কেন বিশ্বকাপ জয়ী রদ্রিকে দলে চান না রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি পেরেজ?

বিশ্বকাপ জেতার পর একজন ফুটবলারের মূল্য শুধু বাজারে বাড়ে না, বদলে যায় তার অবস্থানও। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে নেতৃত্ব দিয়ে গোল্ডেন বল জয়ী রদ্রি এখন আর শুধু বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নন, তিনি ইউরোপীয় ট্রান্সফার মার্কেটের সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে তার স্বপ্ন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা, অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি তাকে ধরে রাখতে মরিয়া। কিন্তু এই পুরো গল্পের সবচেয়ে বড় চরিত্র হয়তো রদ্রি নন-তিনি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। রিয়াল সভাপতির একটি সিদ্ধান্তই ঠিক করে দিতে পারে, এই গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় ট্রান্সফার হবে, নাকি আরেকটি ‘হয়েও হলো না’ গল্প হয়ে থাকবে। আরও পড়ুন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জিতে রদ্রির অনন্য কীর্তি ২০২৫-২৬ মৌসুমে এসিএল ইনজুরির পর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ছিল রদ্রিকে ঘিরে। অনেকেই ভেবেছিলেন, আগের সেই ছন্দে ফিরতে সময় লাগবে। কিন্তু উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ যেন তার ক্যারিয়ারের নতুন অভিষেক। আটটি ম্যাচেই ছিলেন স্পেনের অপরিহার্য ভরসা। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে তিনি শুধু মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণই করেননি, নতুন ইতিহাসও লিখেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে ৬৫০টি সফল পাস, ৯৩ শতাংশ

কেন বিশ্বকাপ জয়ী রদ্রিকে দলে চান না রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি পেরেজ?

বিশ্বকাপ জেতার পর একজন ফুটবলারের মূল্য শুধু বাজারে বাড়ে না, বদলে যায় তার অবস্থানও। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে নেতৃত্ব দিয়ে গোল্ডেন বল জয়ী রদ্রি এখন আর শুধু বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নন, তিনি ইউরোপীয় ট্রান্সফার মার্কেটের সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

একদিকে তার স্বপ্ন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা, অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি তাকে ধরে রাখতে মরিয়া। কিন্তু এই পুরো গল্পের সবচেয়ে বড় চরিত্র হয়তো রদ্রি নন-তিনি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। রিয়াল সভাপতির একটি সিদ্ধান্তই ঠিক করে দিতে পারে, এই গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় ট্রান্সফার হবে, নাকি আরেকটি ‘হয়েও হলো না’ গল্প হয়ে থাকবে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে এসিএল ইনজুরির পর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ছিল রদ্রিকে ঘিরে। অনেকেই ভেবেছিলেন, আগের সেই ছন্দে ফিরতে সময় লাগবে। কিন্তু উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ যেন তার ক্যারিয়ারের নতুন অভিষেক।

আটটি ম্যাচেই ছিলেন স্পেনের অপরিহার্য ভরসা। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে তিনি শুধু মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণই করেননি, নতুন ইতিহাসও লিখেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে ৬৫০টি সফল পাস, ৯৩ শতাংশ পাস সফলতার হার এবং প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে ১৭০টি পাস-সবকিছুই বলে দেয় স্পেনের প্রতিটি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি।

jagonews

আরও বড় বিষয়, স্পেন পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করেছে এবং সাতটি ক্লিন শিট রেখে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে রদ্রি জিতেছেন ফিফা বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল-যা কোনো স্প্যানিশ ফুটবলারের প্রথম অর্জন।

গত দুই মৌসুমে শিরোপাহীন থাকার পর রিয়াল মাদ্রিদ নতুন যুগ শুরু করেছে হোসে মরিনহোর অধীনে। ইতোমধ্যে মার্ক কুকুরেয়া, ইব্রাহিমা কোনাতে, ডেনজেল ডামফ্রিস ও বার্নার্দো সিলভাকে দলে এনে স্কোয়াড শক্তিশালী করা হয়েছে।

তবুও মাঝমাঠে একজন প্রকৃত ‘কন্ট্রোলার’-এর অভাব রয়ে গেছে। এমন একজন, যিনি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করবেন, রক্ষণকে সুরক্ষা দেবেন এবং আক্রমণের সূচনা করবেন। এই প্রোফাইলের খেলোয়াড় হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে রদ্রি, এনজো ফার্নান্দেজ, ভিতিনহা ও জোয়াও নেভেসকে পর্যবেক্ষণ করছে রিয়াল।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে এই ভূমিকার জন্য রদ্রির চেয়ে সম্পূর্ণ খেলোয়াড় খুব কমই আছেন। ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানো জানিয়েছেন, রদ্রির স্বপ্ন একদিন রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে তোলা। ম্যানচেস্টার সিটি তাকে নতুন লাভজনক চুক্তির প্রস্তাব দিলেও তিনি এখনও সিদ্ধান্ত জানাননি।

jago

তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী মৌসুমের পর। ফলে সিটির সামনে এখন দুটি পথ-নতুন চুক্তিতে রাজি করানো, অথবা বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, রিয়াল কি আদৌ রদ্রিকে কিনতে চায়? এখানেই মতভেদ। সেডেনা এসইআর, ম্যানেজিং মাদ্রিদ এবং সাংবাদিক মাত্তেও মোরেত্তোর তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এখনও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন।

তার আপত্তির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। রদ্রির বয়স ইতোমধ্যে ৩০ বছর, এক বছর আগে তিনি গুরুতর এসিএল ইনজুরিতে পড়েছিলেন, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রিয়াল এখন অপেক্ষাকৃত তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে ঝুঁকছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কিছু রাজনৈতিক কারণও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের দাবি।

এমনকি কিছু সূত্র দাবি করেছে, বিশ্বকাপ জেতার আগেই পেরেজ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে রদ্রিকে দলে আনা হবে না এবং বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সও সেই অবস্থান বদলাতে পারেনি। তবে অন্যদিকে সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ক্লাবের ভেতরে রদ্রিকে দলে নেওয়ার পক্ষে চাপ বাড়ছে। ফলে পেরেজের অবস্থান আগের মতো কঠোর নাও থাকতে পারে।

রদ্রির চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক বছর বাকি থাকায়, ম্যানচেস্টার সিটি যদি বিক্রিতে সম্মত হয়, তাহলে সম্ভাব্য ট্রান্সফার ফি হতে পারে ৬০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ইউরো। এর সঙ্গে যোগ হবে সাইনিং বোনাস ও এজেন্ট কমিশন ১০-২০ মিলিয়ন ইউরো, বছরে সম্ভাব্য বেতন ১৮-২২ মিলিয়ন ইউরো।

jago

চার থেকে পাঁচ বছরের চুক্তি বিবেচনায় নিলে রদ্রিকে দলে আনতে রিয়ালের মোট আর্থিক প্রতিশ্রুতি ১৫০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, শুধু ট্রান্সফার ফি নয়-বেতন, বোনাস এবং কমিশন মিলিয়ে এটি হবে রিয়ালের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বিনিয়োগ।

সিটি জানে, রদ্রি শুধু একজন মিডফিল্ডার নন; তিনি পুরো দলের ভারসাম্যের কেন্দ্রবিন্দু। চারটি টানা প্রিমিয়ার লিগ জয়ে তার অবদান ছিল অসাধারণ। মাঠে রদ্রি থাকলে এবং না থাকলে সিটির পারফরম্যান্সের পার্থক্য বহুবার চোখে পড়েছে। তাই ক্লাব দ্রুত রদ্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত চায়। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তাদের ট্রান্সফার পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রদ্রি চান স্পেনে ফিরতে। ম্যানচেস্টার সিটি তাকে হারাতে চায় না। হোসে মরিনহো এমন একজন মিডফিল্ডারই খুঁজছেন, আর রিয়াল সমর্থকরাও তাকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দেখতে মুখিয়ে।

তবু এই ট্রান্সফারের ভাগ্য এখনো একটি মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে-ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।

যদি তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন, তাহলে এই গ্রীষ্মের সবচেয়ে আলোচিত ট্রান্সফার বাস্তবে রূপ নিতে পারে। আর যদি ‘না’ বলেই অনড় থাকেন, তাহলে বিশ্বকাপজয়ী রদ্রি অন্তত আরও একটি মৌসুম ম্যানচেস্টার সিটির নীল জার্সিতেই দেখা যাবে।

আরআর/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow