কৃষকদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু

খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত পাঁচ বছর মেয়াদি এই তহবিলের আওতায় কৃষকরা সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করতে এই বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। সুবিধা যাতে অধিক সংখ্যক কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য খাতভিত্তিক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তহবিলের আওতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা, শস্য ও ফসল উৎপাদনে ৩০ লাখ টাকা, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ২০ লাখ টাকা এবং পল্লী ঋণ ও অন্যান্য কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। এই স্কিমের অধীনে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। পরে তারা কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ ব

কৃষকদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু

খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত পাঁচ বছর মেয়াদি এই তহবিলের আওতায় কৃষকরা সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করতে এই বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। সুবিধা যাতে অধিক সংখ্যক কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য খাতভিত্তিক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তহবিলের আওতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা, শস্য ও ফসল উৎপাদনে ৩০ লাখ টাকা, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ২০ লাখ টাকা এবং পল্লী ঋণ ও অন্যান্য কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে।

এই স্কিমের অধীনে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। পরে তারা কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ক্ষেত্রেও মুনাফার হার ৮ শতাংশের বেশি নির্ধারণ করা যাবে না।

আরও পড়ুন
পরিবেশবান্ধব কারখানায় ৫% সুদে ঋণ, ১০০০ কোটি টাকার গ্রিন তহবিল গঠন
ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নিতে চায় সরকার 

তহবিলের অর্থ দেশের সব ধরনের শস্য ও ফসল চাষ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং গ্রামীণ আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি ব্যক্তি এ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন না। একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিনবার এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবেন।

জামানত ছাড়াই ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ

ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। শস্য ও ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফসলের দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে কোনো প্রকার প্রচলিত জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। এছাড়া নারী কৃষক ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য জমির কাগজপত্রের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বা সামাজিক-দলগত জামানত গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১৮ মাস। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে ব্যাংকগুলো এ তহবিলের অর্থ কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকের পুরোনো ঋণ সমন্বয়ে ব্যবহার করতে পারবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক এই তহবিলের অপব্যবহার করলে বা গ্রাহকের কাছ থেকে নির্ধারিত সীমার বেশি সুদ বা মুনাফা আদায় করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হবে।

তহবিলে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে আগামী এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইএআর/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow