কোম্পানি ঘুরছে কর্মীর পেছনে!

মিজানুর রহমান, জার্মানি প্রবাসে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে টাইমিং বা সঠিক সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ভেবে দেখুন- আপনি এমন একটি দেশে যেতে চান যেখানে কাজের অভাব, নাকি এমন কোনো দেশে যেখানে কোম্পানিগুলো দক্ষকর্মী পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে? জার্মানি এখন দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে পড়ে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি দক্ষ কর্মীর পদ খালি পড়ে আছে। এই জনবল সংকট কাটাতে জার্মানরা তাদের ‘আউসবিল্ডুং’ বা বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বানিয়েছে এক মহাসড়ক। ‘ফাকক্র্যাফটেমাঙ্গেল’ বা এই চরম কর্মী সংকটের ফায়দা তুলে কীভাবে আপনি নিজের ক্যারিয়ারকে রকেটের গতিতে এগিয়ে নেবেন? চলুন, পেছনের মূল ৪টি কৌশল বিশ্লেষণ করা যাক। কয়েক বছর আগেও আউসবিল্ডুং-এর একটি সিটের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা হতো। কিন্তু তীব্র জনবল সংকটের কারণে পুরো দৃশ্যপট এখন উল্টে গেছে। বিশেষ করে সেবা ও নার্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি, মেকাট্রনিক্স এবং নির্মাণ খাতে কোম্পানিগুলো যোগ্য প্রার্থী পাচ্ছেই না। আরও পড়ুন মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট: বিবেকের নীরবতা - দ্বিতীয় পর্ব বাংলাদেশ থেকে যদি বি১ বা বি২ লেভেলের জার্মান ভাষাটা ভালোমতো শিখে একটি পরিচ্ছন্ন জীবনবৃ

কোম্পানি ঘুরছে কর্মীর পেছনে!

মিজানুর রহমান, জার্মানি

প্রবাসে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে টাইমিং বা সঠিক সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ভেবে দেখুন- আপনি এমন একটি দেশে যেতে চান যেখানে কাজের অভাব, নাকি এমন কোনো দেশে যেখানে কোম্পানিগুলো দক্ষকর্মী পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে?

জার্মানি এখন দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে পড়ে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি দক্ষ কর্মীর পদ খালি পড়ে আছে। এই জনবল সংকট কাটাতে জার্মানরা তাদের ‘আউসবিল্ডুং’ বা বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বানিয়েছে এক মহাসড়ক।

‘ফাকক্র্যাফটেমাঙ্গেল’ বা এই চরম কর্মী সংকটের ফায়দা তুলে কীভাবে আপনি নিজের ক্যারিয়ারকে রকেটের গতিতে এগিয়ে নেবেন? চলুন, পেছনের মূল ৪টি কৌশল বিশ্লেষণ করা যাক।

কয়েক বছর আগেও আউসবিল্ডুং-এর একটি সিটের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা হতো। কিন্তু তীব্র জনবল সংকটের কারণে পুরো দৃশ্যপট এখন উল্টে গেছে। বিশেষ করে সেবা ও নার্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি, মেকাট্রনিক্স এবং নির্মাণ খাতে কোম্পানিগুলো যোগ্য প্রার্থী পাচ্ছেই না।

বাংলাদেশ থেকে যদি বি১ বা বি২ লেভেলের জার্মান ভাষাটা ভালোমতো শিখে একটি পরিচ্ছন্ন জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি পাঠানো যায়, তবে ইন্টারভিউ বোর্ডেই আপনাকে লুফে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আগের মতো শত শত প্রত্যাখ্যান খাওয়ার দিন এখন আর নেই।

জার্মানির এই সংকট নিরসনে তাদের অভিবাসন ও শ্রম আইনকে আমূল বদলে ফেলা হয়েছে, যেন বিদেশিরা দ্রুত জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারেন। আউসবিল্ডুং-এর চুক্তিপত্র পাওয়ার পর জার্মানির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি কোনো রকম গড়িমসি ছাড়াই দ্রুত পূর্ব-অনুমোদন দিয়ে দেয়। ফলে ঢাকার জার্মান দূতাবাসে ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এবং ভিসা ইস্যু হওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ও সহজ হয়ে গেছে।

আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার পর যেখানে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়, জার্মানির আউসবিল্ডুং-এ সেই দুশ্চিন্তা শূন্য। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৯৫ শতাংশ জার্মান কোম্পানি তাদের শিক্ষানবিসদের ৩ বছরের প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই পূর্ণকালীন চাকরির নিয়োগপত্র হাতে ধরিয়ে দেয়। কারণ তিন বছর ধরে আপনার পেছনে বিনিয়োগ করে তারা আপনাকে তাদের নিজস্ব ছাঁচে তৈরি করেছে। নতুন করে কর্মী খোঁজার চেয়ে আপনাকে ধরে রাখা তাদের জন্য লাভজনক। ফলে পড়াশোনা শেষ করেই বেকার থাকার কোনো সুযোগ নেই।

যেহেতু বাজারে দক্ষ কর্মীর আকাল, তাই কোম্পানিগুলো এখন ভালো শিক্ষানবিস এবং নতুন গ্র্যাজুয়েটদের ধরে রাখতে বিভিন্ন আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। অনেক কোম্পানি প্রশিক্ষণের সময়কার বৃত্তির পাশাপাশি বিনামূল্যে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ট্রেনের মাসিক টিকিট, এমনকি বিনামূল্যে থাকার জায়গাও অফার করছে। আউসবিল্ডুং শেষে পূর্ণকালীন চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় চমৎকার বেতন নিয়ে দরকষাকষি করার পূর্ণ স্বাধীনতা আপনার হাতেই থাকবে।

জার্মানির এই সুবর্ণ সুযোগের দরজা কিন্তু আজীবন এভাবে খোলা থাকবে না। তারা ইতিমধ্যেই ভারত, ভিয়েতনাম এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে লাখ লাখ কর্মী নেওয়া শুরু করেছে।

তাই আপনার যদি স্বপ্ন থাকে ইউরোপের মাটিতে নিজের একটি স্থায়ী ভবিষ্যৎ গড়ার, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করে এখনই জার্মান ভাষার পেছনে শতভাগ শ্রম দিন। এই একটি দক্ষতাই আপনাকে জার্মানির এই মেগা সংকটের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী বানিয়ে দিতে পারে।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow