কিউবায় তেল শোধনাগারে দুর্ঘটনা, ভয়াবহ জ্বালানি সংকট
কিউবায় তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে বহুদূর থেকে আকাশে বিরাট ধোয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এ ঘটনায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী হাভানায় অবস্থিত নিকো লোপেজ রিফাইনারিতে আগুন লাগে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হাভানা উপসাগরের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সেখানে দুটি তেলবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল। বিবিসি জানিয়েছে, কিউবার জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে। দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আগে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত। তবে গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযানে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও জব্দ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতা
কিউবায় তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে বহুদূর থেকে আকাশে বিরাট ধোয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এ ঘটনায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী হাভানায় অবস্থিত নিকো লোপেজ রিফাইনারিতে আগুন লাগে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হাভানা উপসাগরের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সেখানে দুটি তেলবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল।
বিবিসি জানিয়েছে, কিউবার জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে। দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আগে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত। তবে গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযানে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও জব্দ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতাদের ‘সমঝোতায়’ আসার আহ্বান জানিয়ে অন্যথায় কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে কিউবাকে তেল বিক্রি করে এমন দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট তীব্র আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডায়ালাইসিস সেবা এবং পানি পাম্পিং স্টেশনগুলোও বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিমান জ্বালানির অভাবে কয়েকটি এয়ারলাইন কিউবায় ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ও পর্যটন খাতে সাময়িক পরিবর্তন এনেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে একতরফা অর্থনৈতিক চাপের চরম রূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক কিউবার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৬০ সাল থেকে কিউবার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। যদিও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন সেসবের অনেকগুলোই বাতিল করে দেয়।
What's Your Reaction?