কৌশিক আজাদ প্রণয়ের কবিতা...
সমতা কিংবা প্রেমের ইদানীং বড্ড বেশি সিগারেট খাওয়া হচ্ছে বুকের ভেতর দাউ দাউ জ্বলে হাহাকার- যেন নকশালবাড়ির গোপন আস্তানায় প্রতিটি কোণা রোমান্টিসিজম কিংবা বিপ্লব সব ছাপিয়ে। কবিতারা পূর্ণ হয় এলেবেলে বিচ্ছিন্ন শব্দে। কখনোবা নন্দিনীর প্রেমাতুর বারণ শুভংকরের দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে প্রতীক্ষা। একুশ শতকে প্রেম মানে প্রবল তৃষ্ণাই নয় শুধু এরচেয়ে ঢের বেশি সংকীর্ণ অস্থিরতা। দহন বাড়ে ধোঁয়াটে নিকোটিনের আস্তর জমে ফুসফুসে। অন্বেষণী চোখে মানুষ পড়ো একাকী, ব্যস্ত সময় প্রতিটি চরিত্রের নিড়ে ফেরার প্রতীক্ষা। চঞ্চল পৃথিবী তবু ছুটে যায় অবিরাম তোমার চোখে কাব্য জমে ভালোবাসার কিংবা দ্বিধার- আমিও নিবিড় ফুঁকে যাই সিগারেট। দ্বন্দ্ব জমছে বুকের ভেতর আরো একটি নকশাল বিপ্লব তো অধিকারের হোক সমতার কিংবা প্রেমের। দর্পণে আমি আসলে কে? অভিব্যক্তির অবিরাম কর্ষণে গড়া নিত্যকার এক ছাপোষা ব্যক্তিত্ব? নিয়ম মত হাই পায় ঘুমুবার? ঘন্টা মেপে সিগারেটের তৃষ্ণা, প্রেমময় আবাহনে কামনার অফুরান ঈপ্সা, যন্ত্রণায় প্রদাহ ব্যথা কিছুর ঊর্ধ্বে নই। কালক্ষণহীন কিছু জিজ্ঞাসার প্রত্যুত্তরে কেবল সময়ের কাঠগড়ায় স্থির দাঁড়ানো নিরুত্তর আসামি?
সমতা কিংবা প্রেমের
ইদানীং বড্ড বেশি সিগারেট খাওয়া হচ্ছে
বুকের ভেতর দাউ দাউ জ্বলে হাহাকার-
যেন নকশালবাড়ির গোপন আস্তানায় প্রতিটি কোণা
রোমান্টিসিজম কিংবা বিপ্লব সব ছাপিয়ে।
কবিতারা পূর্ণ হয় এলেবেলে বিচ্ছিন্ন শব্দে।
কখনোবা নন্দিনীর প্রেমাতুর বারণ
শুভংকরের দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে প্রতীক্ষা।
একুশ শতকে প্রেম মানে প্রবল তৃষ্ণাই নয় শুধু
এরচেয়ে ঢের বেশি সংকীর্ণ অস্থিরতা।
দহন বাড়ে ধোঁয়াটে নিকোটিনের আস্তর জমে ফুসফুসে।
অন্বেষণী চোখে মানুষ পড়ো একাকী,
ব্যস্ত সময় প্রতিটি চরিত্রের নিড়ে ফেরার প্রতীক্ষা।
চঞ্চল পৃথিবী তবু ছুটে যায় অবিরাম
তোমার চোখে কাব্য জমে ভালোবাসার কিংবা দ্বিধার-
আমিও নিবিড় ফুঁকে যাই সিগারেট।
দ্বন্দ্ব জমছে বুকের ভেতর আরো একটি নকশাল
বিপ্লব তো অধিকারের
হোক সমতার কিংবা প্রেমের।
দর্পণে
আমি আসলে কে? অভিব্যক্তির অবিরাম কর্ষণে গড়া নিত্যকার এক ছাপোষা ব্যক্তিত্ব? নিয়ম মত হাই পায় ঘুমুবার? ঘন্টা মেপে সিগারেটের তৃষ্ণা, প্রেমময় আবাহনে কামনার অফুরান ঈপ্সা, যন্ত্রণায় প্রদাহ ব্যথা কিছুর ঊর্ধ্বে নই। কালক্ষণহীন কিছু জিজ্ঞাসার প্রত্যুত্তরে কেবল সময়ের কাঠগড়ায় স্থির দাঁড়ানো নিরুত্তর আসামি?
আমি আসলে কে? বিষাদহীন অবসাদ খোঁজা অলিক ভ্রমের লোভাতুর আস্ফালন? প্রচেষ্টার খঞ্জরে সুর তোলা ঝংকারই শুধু, প্রতিধ্বনিত অসার কম্পন। অথবা বর্নহীন চারপাশে বিবর্ণতাকে চ্যালেঞ্জ করা রঙের বিচ্ছুরণের দিকভ্রান্ত তৃষ্ণা?
আমি আসলে ভুলে ভরার গল্পের এক তাক লাগানো ঘুরে যাওয়া? কিংবা বিস্মৃতির অমোঘে ঘেরাও হওয়া এক রত্তি অতীতের দাগ কাটা সান্ত্বনা?নাকি সফেদ নির্মলতার প্রত্যাশিত সামিয়ানায় আক্ষেপ আর দ্বিধার রক্তাক্ত আচঁর?
প্রশ্ন করি দর্পণে... কে আমি?
অবিমিশ্র জোছনায় শোভিত রাত্রির মাঝে শ্বাস পেতে
নীরব এক বোধ খেলা করে অনাদি প্রহর জুড়ে,
যেন সহস্র দিনের নিরবতা ভেঙে স্ফুরিত হবে কাব্য কথা
অশান্ত দিনাতিপাতের রুক্ষময় বেষ্টনী ভেঙে একাকার।
কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন নিস্তব্ধতায় টিমটিমে আলোয়
অদূরে কোন টঙ দোকানির চাদর মোড়া জড়তায় বানানো
এক কাপ চায়ের চুমুকে ধোঁয়া ওঠা প্রশান্ত তৃপ্ততায়
জীবনের পাতায় পাতায় উঠে আসে স্পষ্ট অক্ষর সব।
সহসা ফেলে আসা অনগণ প্রত্যাশার খড়কুটো!
হিসেবের খাতা সব চুকে বুকে গেছে কতকাল আগে
তবু এক অপ্রয়োজনীয় খেরোখাতায় জমা কত সংলাপ,
জীবন চলেছে বয়ে নিরব রাত্রির মত অভেদ্য প্রবাহে!
শূন্যতার যন্ত্রণা ভুলে মৌন সময়ের অবিচ্ছেদ্য প্রহরায়।
অনিকেত নিরুদ্দেশে
আমাদের গত হল কত বিনিদ্র রজনী
অন্ধকারের ঝাঁঝালো গন্ধে, অনিকেত নিরুদ্ধেশে
রাফ্লেশিয়ার তীব্র ঝাঁঝে নিশ্বাসে জ্বলবে ক্ষত
হাসনা হেনায় প্লাবিত জ্যোৎস্নায় বিধৌত রাত
আলো হয়ে স্মৃতির অকাতরে সযতন ক্ষণ।
রঙিন আগুন জ্বেলে ফেঁপে ওঠা খোপায়
একদিন গুঁজেছিলে একরাশ ভালোবাসা
অগ্রহায়ণে জমে ছিল শ্রাবণের প্লাবন।
আমি দংশিত হতে চাই ঘ্রাণে অঘ্রাণে
আরো শত বার বিভোর রাত্রীর আপ্লাবনে
বকুল কিংবা সফেদ বেলির কোমল উষ্মায়
সিগারেটের পোড়া ধোঁয়ায় উড়ে যাক বিষণ্নতা।
নয়ত আবার একটি শোকের কবিতা হবে,
ছেয়ে যাবে ঝাঁঝালো রাত্রির প্রতিটি প্রকোষ্ঠে
অবিরাম ধেয়ে আসবে হারানোর গল্পরা,
তোমাকে স্পর্শের অধরা উন্মাদনায় পুড়ে
শব্দগুলো কাব্য হোক, শোকের নয়, প্রেমের।
রবিহীন ভোরে
আমি চেয়েছিলাম প্রত্যুষে এক স্নিগ্ধ রুপোলি আলো
অথচ মার্তন্ড্য তান্ডবে পুড়বে বলে সময় ডানা ঝাপটায়
ভেবেছিলাম এক পল্কা হাওয়ায় উড়িয়ে দেবো দুঃখরাশি
মুহুর্তেই ঘুর্ণি হাওয়ার প্রকটে উড়ছি নিজেই উন্মাতাল।
রবিহীন ভোরে রবি জাগে দুরাকাশে ঝলসানো কাব্যে
আমিও তাই এঁকে যাই অবিশ্রান্ত আগামীর ক্লান্তিহীনতা
প্রচ্ছন্ন কোমলকে তুরি দিয়ে উড়িয়ে স্পর্ধিত বেপরোয়া
কিংবা ধবল বক ফায়ে মেখেছে কাদা, ভুলতে তৃষ্ণা।
চঞ্চুতে জল, গলাটা ভিজুক প্রাণে, চোখটি নয়।
সান্ধিবিগ্রহিক
রূপোলি জ্যোৎস্নায় ষোড়শীর টুইটুম্বুর স্তন আজ চাঁদ
অদম্য বিভায় পুড়ছে রাত্রিচর উন্মাদনে,
অদেখা আরতি শত মিশে গেছে চন্দ্রবানে
রাত্রির উপাখ্যানে মিশে আছে শাব্দিক ঘোর।
তুমি আমি সান্ধিবিগ্রহিক, পঙ্কিল যাতনার প্রবোধে
অনাঘ্রাত অন্ধকারে জোস্নার অবিরল বিন্যাসে।
এরপর হাই তোলা রজনীর অবশিষ্টাংশ জাগে
অবয়বে তার চিক্কন রমণীয় শোভা সয়লাব...
তোমাতে আমাতে গড়ে দেয় স্পর্শহীন স্পন্দন
অনুরাগে অনুভবে প্রত্যয়ী ভোর হাত বাড়িয়ে একটিবার
আস্ফালন নয়, অমাবশ্যার অবসানে স্বপ্নবাজ
জ্যোৎস্নার সুতোয় বাঁধা প্রভাতী সুরের মুর্ছনায়।
What's Your Reaction?