কৃষকের ১ বিঘা জমির লাউ গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পূর্ব কাচিকাটা গ্রামে আলম খন্দকার (২১) নামে এক দরিদ্র কৃষকের এক বিঘা জমির ফলন্ত লাউগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই রাতে তার প্রায় ৬০০টি বেগুন গাছও উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে উপজেলা কৃষি অফিস। প্রতিদিনের মতো সকালে নিজের ক্ষেত দেখতে গিয়ে গাছ কাটা ও উপড়ে ফেলার দৃশ্য দেখতে পান আলম। এক রাতের মধ্যেই তার পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, আলম খন্দকার অত্যন্ত সহজ-সরল ও পরিশ্রমী যুবক। পরিবারের অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে কৃষিকাজে যুক্ত হন তিনি। ধার-দেনা করে সবজি চাষ শুরু করেছিলেন। কৃষিকাজ থেকে আয় করে সংসারে স্বস্তি ফেরানোর পাশাপাশি মায়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। স্থানীয় বিচারক মো. আনোয়ার হোসেন মুন্সি বলেন, আলম অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও সরল মনের ছেলে। অভাবের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। ধারদেনা করে সবজি চাষ করেছিল। দুর্বৃত্তদের এমন কর্মকাণ্ডে তার পরিবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলম খন্দকার বলেন, ‘আমার কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা আমার স

কৃষকের ১ বিঘা জমির লাউ গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পূর্ব কাচিকাটা গ্রামে আলম খন্দকার (২১) নামে এক দরিদ্র কৃষকের এক বিঘা জমির ফলন্ত লাউগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই রাতে তার প্রায় ৬০০টি বেগুন গাছও উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে উপজেলা কৃষি অফিস।

প্রতিদিনের মতো সকালে নিজের ক্ষেত দেখতে গিয়ে গাছ কাটা ও উপড়ে ফেলার দৃশ্য দেখতে পান আলম। এক রাতের মধ্যেই তার পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, আলম খন্দকার অত্যন্ত সহজ-সরল ও পরিশ্রমী যুবক। পরিবারের অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে কৃষিকাজে যুক্ত হন তিনি। ধার-দেনা করে সবজি চাষ শুরু করেছিলেন। কৃষিকাজ থেকে আয় করে সংসারে স্বস্তি ফেরানোর পাশাপাশি মায়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার।

স্থানীয় বিচারক মো. আনোয়ার হোসেন মুন্সি বলেন, আলম অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও সরল মনের ছেলে। অভাবের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। ধারদেনা করে সবজি চাষ করেছিল। দুর্বৃত্তদের এমন কর্মকাণ্ডে তার পরিবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলম খন্দকার বলেন, ‘আমার কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা আমার সঙ্গে এমন করল বুঝতে পারছি না। আমি অশিক্ষিত মানুষ। কৃষি অফিসে গিয়ে সাহায্য চাইতেও পারিনি কখনো। আজ সব শেষ হয়ে গেল।’

আলমের মা বলেন, ‘অভাবের কারণে ছেলেকে পড়াতে পারিনি। সে সারাদিন ক্ষেতেই কাজ করে সংসার চালায়। আমার ছেলে খুব সহজ-সরল। এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে, কিন্তু আমরা কোনো বিচার পাই না।’

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষককে উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow