কী আছে ‘সুলতানাস ড্রিম’ সিনেমায়

বাঙালি মুসলমান নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তার কালজয়ী রচনা ‘সুলতানার স্বপ্ন’ অবলম্বনে নির্মিত অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘সুলতানাস ড্রিম’ এবার বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে আসছে। নারী অধিকার, কল্পনা ও মুক্তচিন্তার এক অনন্য ভুবন নিয়ে তৈরি সিনেমাটি আগামী ১৬ জানুয়ারি স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে। অনগ্রসর বাঙালি সমাজে নারীদের অবহেলার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বেগম রোকেয়া যে স্বপ্ন দেখেছিলেন-নারীরা নিজেদের অধিকারে মাথা তুলে দাঁড়াবে-সেই ভাবনাকেই গল্পের মূল উপজীব্য করেছেন স্প্যানিশ নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। স্প্যানিশ ভাষায় নির্মিত ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই অ্যানিমেশন সিনেমার মূল নাম ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’, যার ইংরেজি শিরোনাম ‘সুলতানাস ড্রিম’। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ সান সেবাস্তিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। এরপর ইউরোপিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গোয়া ফেস্টিভ্যাল, ফিল্মফেস্ট হামবুর্গ, লিডস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি। উল্লেখ্য, ১৯০৫ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত ‘সুলতানাস ড্রিম’ তৎকালীন ভারতবর্ষে, বিশেষ করে

কী আছে ‘সুলতানাস ড্রিম’ সিনেমায়

বাঙালি মুসলমান নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তার কালজয়ী রচনা ‘সুলতানার স্বপ্ন’ অবলম্বনে নির্মিত অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘সুলতানাস ড্রিম’ এবার বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে আসছে। নারী অধিকার, কল্পনা ও মুক্তচিন্তার এক অনন্য ভুবন নিয়ে তৈরি সিনেমাটি আগামী ১৬ জানুয়ারি স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে।

অনগ্রসর বাঙালি সমাজে নারীদের অবহেলার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বেগম রোকেয়া যে স্বপ্ন দেখেছিলেন-নারীরা নিজেদের অধিকারে মাথা তুলে দাঁড়াবে-সেই ভাবনাকেই গল্পের মূল উপজীব্য করেছেন স্প্যানিশ নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। স্প্যানিশ ভাষায় নির্মিত ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই অ্যানিমেশন সিনেমার মূল নাম ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’, যার ইংরেজি শিরোনাম ‘সুলতানাস ড্রিম’।

২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ সান সেবাস্তিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। এরপর ইউরোপিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গোয়া ফেস্টিভ্যাল, ফিল্মফেস্ট হামবুর্গ, লিডস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি।

উল্লেখ্য, ১৯০৫ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত ‘সুলতানাস ড্রিম’ তৎকালীন ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বাংলায় নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একটি বৈপ্লবিক কল্পকাহিনি হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে ১৯২২ সালে বেগম রোকেয়া নিজেই কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে গ্রন্থটি ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে বাংলায় অনুবাদ করেন।

এই গল্পের সঙ্গে নিজের পরিচয়ের কথাও জানিয়েছেন নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০১২ সালে দিল্লি সফরের সময় প্রবল বৃষ্টিতে একটি আর্ট গ্যালারিতে আটকে পড়েন তিনি। সেখানেই তার হাতে আসে ‘সুলতানাস ড্রিম’ বইটি। ইসাবেলের ভাষায়, ‘এত বছর আগে লেখা একটি বই, যেখানে নারীদের জন্য কল্পিত এক ভিন্ন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখানো হয়েছে-পড়ে আমি বিস্মিত হই। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ার মতো। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এটা নিয়ে সিনেমা বানাবো।’

‘সুলতানাস ড্রিম’ ইসাবেল হারগুয়েরার প্রথম ফিচার ফিল্ম। জিয়ানমার্কো সেরার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এর চিত্রনাট্য লিখেছেন। সিনেমাটিতে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও বাস্কসহ একাধিক ভাষার ব্যবহার রয়েছে। এতে কলকাতার সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গানও রয়েছে, যার সংগীতায়োজন করেছেন তাজদির জুনায়েদ এবং কণ্ঠ দিয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য।

আরও পড়ুন:
‘দ্য ব্লাফ’ ট্রেলারে জলদস্যু রূপে প্রিয়াঙ্কা, ভয়ংকর অ্যাকশনে তোলপাড় 
চলতি বছরে প্রত্যাশার শীর্ষে শাহরুখ খানের যে সিনেমা 

স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন, সাহস ও প্রত্যয়ের গল্প নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ভিন্নমাত্রিক  শিল্পভাষায়।

এমআই/এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow