কাকে ‘ফেরেশতা’ বললেন মাহবুব কবীর মিলন

ফেসবুক পোস্টে কোনো এক কর্মকর্তাকে ‘ফেরেশতা’ বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন। এ বিষয়ে ৮ মে সকাল ১০টা ৪১ মিনিটে একটি পোস্ট করেন। তবে কে সেই ফেরেশতা, তার নাম তিনি উল্লেখ করেননি। মাহবুব কবীর মিলন লিখেছেন, ‘তিনি জাতির কাছে ফেরেশতা হিসেবে খ্যাত। তিনি তার দপ্তরের ডিজি নিয়োগ দেবেন এবং ইন্টারভিউ নিয়ে তা করবেন বলে জানালেন। দপ্তর থেকে ৪/৫ জন কর্মকর্তার ফিট লিস্ট বানানো হলো। তিনি তার কার্যালয়ের অফিস কক্ষে ইন্টারভিউ বোর্ড বসালেন। বোর্ডে চারজন সচিব এবং বিদায়ী ডিজি উপস্থিত। সাথে মন্ত্রণালয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা। একজন একজন করে ডাকা হলো। তিনি সবাইকে একই রকম প্রশ্ন করলেন। সময় প্রায় দশ মিনিট। কমন প্রশ্ন ছিল সাক্ষাতপ্রার্থীরা কে কোথায় কী কাজ করেছে, অভিজ্ঞতা কেমন এবং কর্মজীবনের সেরা অর্জন কী ছিল। আরও পড়ুন‘আল্লাহ যেন আমার দুই পরিবারকে ধৈর্য দান করেন’  এবার শেষ প্রার্থীর পালা। একই প্রশ্ন করে শেষ প্রশ্ন করা হলো। তোমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা বলো। সাক্ষাতপ্রার্থী বললেন, বিশাল এক প্রকল্পের পিডি ছিলেন তিনি। যে প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সর্বজনবিদিত। তিনি চেয়ার ছে

কাকে ‘ফেরেশতা’ বললেন মাহবুব কবীর মিলন

ফেসবুক পোস্টে কোনো এক কর্মকর্তাকে ‘ফেরেশতা’ বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন। এ বিষয়ে ৮ মে সকাল ১০টা ৪১ মিনিটে একটি পোস্ট করেন। তবে কে সেই ফেরেশতা, তার নাম তিনি উল্লেখ করেননি।

মাহবুব কবীর মিলন লিখেছেন, ‘তিনি জাতির কাছে ফেরেশতা হিসেবে খ্যাত। তিনি তার দপ্তরের ডিজি নিয়োগ দেবেন এবং ইন্টারভিউ নিয়ে তা করবেন বলে জানালেন। দপ্তর থেকে ৪/৫ জন কর্মকর্তার ফিট লিস্ট বানানো হলো।

তিনি তার কার্যালয়ের অফিস কক্ষে ইন্টারভিউ বোর্ড বসালেন। বোর্ডে চারজন সচিব এবং বিদায়ী ডিজি উপস্থিত। সাথে মন্ত্রণালয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।

একজন একজন করে ডাকা হলো। তিনি সবাইকে একই রকম প্রশ্ন করলেন। সময় প্রায় দশ মিনিট। কমন প্রশ্ন ছিল সাক্ষাতপ্রার্থীরা কে কোথায় কী কাজ করেছে, অভিজ্ঞতা কেমন এবং কর্মজীবনের সেরা অর্জন কী ছিল।

এবার শেষ প্রার্থীর পালা। একই প্রশ্ন করে শেষ প্রশ্ন করা হলো। তোমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা বলো। সাক্ষাতপ্রার্থী বললেন, বিশাল এক প্রকল্পের পিডি ছিলেন তিনি। যে প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সর্বজনবিদিত।

তিনি চেয়ার ছেড়ে লাফ দিয়ে উঠে বললেন, তুমি সেই দুর্নীতিবাজ চোর কর্মকর্তা! তুমি এসেছো ডিজি হতে! তোমার তো লজ্জাশরম কিছুই নেই। তোমার জায়গায় আমি হলে সুইসাইড করতাম।

রাগে গজগজ করতে করতে তিনি উঠে চলে গেলেন। হতবাক বোর্ডের সবাই।

পরদিন সেই লজ্জা-শরমহীন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার ডিজি হিসেবে আদেশ বের হলো। একরাতে কীভাবে পাশা উল্টে গেল, তা কেউ জানে না।
সেই তিনি ফেরেশতা হিসেবে খ্যাত জাতির কাছে। ডিজি সাহেব এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন।

যেমন জাতি; তেমন কর্মকর্তা। তেমন রাজনীতি; তেমন সরকার। অভিশপ্ত এক জাতি।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow