কিছু কিছু মানুষের এলার্মের প্রয়োজন হয় না কেন?

কেন কিছু মানুষের এলার্মের প্রয়োজন পড়ে না? কেউ কেউ আছেন, যাদের কোনো বিশেষ প্রয়োজনে ঘুম থেকে উঠতে এলার্মের প্রয়োজন হয় না। দেখা যায়, ঘড়ির এলার্ম বাজার কয়েক মুহূর্ত আগেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। শরীরও থাকে সতেজ, ঝরঝরে। এই রহস্যময় ঘটনা কেন ঘটে এবং কাদের ক্ষেত্রে ঘটে—আজ এ নিয়ে সামান্য বলবো। হঠাৎ কোনো কাজে বা প্রয়োজনে সকালে ঘুম ভাঙাতে আমরা হয়তো মা-বাবা, ভাইবোন বা কাউকে বলে রাখি। সেই সঙ্গে সতর্কতা হিসেবে মাথার কাছে ঘড়িতে এলার্ম সেট করে রাখি। আমরা মেডিকেল স্টুডেন্ট লাইফে ভোরে ক্লাসে অ্যাটেন্ড করার জন্য প্রায় প্রতিরাতেই এলার্ম সেট করে রাখতাম। কেউ এক-দুটি নয়, একদিন আমার এক সহপাঠী বললো, তার হাত-পা-মাথার কাছে ৩/৪টি এলার্ম দিয়ে রাখে। আবার কেউ কেউ বলতো, এলার্ম সেট করি কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় এলার্ম বাজার কয়েক মুহূর্ত আগেই ঘুম ভেঙে যায়। আবার কেউ কেউ এমন ঘুমকাতুরে যে, এলার্ম ঘুমের ঘোরেই বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ে, ফলে ক্লাস মিস হয়। যাই হোক, কেন কিছু কিছু মানুষের এলার্মের প্রয়োজন হয় না? আমাদের ব্রেইন সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর এক রহস্যময় সৃষ্টি। তিনি শরীরের ভেতরে একটি অদৃশ্য ঘড়ি রেখেছেন, যার নাম

কিছু কিছু মানুষের এলার্মের প্রয়োজন হয় না কেন?
কেন কিছু মানুষের এলার্মের প্রয়োজন পড়ে না? কেউ কেউ আছেন, যাদের কোনো বিশেষ প্রয়োজনে ঘুম থেকে উঠতে এলার্মের প্রয়োজন হয় না। দেখা যায়, ঘড়ির এলার্ম বাজার কয়েক মুহূর্ত আগেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। শরীরও থাকে সতেজ, ঝরঝরে। এই রহস্যময় ঘটনা কেন ঘটে এবং কাদের ক্ষেত্রে ঘটে—আজ এ নিয়ে সামান্য বলবো। হঠাৎ কোনো কাজে বা প্রয়োজনে সকালে ঘুম ভাঙাতে আমরা হয়তো মা-বাবা, ভাইবোন বা কাউকে বলে রাখি। সেই সঙ্গে সতর্কতা হিসেবে মাথার কাছে ঘড়িতে এলার্ম সেট করে রাখি। আমরা মেডিকেল স্টুডেন্ট লাইফে ভোরে ক্লাসে অ্যাটেন্ড করার জন্য প্রায় প্রতিরাতেই এলার্ম সেট করে রাখতাম। কেউ এক-দুটি নয়, একদিন আমার এক সহপাঠী বললো, তার হাত-পা-মাথার কাছে ৩/৪টি এলার্ম দিয়ে রাখে। আবার কেউ কেউ বলতো, এলার্ম সেট করি কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় এলার্ম বাজার কয়েক মুহূর্ত আগেই ঘুম ভেঙে যায়। আবার কেউ কেউ এমন ঘুমকাতুরে যে, এলার্ম ঘুমের ঘোরেই বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ে, ফলে ক্লাস মিস হয়। যাই হোক, কেন কিছু কিছু মানুষের এলার্মের প্রয়োজন হয় না? আমাদের ব্রেইন সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর এক রহস্যময় সৃষ্টি। তিনি শরীরের ভেতরে একটি অদৃশ্য ঘড়ি রেখেছেন, যার নাম সারকাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm)। এটি প্রায় ২৪ ঘণ্টা চক্রে আমাদের ঘুম, জাগরণ, ক্ষুধা, শরীরের তাপমাত্রা এবং মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করে। এই সারকাডিয়ান রিদম বা ব্রেইন ঘড়ি তাদের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করে, যারা নিয়মিত জীবনযাপন করেন—নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া, বিশ্রাম ও ঘুম। তারা যখন নির্দিষ্ট সময়ে সকালে উঠতে চান, তখন তাদের সেই অভ্যাসের সঙ্গে ব্রেইন অবচেতনভাবে কিছু হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে নিজেকে, হৃদস্পন্দন দ্রুত করে এবং ঠিক সময়ে শরীরকে জাগিয়ে দেয়। এই সারকাডিয়ান রিদম হলো আমাদের শরীরের ভেতরের প্রাকৃতিক “টাইমার”, যা আমাদের জীবনকে নিয়মিত, সুস্থ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সাহায্য করে। ডা. সাঈদ এনাম (ডিএমসি, বিসিএস) সহযোগী অধ্যাপক, সাইকিয়াট্রি ইন্টারন্যাশনাল ফেলো, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow