কর্মকর্তার বিদায়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন কর্মচারীরা

8 hours ago 2

৩৮ বছর চাকরি করেছেন। চাকরি শেষে আয়োজন করা হয় বিদায় অনুষ্ঠানের। সেই অনুষ্ঠান শেষে কুশল বিনিময়ের সময় কর্মকর্তাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন কর্মচারীরা। কেউ তাকে জড়িয়ে কাঁদছেন, কেউ পায়ে ধরে দোয়া চেয়েছেন। কেউ কেউ প্রিয়জন হারানোর মতো ফুপিয়ে কাঁছেন। কেউ দূরে দাঁড়িয়ে চোখ মুছছেন।

সহিদুল্লাহ মজুমদার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, স্যার আমাদের মাথার তাজ ছিলেন। আমাদের সন্তানের মতো দেখে রেখেছেন। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। স্যার আর আমাদের নিকট থাকবেন না এটা মানতে পারছি না।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকালে এ দৃশ্য দেখা যায় কুমিল্লা লাকসাম জংশন এলাকার ঊর্ধ্বতন উপসহকারীর (পথ) কার্যালয় আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে। কর্মকচারীদের কান্না দেখে আবেগ তাড়িত হয়ে চোখ মুছেন অবসরে যাওয়া রেলওয়ে কুমিল্লার ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার।

তিনি বলেন, কর্মচারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের চেষ্টা করেছি। সে জন্য হয়তো তারা আমার বিদায়ে ব্যথিত। আমি তাদের জন্য দোয়া করি। তারা যেন রেলওয়ের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে পারে।

৩৮ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, কান্না হাসির অনেক গল্প আছে। একটা দুর্ঘটনা পরিদর্শন করে বাসা গেছি। হাতমুখ ধুয়েছি। খেতে বসবো এসময় খবর এলো আরেকটি দুর্ঘটনার। সে সময়ে খাবার রেখে দৌড়াতে হয়েছে। তবে আগে রেলওয়ের অনেক সংকট ছিলো। সেময় কাজ করতে কষ্ট হতো। তবে সে সংকট অনেক কেটে গেছে।

কুমিল্লা রেলওয়ের সিনিয়র উপ-সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার লাকসাম জংশন পথ বিভাগের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক, লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ইনচার্জ নূর মোহাম্মদ, লাকসাম রেলওয়ের কার্য্য বিভাগের উপ সরকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, নতুন যোগদান করা লাকসাম পথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে লাকসাম রেল অঞ্চলের শতাধিক কর্মকর্তা- কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ পাটোয়ারী/এএইচ/জিকেএস

Read Entire Article