নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামানকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)। একই সঙ্গে প্রকৌশলীদের মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) আইইবির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নূর আমিনের সই করা এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের প্রকৌশল পেশাকে ঘিরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড, দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা ও অযৌক্তিক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। তেমনই গত সোমবার (২৫ আগস্ট) নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামানকে রংপুরে নিজ কর্মস্থলে একটি মহল কর্তৃক লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হওয়ার বিষয়টি আইইবির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় আইইবি তথা দেশের সমগ্র প্রকৌশল সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। যা সারাদেশে প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
আরও পড়ুন
- ৫৪ বছরে ৯ ভিপি পেয়েছে জাবি, একজন হত্যাকাণ্ডের শিকার
- সারাদিন মানুষের ক্ষোভের কথা শুনছি, ওরস্যালাইনও নেই যে দেবো
এতে বলা হয়, প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামানকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় আইইবি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান- প্রাণনাশের হুমকিদাতা ও তাদের সহযোগিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৌশল পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে। আইইবি সর্বদা প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও এই ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যে কোনো রাষ্ট্রের অবকাঠামোগত, শিল্প, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য প্রকৌশলীদের যথাযথ নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও মর্যাদা অপরিহার্য। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে প্রকৌশল কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সম্পাদন এবং তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নত, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রকৌশলীদের এই নিরবচ্ছিন্ন অবদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আইইবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। তবে প্রকৌশলীদের যথাযথ মর্যাদা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও তাদের ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত না হলে তারা কর্মস্পৃহা হারাবেন এবং মেধাবী প্রকৌশলীরা বিদেশে চলে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেবে। ফলশ্রুতিতে দেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে পিছিয়ে পড়বে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এমএইচএ/কেএসআর/এমএস