কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, বলছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে আদালতের দোষী রায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সংস্থাটির ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর সারাহ ব্রুকস এক বিবৃতিতে বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এমনকি একজন সাবেক প্রেসিডেন্টও নন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যথাযথ আইনি ভিত্তিহীন ছিল এবং মৌলিক অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল। এই রায় সেই বেআইনি সিদ্ধান্তের জন্য ইউনকে জবাবদিহির আওতায় এনেছে।
সারাহ ব্রুকস আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং নাগরিকদের প্রতিরোধ দেখিয়ে দিয়েছে যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনের শাসন স্বৈরাচারী চর্চার বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন যেন আর না ঘটে, সে জন্য এখনই বিস্তৃত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত সাবেক প্রেসিডেন
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে আদালতের দোষী রায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সংস্থাটির ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর সারাহ ব্রুকস এক বিবৃতিতে বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এমনকি একজন সাবেক প্রেসিডেন্টও নন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যথাযথ আইনি ভিত্তিহীন ছিল এবং মৌলিক অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল। এই রায় সেই বেআইনি সিদ্ধান্তের জন্য ইউনকে জবাবদিহির আওতায় এনেছে।
সারাহ ব্রুকস আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং নাগরিকদের প্রতিরোধ দেখিয়ে দিয়েছে যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনের শাসন স্বৈরাচারী চর্চার বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন যেন আর না ঘটে, সে জন্য এখনই বিস্তৃত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়োন সুক ইয়লের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিদ্রোহের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এ রায় দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সামরিক আইন জারির চেষ্টা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ইউনের বিরুদ্ধে এ মামলা হয়। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দাবি করলেও আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেন। দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। যদিও দেশটিতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ১৯৯৭ সালে।
এর আগে জানুয়ারিতে প্রসিকিউশন জানায়, ইউনের ‘অসাংবিধানিক ও অবৈধ জরুরি সামরিক আইন’ জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ব্যাহত করে এবং উদার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক শৃঙ্খলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেনা সদস্যদের সংসদ ভবনে পাঠিয়ে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাদের আটক করার নির্দেশ দেন এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
৬৫ বছর বয়সী সাবেক এই প্রসিকিউটর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সামরিক আইন জারির সাংবিধানিক ক্ষমতা ছিল এবং বিরোধীদলের ‘অবরোধমূলক রাজনীতির’ বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিতেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইয়োনের বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলার বিচার চলছে। এর আগে জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে আলাদা এক মামলায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা তিনি আপিল করেছেন।
বর্তমানে তিনি সিউল ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি আপিল করতে পারেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম বিচার ছয় মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আপিলসহ পুরো প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
এদিকে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জ্যা মুয়ং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, জনগণের প্রতিরোধের কারণেই গণতন্ত্র রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, এটা সম্ভব হয়েছে কারণ এটি ছিল কোরিয়া প্রজাতন্ত্র।