কাজু ফল থেকে তৈরি হচ্ছে জুস, এর সব অংশই কাজে লাগানো সম্ভব

‘গবেষণায় দেখা গেছে কাজু ফলে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। আধুনিক ইউএইচটি প্রযুক্তির মাধ্যমে টেট্রাপ্যাকে সংরক্ষণ করলে কোনো ধরনের প্রিজারভেটিভ বা অতিরিক্ত চিনি ছাড়াই শতভাগ প্রাকৃতিক জুস বাজারজাত করা সম্ভব।’ শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর বাড্ডায় জাগো নিউজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে কাজু অ্যান্ড কফি অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাতাব আলী এ কথা বলেন। জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হকের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এই উদ্যোক্তা জানান, খাগড়াছড়িতে পরিচিত একজনের কাজুবাগানে গিয়ে তিনি দেখেন কাজুবাদাম সংগ্রহের পর কাজু ফল (কাজু অ্যাপল) মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তিনি ফলটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। আরও পড়ুন ফলের খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে জুতা-ব্যাগ! ফ্যাশনে সবুজ বিপ্লব মো. মাহাতাব আলী জানান, তিনি পরীক্ষাগারে এরই মধ্যে কাজু ফলের জুস তৈরি করেছেন। বর্তমানে এর সেলফ লাইফ বা সংরক্ষণকাল নিয়ে গবেষণা চলছে। সফল হলে টেট্রাপ্যাকে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিনিয়োগের স্বল্পতা জানিয়ে বলেন, ‘পর্যাপ্ত পুঁজি না থা

কাজু ফল থেকে তৈরি হচ্ছে জুস, এর সব অংশই কাজে লাগানো সম্ভব

‘গবেষণায় দেখা গেছে কাজু ফলে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। আধুনিক ইউএইচটি প্রযুক্তির মাধ্যমে টেট্রাপ্যাকে সংরক্ষণ করলে কোনো ধরনের প্রিজারভেটিভ বা অতিরিক্ত চিনি ছাড়াই শতভাগ প্রাকৃতিক জুস বাজারজাত করা সম্ভব।’

শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর বাড্ডায় জাগো নিউজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে কাজু অ্যান্ড কফি অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাতাব আলী এ কথা বলেন।

জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হকের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এই উদ্যোক্তা জানান, খাগড়াছড়িতে পরিচিত একজনের কাজুবাগানে গিয়ে তিনি দেখেন কাজুবাদাম সংগ্রহের পর কাজু ফল (কাজু অ্যাপল) মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তিনি ফলটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।

মো. মাহাতাব আলী জানান, তিনি পরীক্ষাগারে এরই মধ্যে কাজু ফলের জুস তৈরি করেছেন। বর্তমানে এর সেলফ লাইফ বা সংরক্ষণকাল নিয়ে গবেষণা চলছে। সফল হলে টেট্রাপ্যাকে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিনিয়োগের স্বল্পতা জানিয়ে বলেন, ‘পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় সম্ভাবনাময় এ উদ্যোগকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারছি না। অথচ দেশে কাজু ফল কেন্দ্র করে বড় শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। কাজু ফলের অবশিষ্টাংশও নষ্ট হয় না। আর্দ্রতা কমিয়ে তা পাউডারে রূপান্তর করা যায়, যা চায়ের বিকল্প পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি এই উচ্ছিষ্ট অংশ পোল্ট্রি ফিড তৈরিতেও কাজে লাগানো যেতে পারে।’

তার ভাষায়, কাজু ফল অত্যন্ত পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক। এটি কাঁচাও খাওয়া যায়, অনেকটা আপেলের মতো স্বাদ। কিন্তু এ ফলের সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনো মানুষের সচেতনতা খুবই কম। তাই কাজু ফলকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে এবং এর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের সাবেক উপাচার্য, গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী, বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও ফল বিশেষজ্ঞ ড. মো. মেহেদী মাসুদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (খাদ্য ও কৃষি) এনামুল হক, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইলিয়াছ মৃধা, হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক, ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম ও নওগাঁর কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা।

বৈঠকে বক্তারা ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশে নীতিগত সহায়তা, গবেষণা, উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের ফলভিত্তিক শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং কৃষক ও উদ্যোক্তারা উভয়েই উপকৃত হবেন।

এসএম/এমআইএইচএস/এএসএ/ এমএফএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow