কোয়েলের ডানায় উড়ছে বিদেশফেরত শামীমের স্বপ্ন

জীবিকার সন্ধানে একসময় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শামীম আল মামুন। তবে প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেই টেলিভিশনের পর্দায় দেখা একটি কোয়েল খামার বদলে দেয় তার ভাবনা। দেশে ফিরে নিজেও এমন একটি খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। কোয়েলের বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রি করে বর্তমানে তার মাসিক আয় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা। টাঙ্গাইলের সখীপুরের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা শামীম আল মামুন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘কোয়েল শামীম’ নামে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘সোনার বাংলা সোনালি অ্যান্ড কোয়েল হ্যাচারি’ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ কোয়েলের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলার খামারিদের কাছে সরবরাহ করা হয়। শামীম আল মামুন জানান, ২০০৯ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি পানির কারখানায় চাকরি করতেন তিনি। এক রাতে কাজ শেষে টেলিভিশনে চ্যানেল আইয়ের কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান দেখে বগুড়ার একটি কোয়েল খামারের সফলতার গল্প তার নজর কাড়ে। তখনই দেশে ফিরে কোয়েল খামার করার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি প্রবাসে থাকতেই ভবিষ্যৎ খামারের নামও ঠিক করে ফেলেন—‘সোনার বাংলা কোয়েল খামার’। ২০১১ সালে ছয় বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরে

কোয়েলের ডানায় উড়ছে বিদেশফেরত শামীমের স্বপ্ন

জীবিকার সন্ধানে একসময় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শামীম আল মামুন। তবে প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেই টেলিভিশনের পর্দায় দেখা একটি কোয়েল খামার বদলে দেয় তার ভাবনা। দেশে ফিরে নিজেও এমন একটি খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। কোয়েলের বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রি করে বর্তমানে তার মাসিক আয় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা।

টাঙ্গাইলের সখীপুরের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা শামীম আল মামুন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘কোয়েল শামীম’ নামে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘সোনার বাংলা সোনালি অ্যান্ড কোয়েল হ্যাচারি’ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ কোয়েলের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলার খামারিদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

শামীম আল মামুন জানান, ২০০৯ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি পানির কারখানায় চাকরি করতেন তিনি। এক রাতে কাজ শেষে টেলিভিশনে চ্যানেল আইয়ের কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান দেখে বগুড়ার একটি কোয়েল খামারের সফলতার গল্প তার নজর কাড়ে। তখনই দেশে ফিরে কোয়েল খামার করার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি প্রবাসে থাকতেই ভবিষ্যৎ খামারের নামও ঠিক করে ফেলেন—‘সোনার বাংলা কোয়েল খামার’।

২০১১ সালে ছয় বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরেন তিনি। পরে বগুড়ায় গিয়ে ওই খামার পরিদর্শন করেন এবং অভিজ্ঞ খামারিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেন। পরিবারের সমর্থন নিয়ে ২০১২ সালের শুরুতে বাড়ির পাশের ২০ শতাংশ জমিতে খামার স্থাপন করেন। বগুড়া থেকে আনা ৫০০টি কোয়েলের বাচ্চা দিয়েই শুরু হয় তার উদ্যোক্তা জীবন।

শুরুতে সীমিত পরিসরে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। মাত্র তিন বছরের মধ্যে কোয়েলের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার সফলতা দেখে বিভিন্ন জেলা থেকে খামারিরা খামার পরিদর্শনে আসতে শুরু করেন।

২০২০ সাল পর্যন্ত কোয়েল ও ডিম বিক্রি করে ভালোই চলছিল ব্যবসা। তবে করোনা মহামারির সময় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। অনেক খামারি তখন ব্যবসা গুটিয়ে নিলেও শামীম পিছিয়ে যাননি। নতুন সম্ভাবনার খোঁজে ২০২৩ সালে চালু করেন কোয়েলের হ্যাচারি। এর পর থেকেই ব্যবসায় নতুন গতি আসে।

বর্তমানে তার খামারে প্রায় ১৬ হাজার প্রজননক্ষম মা কোয়েল রয়েছে। প্রতিদিন এসব পাখি ১০ থেকে ১২ হাজার হ্যাচিং ডিম দেয়। হ্যাচারিতে ১৭ দিন পর সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়। প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ বাচ্চা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জেলার খামারিদের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিটি বাচ্চা ৭ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হলেও প্রতি বাচ্চায় লাভ থাকে ২ থেকে ৩ টাকা। সব মিলিয়ে মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় হয় তার।

সম্প্রতি খামারে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচজন শ্রমিকের সঙ্গে নিজেও কাজ করছেন শামীম। কেউ পাখিকে খাবার দিচ্ছেন, কেউ ডিম সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ হ্যাচারির কার্যক্রম তদারকি করছেন। উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ব্যবহারের জন্য রয়েছে জেনারেটর। পাখির খাদ্য প্রস্তুতের জন্যও স্থাপন করা হয়েছে নিজস্ব ফিড মেশিন।

শামীম আল মামুন বলেন, ‘এ খামারই এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। ব্যস্ততার মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পাই। ভালো আয় হচ্ছে, পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারছি। আমার সফলতা দেখে সখীপুরে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন নতুন উদ্যোক্তা কোয়েল খামার গড়ে তুলেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও আগ্রহীরা খামার পরিদর্শনে এসে পরামর্শ নিচ্ছেন।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘কোয়েল পালন পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক একটি খাত। এর ডিম ও মাংস পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণও তুলনামূলক কম। শামীম আল মামুন এ উপজেলার একজন অনুকরণীয় সফল উদ্যোক্তা। তার উদ্যোগ অন্যদেরও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow