কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ : অর্থমন্ত্রী
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কৃষকদের দুর্দশা লাঘব এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেয়েছে এবং সেই দায়িত্ব থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক কর্তব্য। কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মাফ করেছি। কারণ আমরা জানি, অনেক কৃষকের কাছে সেই ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাদের হতাশা দূর করতে এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। একটি পরিবারকে শক্তিশালী করা গেলে সমাজ শক্তিশালী হয়, আর সমাজ শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়। সেই চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কোটি কোটি পরিবারকে
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কৃষকদের দুর্দশা লাঘব এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেয়েছে এবং সেই দায়িত্ব থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক কর্তব্য।
কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মাফ করেছি। কারণ আমরা জানি, অনেক কৃষকের কাছে সেই ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাদের হতাশা দূর করতে এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। একটি পরিবারকে শক্তিশালী করা গেলে সমাজ শক্তিশালী হয়, আর সমাজ শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়। সেই চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কোটি কোটি পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
নারীদের অবদান প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই নারীরা নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে সামনে এগিয়ে আসুক। একজন নারী প্রতিদিন পরিবারের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন, পরিবারের সব কাজ শেষ করে পরিবারের সেবা দেন—সেই অবদানকে কখনো অবহেলা করা যায় না। তারেক রহমান সবসময় বলেছেন—মানুষের মর্যাদা বাড়াতে হবে, নারীর সম্মান বাড়াতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই চিন্তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখানে কোনো দলীয় বিভাজন নেই। ধর্ম-বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাই এই সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একটি পরিবারে ২৫০০ টাকা হয়তো কারও কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সহায়তা। এই অর্থ দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কারণ এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আমরা ইতোমধ্যে টিসিবির কিছু কার্ড বিতরণ করেছি এবং সেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্টে পণ্য দেওয়া হয়েছে। একটি ফ্যামিলি কার্ডে যে ২৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে—অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সম্পদ। এটি তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিএনপি কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই একটি উদাহরণ। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সব সময় তা বাস্তবায়ন হয় না। তবে তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দেন, সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।এটাই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি যেখানে কথা দেওয়া হলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপি কখনো মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই প্রমাণ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএম, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠানে। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় প্রধান অতিথি প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবে।
What's Your Reaction?