কাছের বন্ধু থেকেই কি তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ?

বন্ধুত্ব এমন এক সম্পর্ক, যার নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা হয় না। এখানে থাকে ভালোবাসা, অবুঝ অভিমান, না বলা কথা বুঝে নেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা। এমন বন্ধুও থাকে, যার সঙ্গে প্রতিদিন কথা না হলেও দূরত্ব তৈরি হয় না। মাসের পর মাস যোগাযোগ না থাকলেও হঠাৎ একদিন আড্ডা শুরু হয়ে যায় আগের মতোই। কিন্তু সব বন্ধুত্ব কি সত্যিই এত সহজ ও স্বস্তির হয়? বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠছে। আর এই পরিস্থিতিকেই বলা হচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট। যখন বন্ধুত্ব একতরফা হয়ে যায় অনেক সম্পর্কেই দেখা যায়, একজন বন্ধুত্বটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য বারবার চেষ্টা করছেন, কিন্তু অন্যজন ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছেন। একজন নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন, পাশে থাকছেন, সময় দিচ্ছেন-অন্যদিকে অন্যজন শুধু প্রয়োজনেই যোগাযোগ করছেন। এমন সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তখন বন্ধুত্ব আর স্বস্তির জায়গা থাকে না, বরং দায়িত্ব বা চাপের মতো মনে হতে শুরু করে। ইমোশনাল ডাম্পিং-এর ফাঁদ অনেক সময় একজন বন্ধু নিজের সব দুঃখ, হতাশা, মানসিক চাপ অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দেন। সম্পর্কের মধ্যে সহানুভূতি থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু যখন একজন মানুষ স

কাছের বন্ধু থেকেই কি তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ?

বন্ধুত্ব এমন এক সম্পর্ক, যার নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা হয় না। এখানে থাকে ভালোবাসা, অবুঝ অভিমান, না বলা কথা বুঝে নেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা। এমন বন্ধুও থাকে, যার সঙ্গে প্রতিদিন কথা না হলেও দূরত্ব তৈরি হয় না। মাসের পর মাস যোগাযোগ না থাকলেও হঠাৎ একদিন আড্ডা শুরু হয়ে যায় আগের মতোই।

কিন্তু সব বন্ধুত্ব কি সত্যিই এত সহজ ও স্বস্তির হয়? বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠছে। আর এই পরিস্থিতিকেই বলা হচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট।

যখন বন্ধুত্ব একতরফা হয়ে যায়

অনেক সম্পর্কেই দেখা যায়, একজন বন্ধুত্বটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য বারবার চেষ্টা করছেন, কিন্তু অন্যজন ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছেন। একজন নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন, পাশে থাকছেন, সময় দিচ্ছেন-অন্যদিকে অন্যজন শুধু প্রয়োজনেই যোগাযোগ করছেন। এমন সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তখন বন্ধুত্ব আর স্বস্তির জায়গা থাকে না, বরং দায়িত্ব বা চাপের মতো মনে হতে শুরু করে।

jago

ইমোশনাল ডাম্পিং-এর ফাঁদ

অনেক সময় একজন বন্ধু নিজের সব দুঃখ, হতাশা, মানসিক চাপ অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দেন। সম্পর্কের মধ্যে সহানুভূতি থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু যখন একজন মানুষ সবসময় অন্যের আবেগের ভার বহন করতে থাকেন, তখন সেটি মানসিক ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ইমোশনাল ডাম্পিং। এর ফলে ধীরে ধীরে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতেও অস্বস্তি তৈরি হয়।

দেখা হওয়ার আগেই যদি ক্লান্ত লাগে

একসময় যে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে মন ভালো হয়ে যেত, এখন তার সঙ্গে দেখা করার কথা ভাবলেই যদি দমবন্ধ লাগে, অস্বস্তি হয় বা মানসিক চাপ বাড়ে, তবে সেটি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনুভূতিগুলোই অনেক সময় ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউটের প্রাথমিক লক্ষণ। বন্ধুত্ব তখন নিরাপত্তার জায়গা না হয়ে মানসিক চাপের উৎস হয়ে ওঠে।

jago

সব সম্পর্ক ভাঙা সমাধান নয়

তবে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হলেই সম্পর্ক ভেঙে ফেলতে হবে, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় সীমারেখা তৈরি করার। যাকে বলা হয় ব্যক্তিগত সীমানা। বন্ধুত্ব মানেই সবসময় মানসিকভাবে উপস্থিত থাকা নয়। নিজেরও একটি আলাদা পরিসর আছে, সেটি রক্ষা করা জরুরি। সব সমস্যার সমাধান নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া কোনো সম্পর্কের সুস্থতা বজায় রাখে না।

নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব

বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে আবেগের গভীরতা অনেক বেশি। তারা সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা, বোঝাপড়া ও মানসিক সংযোগ খোঁজেন। কিন্তু সবসময় সেই আবেগের ভার বহন করার মতো মানসিক শক্তি সবার থাকে না। ফলে বন্ধুত্বও অনেক সময় অজান্তেই মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করা একদমই স্বার্থপরতা নয়।

সম্পর্কের মধ্যে স্পেস প্রয়োজন

যে কোনো সুস্থ সম্পর্কের জন্য ব্যক্তিগত স্পেস খুব গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধু মানেই সবসময় ২৪ ঘণ্টা পাশে থাকতে হবে, এমন নয়। সম্পর্কের মধ্যে শ্বাস নেওয়ার জায়গা থাকতে হয়। বন্ধুত্ব যদি ধীরে ধীরে ক্লান্তি, বিরক্তি বা মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে ওঠে, তবে কিছুটা সময় নিজেকে দেওয়া প্রয়োজন। এতে সম্পর্কও সুস্থ থাকে, মানুষও মানসিকভাবে ভারমুক্ত থাকতে পারে।

বন্ধুত্ব জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কগুলোর একটি। কিন্তু সেই সম্পর্ক যদি একসময় মানসিক শান্তির বদলে ক্লান্তি তৈরি করে, তবে সেটিকে বোঝা জরুরি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং সীমারেখার মধ্য দিয়েই সুস্থ বন্ধুত্ব টিকে থাকে।

সূত্র: মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে,দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow