ চারগুণেরও বেশি।’

ডাক বিভাগের নির্ধারিত মাশুল অনুযায়ী, ডকুমেন্ট সেবার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২ কেজি পর্যন্ত কাগজপত্র পাঠানো যায়। এক্ষেত্রে প্রথম ১ কেজি পর্যন্ত ডাক মাশুল ২৫ টাকা। এরপর প্রতি অতিরিক্ত ১০০ গ্রাম বা তার অংশবিশেষের জন্য ১ টাকা করে যোগ হবে। এছাড়া প্রতিটি চালানের সঙ্গে ৩ টাকা রেজিস্ট্রেশন চার্জ (অথবা জিইপি সেবা নিলে ৫ টাকা) এবং ১ টাকা ইলেকট্রনিক চার্জ প্রযোজ্য। ফলে এক কেজি পর্যন্ত একটি ডকুমেন্ট পাঠাতে রেজিস্ট্রেশন সুবিধাসহ মোট খরচ হয় ২৯ টাকা।

ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, স্পিড পোস্ট শুধু একটি পার্সেল সেবা নয়, এটি সরকারি ডাক ব্যবস্থাকে আধুনিক লজিস্টিক নেটওয়ার্কে রূপান্তরের একটি বড় উদ্যোগ। ক্যাশ অন ডেলিভারি, ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে ই-কমার্স খাতেও ডাক বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

ইএইচটি/এএসএ/ এমএফএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow