কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্র্যাকের এরিয়া কার্যালয়ের আবাসিক এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তরুনমোড়-শহীদ গোলাম কিবরিয়া সড়ক ঘেঁষে অবস্থিত ব্র্যাকের কুমারখালী শাখা ও এরিয়া কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
তার ভেতরে অবস্থিত ব্র্যাকের আবাসিক এলাকার বারান্দায় তিনি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন।
উদ্ধার হওয়া ওই কর্মীর নাম মো. আব্দুর রহমান (৩০)। তিনি ব্র্যাকের কুমারখালী শাখা ও এরিয়া কার্যালয়ের কুরিয়ার এবং নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত।
শনিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি জ্যেষ্ঠ শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) সোহরাব হোসেন ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্তারা বলছেন, রাতের আঁধারে আব্দুর রহমানকে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বেঁধে আইপিএসের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুর রহমান অসুস্থ। কয়েকজন সহকর্মী তাকে ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন না। শুধু ইশারা করছেন।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে আব্দুর রহমানের সঙ্গে অল্প সময় কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন রাতে অজ্ঞাত তিনজন আবাসিকের ভেতরে ঢুকেছিল। তাকে বেঁধে রেখে মারধর ও স্প্রে করা হয়েছে।
ব্র্যাক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দুজন ঊর্ধ্বতন বসে আছেন। তারা প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেননি। পরে ঘুরে দেখা যায়, আইপিএসের ব্যাটারি নেই। আবাসিকের ভেতরে পড়ে আছে প্লাস্টিকের দড়ি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্র্যাক কর্মচারী বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসে দেখি কার্যালয় ভেতর থেকে তালা লাগানো। আব্দুর রহমানের ফোনও বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ম্যানেজারকে ফোন করি। পরে সবাই মিলে ভেতরে ঢুকে দেখি বারান্দায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন আব্দুর রহমান। তার হাত-পা বাঁধা।
এ বিষয়ে ফোনে ব্র্যাকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শুনেছি তিনজন চোর ভেতরে ঢুকে কুরিয়ারের হাত-পা বেঁধে কিছু মালামাল চুরি করেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
আল-মামুন সাগর/জেডএইচ/জেআইএম