কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফারিহা হত্যা: স্বামী দুই দিনের রিমান্ডে

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার রহস্যজনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়কে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পুলিশ মনে করছে, এই জিজ্ঞাসাবাদে ফারিহা হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে। রবিবার দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানায় মেহেদী হাসান হৃদয়কে রিমান্ডে আনা হয়।এদিকে, গত ৫ মে রাতে ফারিহা নিহতের পর থেকে তার পরিবার ও স্বজনদের আহাজারি থামছে না। ওপেন হার্ট সার্জারি করা অসুস্থ স্কুল শিক্ষক বাবা মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আর্তনাদ করছেন। তাদের দাবি, ফারিহাকে মেরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে ছেলের পরিবার। তারা বলেন, ফারিহার এক পা বিছানায় ঠেস দেওয়া, অন্য পা চেয়ারে বাঁকা করে ঠেস দেওয়া ছিল। বিছানা ছিল পরিপাটি, চেয়ারও ছিল ঠিকঠাক। এভাবে কখনো আত্মহত্যা হয় না। পরিবারটির দাবি, দ্রুত সঠিক তদন্ত করে খুনিদের ফাঁসি নিশ্চিত করা হোক।ফারিহার স্বামীর পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট টেম্পারিং সহ নানা শঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার। গত ২১ মে বৃহস্পতিবার এ

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফারিহা হত্যা: স্বামী দুই দিনের রিমান্ডে

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার রহস্যজনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়কে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পুলিশ মনে করছে, এই জিজ্ঞাসাবাদে ফারিহা হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে। রবিবার দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানায় মেহেদী হাসান হৃদয়কে রিমান্ডে আনা হয়।

এদিকে, গত ৫ মে রাতে ফারিহা নিহতের পর থেকে তার পরিবার ও স্বজনদের আহাজারি থামছে না। ওপেন হার্ট সার্জারি করা অসুস্থ স্কুল শিক্ষক বাবা মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আর্তনাদ করছেন। তাদের দাবি, ফারিহাকে মেরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে ছেলের পরিবার।

তারা বলেন, ফারিহার এক পা বিছানায় ঠেস দেওয়া, অন্য পা চেয়ারে বাঁকা করে ঠেস দেওয়া ছিল। বিছানা ছিল পরিপাটি, চেয়ারও ছিল ঠিকঠাক। এভাবে কখনো আত্মহত্যা হয় না। পরিবারটির দাবি, দ্রুত সঠিক তদন্ত করে খুনিদের ফাঁসি নিশ্চিত করা হোক।

ফারিহার স্বামীর পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট টেম্পারিং সহ নানা শঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার। গত ২১ মে বৃহস্পতিবার এই হত্যার বিচার চেয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিশাল মানববন্ধন করেন। জান্নাতুন নাঈম ফারিহা ওই স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আমরা দুই দিনের জন্য আসামিকে থানায় এনেছি। তাকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আশা করছি ভালো কিছু তথ্য বেরিয়ে আসবে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. শারমিন সুলতানা জানান, এ ঘটনাটি বেশ আলোচিত। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দ্রুত দেওয়ার কাজ চলছে। ঢাকা থেকে রিপোর্ট পেলেই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করব। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মির্জা মো. তায়েবুল ইসলাম বলেন, রিপোর্ট টেম্পারিং করার কোনো সুযোগ নেই। পোস্টমর্টেম স্যাম্পলের অনুযায়ী রিপোর্ট আসবে। ঢাকা থেকে রিপোর্ট আসতে কিছুটা সময় লাগে। ওই রিপোর্ট পেলেই আমরা তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক অমর্ত্য মজুমদার জানান, রবিবার রাত থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পেলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

গত ২০ মে বুধবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১ নং আমলী আদালত) মমিনুল হকের আদালতে কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমর্ত্য মজুমদার আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ সালাউদ্দিন ও মাহবুবুল হক খন্দকারসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান।

অপরদিকে, বাদী পক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলমসহ ১০/১৫ জন আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় আনা হয় মেহেদী হাসান হৃদয়কে।

গত ৫ মে মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টির মুন্সেফবাড়ি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামে একটি বহুতল ভবনের স্বামী ও শ্বশুরের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে ফারিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। ফারিয়ার পরিবার সেই টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয় এবং এ নিয়ে একাধিকবার ফারিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow