কুমিল্লায় কয়েল এর আগুনে নিঃস্ব কৃষক

কুমিল্লার চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে এক কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। কয়েল এর আগুনে তিলে তিলে গড়া বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে এখন নিঃস্ব ওই পরিবার। রবিবার (৮ মার্চ) দিনগত রাত পৌঁনে ১২টায় চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়িতে ওই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কৃষক জসিম উদ্দিন এর একটি বসত ঘর, একটি রান্না ঘর, একটি গোয়াল ঘর পুড়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান- ছোট বেলা থেকেই জসিম কৃষি কাজ করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন একটি ভিটিপাকা এল আকৃতির টিনের বসতঘর। স্ত্রী সেলাই কাজ করার সুবাদে একটি কক্ষে কাপড়-চোপড়ই বেশি থাকতো। ঈদ উপলক্ষ্যে ৮০ হাজার টাকার নতুন কাপড় ঘরে তুলেন তার স্ত্রী। এলাকার নারীরা থ্রি-পিস, মেক্সির কাপড় তার কাছ থেকেই কিনে সেলাই করান। ওই কক্ষে সেলাই মেশিনের পাশাপাশি পড়ার টেবিলও ছিল। তার এক সন্তান কয়েল জ্বালিয়ে পড়া-লেখার পর ওই কয়েল না নিভিয়েই পাশের কক্ষে এসে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত অনুমান পৌঁনে ১২টার দিকে ওই কক্ষ থেকে হঠাৎ আগুন জ্বল উঠলে ঘুম ভাঙ্গে পরিবারের। মুহুর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। ছড়িয়ে পড়ে বসত ঘরের সাথে যুক্ত করা একটি রা

কুমিল্লায় কয়েল এর আগুনে নিঃস্ব কৃষক

কুমিল্লার চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে এক কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। কয়েল এর আগুনে তিলে তিলে গড়া বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে এখন নিঃস্ব ওই পরিবার।

রবিবার (৮ মার্চ) দিনগত রাত পৌঁনে ১২টায় চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়িতে ওই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কৃষক জসিম উদ্দিন এর একটি বসত ঘর, একটি রান্না ঘর, একটি গোয়াল ঘর পুড়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান- ছোট বেলা থেকেই জসিম কৃষি কাজ করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন একটি ভিটিপাকা এল আকৃতির টিনের বসতঘর। স্ত্রী সেলাই কাজ করার সুবাদে একটি কক্ষে কাপড়-চোপড়ই বেশি থাকতো। ঈদ উপলক্ষ্যে ৮০ হাজার টাকার নতুন কাপড় ঘরে তুলেন তার স্ত্রী। এলাকার নারীরা থ্রি-পিস, মেক্সির কাপড় তার কাছ থেকেই কিনে সেলাই করান। ওই কক্ষে সেলাই মেশিনের পাশাপাশি পড়ার টেবিলও ছিল। তার এক সন্তান কয়েল জ্বালিয়ে পড়া-লেখার পর ওই কয়েল না নিভিয়েই পাশের কক্ষে এসে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত অনুমান পৌঁনে ১২টার দিকে ওই কক্ষ থেকে হঠাৎ আগুন জ্বল উঠলে ঘুম ভাঙ্গে পরিবারের। মুহুর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। ছড়িয়ে পড়ে বসত ঘরের সাথে যুক্ত করা একটি রান্না ঘর ও গোয়াল ঘরে।

কৃষক জসিম উদ্দিন জানান- হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে আগুন দেখার পর আমরা কোনরকমে ঘর থেকে বের হয়ে ডাক চিৎকার দেই। কেউ ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে। অন্তত একশজন প্রতিবেশি যে যার মতো পানি ঢেলে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। প্রায় এক ঘন্টা পর আগুন ঠিকই নিভেছে কিন্তু ততক্ষণে আমার আর কিছুই রইল না। তিনি আরও জানান- শীত মৌসুমের সবজি বিক্রি, আলু বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছিল। সবগুলো টাকাও পুড়ে গেছে। শরীরে থাকা কাপড়-চোপড় ছাড়া একটি সুতাও বের করা সম্ভব হয়নি। পঞ্চাশোর্ধ্ব কৃষক জসিম উদ্দিন কান্না বিজরিত কন্ঠে বলেন- ‘আমার জীবনের সব শেষ’।

চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইমাম হোসেন জানান- আমরা গিয়ে আগুন নিভাতে পেরেছি ঠিকই কিন্তু ওই কৃষক পরিবারের কোন কিছুই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আশপাশের অন্যান্য ঘরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হতো।

এদিকে, খরব পেয়ে পরদিন সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আতিকুল আলম শাওন। চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান- তাৎক্ষনিক ভাবে আমরা শুকনা খাবার, কম্বল সহায়তা করছি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটির তালিকা করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি লিখবো।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow