কোরবানির হাটে ভেড়ার নীরবতা: ধর্মীয় অনুমোদন থাকলেও চাহিদা কম
ঈদুল আজহা এলেই দেশের পশুর হাটে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। গরু, ছাগল, মহিষ ঘিরে চলে দরদাম, আলোচনা, উৎসবের আমেজ। পশুর হাটগুলো যখন হাঁকডাকে মুখর, তখন কিছু ভেড়া নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে হাটের এক কোণে। নিঃশব্দ, অপেক্ষমাণ। না তাদের ঘিরে বাড়তি আগ্রহ, না ছবি তোলার ভিড়, না সামাজিক আলোচনায় খুব বেশি উপস্থিতি। দরদামও চলে ধীরগতিতে। অনেক সময় দিনের পর দিন হাটে থেকেও বিক্রি হয় না ভেড়াগুলো। আবার দুই-একটি বিক্রি হলেও, দাম ওঠে না প্রত্যাশামতো। হাটে ওঠা সেসব ভেড়াগুলোর সঙ্গেই যেন দাঁড়িয়ে থাকে শত শত প্রান্তিক খামারির অপেক্ষা। তারা আশা করেন, হয়তো ক্রেতারা কোরবানির পশু হিসেবে ভেড়াকেও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে। হয়তো কেউ আসবে, দাম বলবে, কিনে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোরবানিতে ভেড়ার চাহিদা তুলনামূলক কম। যদিও ইসলামী শরিয়তে ভেড়া কোরবানির জন্য সম্পূর্ণ বৈধ ও গ্রহণযোগ্য পশু। তাহলে কেন এই অনীহা? কেন উন্মুক্ত মাঠে বা চরাঞ্চলে ভেড়া পালন করা খামারিরা কোরবানির মৌসুমেও খুব বেশি আশাবাদী হতে পারেন না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে উঠে আসে ধর্মীয় ধারণা, সামাজিক সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের ম
ঈদুল আজহা এলেই দেশের পশুর হাটে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। গরু, ছাগল, মহিষ ঘিরে চলে দরদাম, আলোচনা, উৎসবের আমেজ। পশুর হাটগুলো যখন হাঁকডাকে মুখর, তখন কিছু ভেড়া নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে হাটের এক কোণে। নিঃশব্দ, অপেক্ষমাণ। না তাদের ঘিরে বাড়তি আগ্রহ, না ছবি তোলার ভিড়, না সামাজিক আলোচনায় খুব বেশি উপস্থিতি। দরদামও চলে ধীরগতিতে। অনেক সময় দিনের পর দিন হাটে থেকেও বিক্রি হয় না ভেড়াগুলো। আবার দুই-একটি বিক্রি হলেও, দাম ওঠে না প্রত্যাশামতো।
হাটে ওঠা সেসব ভেড়াগুলোর সঙ্গেই যেন দাঁড়িয়ে থাকে শত শত প্রান্তিক খামারির অপেক্ষা। তারা আশা করেন, হয়তো ক্রেতারা কোরবানির পশু হিসেবে ভেড়াকেও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে। হয়তো কেউ আসবে, দাম বলবে, কিনে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোরবানিতে ভেড়ার চাহিদা তুলনামূলক কম। যদিও ইসলামী শরিয়তে ভেড়া কোরবানির জন্য সম্পূর্ণ বৈধ ও গ্রহণযোগ্য পশু।
তাহলে কেন এই অনীহা? কেন উন্মুক্ত মাঠে বা চরাঞ্চলে ভেড়া পালন করা খামারিরা কোরবানির মৌসুমেও খুব বেশি আশাবাদী হতে পারেন না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে উঠে আসে ধর্মীয় ধারণা, সামাজিক সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের মনস্তত্ত্বের জটিল এক চিত্র।
‘বড় পশু’ মানেই বেশি মর্যাদা
বাংলাদেশে কোরবানিকে ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক সংস্কৃতিও তৈরি হয়েছে। সেই সংস্কৃতি জুড়ে আছে ‘বড় পশু’ কেনার প্রবণতা। অনেকের কাছে কোরবানির পশু কেবল ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ নয়; এটি সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং পারিবারিক মর্যাদারও প্রতীক।
রাজধানীর একটি পশুর হাটে আসা ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘মানুষ এখনো মনে করেন বড় গরু মানেই বড় কোরবানি। ভেড়া দিলে অনেকে ভাবতে পারে সামর্থ্য কম। গ্রামাঞ্চলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট। ফলে সামর্থ্য থাকলে মানুষ গরুই বেছে নেয়, ভেড়া নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বড় গরু নিয়ে বাড়ি ফেরা, প্রতিবেশীদের দেখানো কিংবা আত্মীয়স্বজনের আলোচনা সব মিলিয়ে কোরবানিকে ঘিরে অনেক সময় সামাজিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে সামর্থ্য থাকলে অধিকাংশ পরিবার গরুকেই বেছে নেয়। আর সামর্থ্য কম হলে ছাগল। ভেড়া মাঝখানে পড়ে যায় প্রায় অদৃশ্য এক অবস্থানে।’
ছবি তুলেছেন খায়রুল বাশার আশিক
ধর্মীয়ভাবে কোনো বাধা নেই
ইসলামী বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট বয়স পূরণ করা ভেড়া কোরবানির জন্য সম্পূর্ণ বৈধ। একটি ভেড়া একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায় এবং ধর্মীয়ভাবে এর গুরুত্ব গরু বা ছাগলের চেয়ে কম নয়। হাদিসে মহানবী (সা.)-এর ভেড়া কোরবানির একাধিক বর্ণনাও পাওয়া যায়।
তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা কাজ করে। কেউ কেউ মনে করেন, ভেড়া কোরবানি ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘কম সওয়াবের’ যার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই। ধর্মীয় আলোচকরা বলছেন, ইসলামে পশুর আকার নয়; নিয়ত, তাকওয়া ও সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই বার্তাটি সমাজের বড় অংশে এখনো যথেষ্টভাবে পৌঁছায়নি।
ঢাকার এক মসজিদের খতিব মাওলানা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামে কোরবানির মূল বিষয় হলো তাকওয়া ও সামর্থ্য। পশুর আকার বা বাজারমূল্য নয়। কিন্তু সমাজে একধরনের প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বড় পশুকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।’
বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে কোরবানিতে ভেড়া ও দুম্বার জনপ্রিয়তা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরবে ভেড়া কোরবানির দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। সেখানে অনেক পরিবার গরুর পরিবর্তে ভেড়া বা দুম্বাকেই অগ্রাধিকার দেয়। একইভাবে পাকিস্তানে কোরবানির সময় দুম্বার বিশেষ কদর দেখা যায়। বড় আকৃতির ও আকর্ষণীয় গড়নের দুম্বা অনেক সময় সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
তবে বাংলাদেশে ভেড়া ও দুম্বাকে অনেকেই একই প্রাণী মনে করলেও বাস্তবে এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দুম্বার পেছনের অংশে চর্বিযুক্ত বড় লেজ থাকে এবং এটি আকারেও তুলনামূলক বড় ও দৃষ্টিনন্দন হয়। অন্যদিকে দেশি ভেড়া সাধারণত ছোট আকারের ও কম আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত হয়। ফলে বাংলাদেশের কোরবানির বাজারে দুম্বা কিছুটা আগ্রহ তৈরি করতে পারলেও সাধারণ দেশি ভেড়া এখনো সেই সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
ভেড়া পালনকারীরা হতাশ
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে দেশের প্রান্তিক ভেড়া পালনকারীদের ওপর। বিশেষ করে চরাঞ্চল, খোলা মাঠ ও উপকূলীয় অঞ্চলের সেই মানুষদের ওপর, যারা বছরের পর বছর ভেড়া পালন করে জীবিকা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও ভোলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে উন্মুক্তভাবে ভেড়া পালন করেন ছোট কৃষক ও প্রান্তিক পরিবারগুলো। চরের ঘাস, খোলা মাঠ কিংবা ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে তুলনামূলক কম খরচে ভেড়া পালন সম্ভব হওয়ায় এটি দরিদ্র পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। তবে কোরবানির মৌসুম এলেও তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না।
ঢাকার গাবতলীর পশুর হাটে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। গরুর সারির সামনে ভিড়, মাইকে ডাক, দরদামের উত্তেজনা। আর একটু দূরে দড়ি হাতে বসে আছেন ভোলার চরফ্যাশনের খামারি আব্দুল হালিম। পাশে চারটি ভেড়া। সকাল থেকে অনেক মানুষ দেখেছে, কিন্তু দাম বলেছে মাত্র দুজন।
পশুর হাট থেকে ছবি তুলেছেন ফজলুল হক মৃধা
আব্দুল হালিম বলেন, ‘সারা বছর মাঠে চরিয়ে ভেড়া বড় করি। ভাবি ঈদের সময় ভালো দাম পাব। কিন্তু হাটে এসে দেখি মানুষ আগে গরু দেখে, পরে ছাগল। ভেড়ার দিকে অনেকেই তাকায় না।’ তার অভিযোগ, অনেক ক্রেতাই ভেড়ার দাম খুব কম বলতে চান। তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে এমন দাম বলেন, মনে হয় এটা কোনো কোরবানির পশুই না।’
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান চরাঞ্চলের খামারি হোসনে আরা বেগম। তার ভাষায়, একটি ভালো মানের ভেড়া পালনে সময় ও শ্রম কম লাগে না। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেক সময় খরচ তুলতেই কষ্ট হয়। কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই ধীরে ধীরে এই খাত থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
কেন ভেড়া এখনো ‘মূলধারার’ কোরবানির পশু নয়
ঢাকার মতো শহরে কিছু উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার এখন ভেড়ার প্রতি আগ্রহ দেখালেও তা এখনো সীমিত। এর অন্যতম কারণ, ভেড়ার মাংস সম্পর্কে মানুষের পরিচিতি কম। পাশাপাশি রান্নার অভ্যাসও তেমন গড়ে ওঠেনি। বড় পরিবারে একটি ভেড়ার মাংস যথেষ্ট হয় না বলেও মনে করেন অনেকে। আবার অনেকের কাছে গরুর মাংসই যেন ‘ঈদের স্বাদ’।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আফসানা রহমান বলেন, ‘ঈদের সকাল মানেই গরুর কলিজা ভুনা, নেহারি, রেজালা কিংবা কাচ্চির আয়োজন এই ধারণা বহু পরিবারে গভীরভাবে গেঁথে গেছে। ভেড়ার মাংস আমরা নিয়মিত খাই না। তাই কোরবানির জন্য গরুই বেশি স্বস্তির মনে হয়।’
অনেকের ধারণা, ভেড়ার মাংসে গন্ধ বেশি। যদিও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অনেকাংশে পালন পদ্ধতি ও রান্নার ওপর নির্ভরশীল। কোরবানির বাজারে ভেড়ার কম চাহিদার পেছনে আরেকটি কারণ কসাইদের অনাগ্রহ। অনেক কসাই গরু বা ছাগল জবাইয়ে অভ্যস্ত হলেও ভেড়া কাটার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। ফলে কোরবানির সময় ভেড়া জবাইয়ের জন্য সহজে কসাই পাওয়া যায় না-এমন অভিযোগও রয়েছে। অনেক পরিবার ঝামেলা এড়াতে তাই গরু বা ছাগলের দিকেই ঝুঁকে পড়ে।
কোরবানির মাংস বণ্টনের সামাজিক বাস্তবতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বড় পরিবার বা সামাজিক পরিসরে একটি গরুর মাংস সহজে ভাগ করে দেওয়া যায়। কিন্তু একটি ভেড়ার মাংস তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এটিকে যথেষ্ট মনে করেন না। বিশেষ করে যৌথ পরিবার বা গ্রামীণ সমাজে, যেখানে অনেক মানুষের মধ্যে মাংস পৌঁছে দেওয়ার সামাজিক চাপ থাকে, সেখানে গরুকেই বেশি উপযোগী মনে করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণাও কোরবানির বাজারে গরুর আধিপত্য আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে। ঈদ এলেই ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটকে বিশাল আকৃতির গরুর ভিডিও, বিশেষ নামধারী ষাঁড়ের ছবি এবং লাখ টাকার পশু নিয়ে আলোচনায় ভরে যায় টাইমলাইন। অনলাইনভিত্তিক খামার ও ব্যবসায়ীরাও মূলত গরুকেন্দ্রিক প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দেন। সেই তুলনায় ভেড়া প্রায় অনুপস্থিত। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছেও কোরবানির ‘আকর্ষণীয়’ পশু হিসেবে গরুর একটি আলাদা অবস্থান তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বড় কারণ
বাংলাদেশের কোরবানির বাজার এখন একটি বিশাল অর্থনৈতিক খাত। গরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পরিবহন, অনলাইন বিপণন, ফিড ব্যবসা, অস্থায়ী হাট, ডিজিটাল প্রচারণা ও খামারভিত্তিক ব্র্যান্ডিং। ভেড়ার ক্ষেত্রে সেই সংগঠিত বাজারব্যবস্থা এখনো তৈরি হয়নি।
খামারিরা বলছেন, ব্যাংক ঋণ, সরকারি সহায়তা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও বিপণন সব জায়গাতেই ভেড়া খাত এখনো প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছে। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই খাত বড় আকারে বিকশিত হতে পারছে না।
জলবায়ু পরিবর্তনের সময়েও সম্ভাবনাময় প্রাণী
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জলবায়ু বাস্তবতায় ভেড়া একটি সম্ভাবনাময় প্রাণী। কম খাবারে টিকে থাকা, খোলা পরিবেশে সহজে মানিয়ে নেওয়া এবং তুলনামূলক কম রোগবালাই-এসব কারণে চরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে ভেড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ ও খরাপ্রবণ অঞ্চলে ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ভেড়া হতে পারে টেকসই জীবিকার কার্যকর মাধ্যম। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মধ্যে ক্ষুদ্র প্রাণিসম্পদ খাতকে অনেক বিশেষজ্ঞ ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছেন। তবুও বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেক ভেড়া পালনকারী দীর্ঘমেয়াদে এই খাতে টিকে থাকার উৎসাহ পান না।
রাজধানীর পশুর হাট থেকে দুম্বার ছবি তুলেছেন সাইফুল হক মিঠু
সামাজিক ধারণা বদলানোর প্রয়োজন
কোরবানির হাটে দাঁড়িয়ে থাকা ভেড়াগুলো তাই শুধু কয়েকটি অবিক্রীত পশু নয়; তারা বাংলাদেশের প্রান্তিক খামারিদের নীরব সংগ্রাম, সামাজিক মানসিকতার বৈষম্য এবং অবহেলিত এক সম্ভাবনাময় প্রাণিসম্পদ খাতের প্রতিচ্ছবি।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে পালন ও প্রক্রিয়াজাত করা হলে ভেড়ার মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ যথেষ্ট ভালো। কিন্তু ভেড়া নিয়ে গবেষণা, বাজার উন্নয়ন, জাত উন্নয়ন ও বিপণনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও খাতটি পিছিয়ে আছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ধর্মীয়ভাবে বৈধ ও অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী একটি পশু হিসেবে ভেড়াকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা গেলে প্রান্তিক খামারিরাও লাভবান হবেন। একই সঙ্গে কোরবানির বাজারেও বৈচিত্র্য আসবে।
- আরও পড়ুন
ওয়ান হেলথ: মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য সংহতি
সেতু থাকতেও নৌকায় নদী পাড় হয় এখানকার মানুষ
কেএসকে
What's Your Reaction?