কালীগঞ্জে আবারো শিউলি ট্র্যাজেডির শঙ্কা: তুমুলিয়া মোড়ে বিদ্যুতের নড়বড়ে খুঁটিতে ‘মরণফাঁদ’

গাজীপুরের কালীগঞ্জে আবারো পল্লী বিদ্যুতের জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে খুঁটি নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত মে মাসে খুঁটি উপড়ে পড়ে এক স্কুলশিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যুর স্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে কালীগঞ্জবাসী। এরই মধ্যে পৌরসভার ব্যস্ততম তুমুলিয়া মোড় এলাকায় একটি বিদ্যুতের খুঁটির গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের খামখেয়ালিপনায় যেকোনো সময় ঝরে যেতে পারে অমূল্য প্রাণ। সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার তুমুলিয়া মোড় এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল ও ব্যস্ততম একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে একসাথে চারটি বাস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও শত শত যানবাহন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ঠিক এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে থাকা বিদ্যুতের একটি খুঁটির গোড়ায় পর্যাপ্ত মাটি নেই। খুঁটির চারপাশের ফাঁকা অংশে বৃষ্টির পানি জমে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। খুঁটিটি বর্তমানে শুধুমাত্র তারের টানে কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন পথচারীরা। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে ঝড়ো বাতাস বা ভারি বৃষ্টি হলে যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড় বিপর

কালীগঞ্জে আবারো শিউলি ট্র্যাজেডির শঙ্কা: তুমুলিয়া মোড়ে বিদ্যুতের নড়বড়ে খুঁটিতে ‘মরণফাঁদ’

গাজীপুরের কালীগঞ্জে আবারো পল্লী বিদ্যুতের জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে খুঁটি নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত মে মাসে খুঁটি উপড়ে পড়ে এক স্কুলশিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যুর স্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে কালীগঞ্জবাসী। এরই মধ্যে পৌরসভার ব্যস্ততম তুমুলিয়া মোড় এলাকায় একটি বিদ্যুতের খুঁটির গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের খামখেয়ালিপনায় যেকোনো সময় ঝরে যেতে পারে অমূল্য প্রাণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার তুমুলিয়া মোড় এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল ও ব্যস্ততম একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে একসাথে চারটি বাস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও শত শত যানবাহন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ঠিক এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে থাকা বিদ্যুতের একটি খুঁটির গোড়ায় পর্যাপ্ত মাটি নেই। খুঁটির চারপাশের ফাঁকা অংশে বৃষ্টির পানি জমে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। খুঁটিটি বর্তমানে শুধুমাত্র তারের টানে কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন পথচারীরা। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে ঝড়ো বাতাস বা ভারি বৃষ্টি হলে যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।

বিদ্যুৎ খুঁটির ঠিক সামনেই দোকান মো. মিলন মোল্লার। আতঙ্কের সুরে তিনি বলেন, "খুঁটিটি ঠিক আমার দোকানের সামনেই। এর গোড়ায় যে পরিমাণ মাটি সরে গিয়ে গর্ত হয়েছে, তাতে সামান্য বাতাসেই এটি পড়ে যেতে পারে। খুঁটিটি পড়লে শুধু আমার দোকান নয়, এখানে থাকা অটোরিকশা স্ট্যান্ডের চালক ও যাত্রীদের ওপর পড়বে। আমরা সারাক্ষণ জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।"

এই শঙ্কার পেছনে রয়েছে এক করুণ ইতিহাস। মাত্র আড়াই মাস আগে, গত ৬ মে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের শিমুলিয়া এলাকায় ঠিক একইভাবে খুঁটি উপড়ে পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন শিউলি বেগম (৪৫) নামের এক স্কুলশিক্ষিকা। সেই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিয়ে 'দৈনিক আজকের পত্রিকা'য় বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চলন্ত অটোরিকশার ওপর সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে ঘটনাস্থলেই ওই শিক্ষিকার মৃত্যু হয় এবং আরো দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল, খুঁটি স্থাপনে সঠিক নিয়ম মানা হয়নি এবং গোড়ায় মাটি পর্যাপ্ত ছিল না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় একটি ট্র্যাজেডির পরেও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তুমুলিয়া মোড়ের এই বিপজ্জনক খুঁটির বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর নবযোগদানকৃত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "আমি এ দপ্তরে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি মাত্রই অবগত হলাম। যেহেতু জায়গাটি জনগুরুত্বপূর্ণ এবং আগে এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গত মে মাসের সেই 'শিউলি ট্র্যাজেডি' থেকে শিক্ষা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল উপজেলার প্রতিটি খুঁটি পরীক্ষা করা। কিন্তু তুমুলিয়া মোড়ের এই চিত্র প্রমাণ করে যে, কর্তৃপক্ষের টনক এখনো নড়েনি। কোনো লাশের অপেক্ষায় না থেকে অবিলম্বে এই মরণফাঁদটি অপসারণ বা সংস্কার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন কালীগঞ্জবাসী। না হলে আবারো একি ধরণের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনার দায় কে নেবে—এমন প্রশ্নই এখন জনমনে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow