‘কোরবানির সময় দেশে অনেক সিজনাল পশুপ্রেমীর আবির্ভাব ঘটে’

কোরবানির ঈদ সামনে এলেই দেশে একশ্রেণির ‘সিজনাল পশুপ্রেমীর’ আবির্ভাব ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ।  মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। কালবেলার পাঠকদের জন্য শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো-  আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে কোরবানিকেন্দ্রিক অর্থনীতির বাজার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে? ইবাদতও যে কখনো কখনো গণমানুষের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হয়ে উঠতে পারে, কোরবানি তার বড় উদাহরণ। গত কয়েক বছর ধরেই প্রতি কোরবানিতে এক কোটির ওপর পশু কোরবানি হচ্ছে। এই বিপুল পশুর বড় অংশ উৎপাদন করে দেশের প্রায় ১৭ লাখ ছোট-বড় খামার। এসব খামারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি মানুষ। ফলে কোরবানির ঈদ গ্রামীণ অর্থনীতির এক মৌসুমি প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়েছে। একসময় এই হিসাব পশুর বাজারে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন, পশুখাদ্য, চামড়া, মসলা, কামারশিল্প, ই-কমার্স, ফ্রিজিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন কোরবানি সেবা এবং মৌসুমি শ্রমবাজারের বিশাল কর্মযজ

‘কোরবানির সময় দেশে অনেক সিজনাল পশুপ্রেমীর আবির্ভাব ঘটে’

কোরবানির ঈদ সামনে এলেই দেশে একশ্রেণির ‘সিজনাল পশুপ্রেমীর’ আবির্ভাব ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ। 

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কালবেলার পাঠকদের জন্য শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো- 

আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে কোরবানিকেন্দ্রিক অর্থনীতির বাজার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে? ইবাদতও যে কখনো কখনো গণমানুষের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হয়ে উঠতে পারে, কোরবানি তার বড় উদাহরণ।

গত কয়েক বছর ধরেই প্রতি কোরবানিতে এক কোটির ওপর পশু কোরবানি হচ্ছে। এই বিপুল পশুর বড় অংশ উৎপাদন করে দেশের প্রায় ১৭ লাখ ছোট-বড় খামার। এসব খামারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি মানুষ। ফলে কোরবানির ঈদ গ্রামীণ অর্থনীতির এক মৌসুমি প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

একসময় এই হিসাব পশুর বাজারে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন, পশুখাদ্য, চামড়া, মসলা, কামারশিল্প, ই-কমার্স, ফ্রিজিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন কোরবানি সেবা এবং মৌসুমি শ্রমবাজারের বিশাল কর্মযজ্ঞ।

আবার নিয়মতান্ত্রিক খামারিদের বাইরেও বিপুলসংখ্যক কৃষক সারা বছর গরু-ছাগল পোষেন কোরবানির হাটে বিক্রি করবার আশায়। এটাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। এই পশু বিক্রি করে তারা মেয়ের বিয়ে দেন, ঘরের চাল মেরামত করেন, স্ত্রীর চিকিৎসা করান।

একটা সময় পার্শ্ববর্তী দেশের গরুতে সয়লাব থাকত আমাদের কোরবানির বাজার। কিন্তু দিনে দিনে এদেশের খামারী ও কৃষকরা পশু-শিল্পে এতটাই মনোযোগী হয়েছেন, এখন আমাদের উৎপাদিত পশুতেই কোরবানি চাহিদা পূরণ হয়ে যাচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। শুধু তাই নয়, এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই হয়তো আমরা বিদেশে গরুর গোশত রপ্তানি করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারব।

অর্থনৈতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি অভাবগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর আমিষ ও খাদ্যচাহিদা পূরণেও বিশাল এবং প্রধান ভূমিকা রাখে কোরবানি। এমনও হয়, যে কৃষক কোরবানির হাটে গরু বিক্রি করল, বাজার ঘুরে ঈদের দিন তার ঘরেও ফিরে আসে কোরবানির গোশত। এতকিছুর পরও কোরবানির সময় আমাদের দেশে অনেক সিজনাল পশুপ্রেমীর আবির্ভাব ঘটতে দেখা যায়। তারা কি কোরবানি-কেন্দ্রিক এই বিপুল অর্থনীতির বাজার এবং ইহজাগতিক কল্যাণ সম্পর্কে ধারণা রাখে না?

অস্তিত্বের প্রয়োজনে আমাদের পশু-জবাই করতেই হয়। কিন্তু ইবাদতের পাশাপাশি এটা যদি হয় কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও অভাবীদের আমিষের চাহিদা পূরণের হাতিয়ার, তবে এটা নিয়ে আপত্তি তোলা নির্বুদ্ধিতা কিংবা মতলববাজ আচরণ ছাড় কিছু নয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow