একটি কবিতার অপমৃত্যু
আজ একটি দীর্ঘ কবিতার শব্দাবলি
ভাঙা ডিমের খোলস ভেঙে
কিচিরমিচির করা শাবক পাখির মতো
বের হতে চাইছে হৃদয় ঠুকরে।
কবিতা না গদ্য ঠাহর করা মুশকিল।
শোকের ভাষা অনুকাব্যেও ফোঁটে ঢের।
অশান্ত এক দুর্বার ঝড়
দীর্ণ করলো হৃদয়ের ক্যানভাস।
রঙের ছড়াছড়ি বিবর্ণতায়
রঙ ঢেলেছিল সত্যি।
ঝড় এসে উড়িয়ে নিয়ে গেলো
রাক্ষুসে হাওয়ায়।
নির্বিকারে জড় হয়ে পড়ে রই একা,
কেউ জানবে না
ডুবে গেছে চাঁদ অমাবস্যার গ্রাসে।
হয়তো এই দীর্ঘ কবিতার
প্রতীক্ষায় রইবে না কেউ।
অমোঘ বাস্তবতায় জর্জরিত
কবির শোক থাকতে নেই।
কৃষ্ণপক্ষকাল!
দীর্ঘ হচ্ছে ঈপ্সিত কবিতার মতো।
অরব অন্ধকার গিলে খায়
আলোর স্বপ্ন।
অঙ্কিত স্বপ্নের দৃশ্যপটে
নেমে আসে শাটডাউন।
বৃথা অভিমানে
আড়ষ্ট হয় শব্দাবলি।
কাব্যের গা বেয়ে
ঝড়ে যায় দহনের তপ্ত লাভা।
অলকানন্দার জলে মিশে গেছে
দগ্ধ শোক।
নিকোটিনের কুণ্ডলিতে ভাসে
বিষাদের গাঢ় বোধ।
আর অতঃপর
একটি কবিতার অপমৃত্যু।
২. উদ্বেল
সবুজ প্রাণের হর্ষে কিংবা উন্মাদনার চলন্তিকায়
তুমিময়তার অনাবিল হেম জুড়ে আছে হৃদপ্রকোষ্ঠে।
অবিরাম বরষায় ভেজা
ঝিরিঝিরি শব্দের কম্পিত চুম্বন,
কিংবা আহ্লাদমাখা স্পর্শ-অনুরণনে
ভালোবাসা জাগে।
যেন মহাকাল ফুঁড়ে
ঠিকরে বেরোয় আলোর বৈজয়ন্তী।
নম্র রাত্তিরে
রিকশার চাকা ঘূর্ণনরত সোডিয়াম আলোয়
জাগরণের উষ্ণ আভায়
মৃদু ছোঁয়া হাত কিংবা চিবুক বেয়ে চলে
সোডিয়াম আলোর আছড়ে পড়া বিম্বে।
অবিরল ঋজু রাস্তার
আর্দ্র পিচে
ভালোবাসা জাগে।
৩. প্রেমে কিংবা দ্রোহে
এরপর কেটে যাবে অনাদিকাল,
ইতিহাস গড়ে যাবে অক্ষরে অক্ষরে
দ্রোহ কিংবা প্রেম।
মেনে নিয়ে মহাকালের
উদ্ভ্রান্ত সংগ্রামী বোধন,
কেউ কেউ এঁকে যায়
নিরবধি হৃদয়ের দৃশ্যপট।
আবিরজ্বলা আকাশের বুকে
স্পর্ধায় ছড়ায় বর্ণমালা,
মিশকালো আঁধারে আলো ফুঁড়ে
জাগায় কাঙ্ক্ষিত ভোর।
অবশেষে দিনান্তে
তারই প্রত্যয় জাগে অঙ্গীকারে।
নেই আজ অবসর,
হৃদয় ছুটছেই
কোন অপার প্রসন্নে।
কথার পরে কথা—
দ্রোহ আর প্রেম
মিলে মিশে একাকার।
ভাষা শুধু গাঢ় স্বরে
লেপটে থাকে
আবেগী মন্থনে।
লোকারণ্যে কিংবা মৌনতায়
তারই আবির্ভাব সর্বত্র।
বাধাহীন এক রৌদ্রাক্রান্ত দিনাতিপাতে
অথবা রাত্তিরে—
সেখানে মিশে আছে
তারই নাম
প্রেমে কিংবা দ্রোহে।
৪. মধ্য ত্রিশের তুমি
তন্দ্রালু আচ্ছন্নতায় একটি ঘোরের বিকেল,
হয়তো স্বপ্ন জুড়ে খেলছে ছায়া মেঘবালিকার।
আবির মাখা আকাশ—
এই বুঝি নামবে গোধুলি।
ক্রমশ স্পষ্ট সে
মধ্য ত্রিশের অঙ্কিত অবয়ব,
ত্রিশক্তির এক অভব্য নারীর চিত্রায়ন—
চেয়ে রই।
সহসা দ্যুতি ছড়াও,
যেন দীর্ণ করবে জড়তা।
বনলতা কিংবা সুরঞ্জনার ছায়া পেরিয়ে
সে মল চলেছে হেঁটে মেঘে মেঘে,
সত্তা জুড়ে অবিরাম।
রৌদ্রাক্রান্ত পৃথিবী
এক কোমল মোমের বিকেল গড়ে।
এই তো সে!
তন্দ্রা কেটে গেলে
জুড়ে থাকে অহনে অহনে।
জানি সন্ধ্যা নামবে একটু পর,
মেঘমল্লার ডুববে আঁধারে।
অনন্ত সময়ের মতো
তবু তারে আঁকড়ে রেখে
বা বাড়ালো শব্দমালা—
মেঘবালিকার চপল ছন্দ হয়ে।
অজস্র জড়তার বুকে রেখে
রক্তিম পায়ের ছাপ।
মধ্য ত্রিশ!
অবিচল তুমি অনন্ততায়...
৫. সংলাপে
তাহারেই ডেকে যাই
দিবসের অবসানে।
কভু রাত্তির,
কভু নরম ভোরের আলোয়—
তাহারেই স্মরে যাই
অনিমেষে, অক্লান্ত বোধনে।
তপ্ত মধ্যাহ্নে,
কিংবা গোধুলির চুরি যাওয়া আলোয়—
শুনতে কি পায় সে
আহ্বান মম?
তাহার পরে জমে আছে
সহস্রাব্দের অযুত শব্দাবলি।
পেখম মেলে উড়বে
কবিতার নীল ক্যানভাসে।
দম্ভিত স্পর্ধায়
অবিচল গড়বে
প্রেমের কবিতা।
৬. অপলাপ
নিরন্তর তৃষ্ণায় বুকফাটা যাতনায় জেগে ওঠে কোন অন্বেষণ?
খুঁজে ফিরি প্রতিনিয়ত কোন সত্ত্বা, বিহ্বলে কিংবা উষ্মায়
স্বপ্নের সংকীর্নতায় রঙ্গিন মলাট উলটে গেলে সাদাকালো জীবন
কিংবা অজস্র আলোর অন্তরালে বিস্তর রাত্রির আভাস?
কি জানি? অন্বেষণে মিলবে কভু সুখ!
অনন্ত যাত্রির বেশে পরিব্রাজক হই, তৃষিত হই আরো।
যুথবদ্ধ আগামীর বিলাসিতা আরো স্বপ্নবাজ করে,
নির্লিপ্ত নিস্তব্ধতা কে আলিঙ্গন করে হাওয়ায় মিলাও তুমি?
একরত্মি তুমি মানেই প্রবল অন্বেষায় সুখের আস্বাদন!
ক্লিষ্ট শোকের বৈভবে তবে রাত্রির গুঞ্জরণ গাঢ় হবে?
অভিলাষ কিংবা অভিঘাত, বেড়ে ওঠো উদ্দীপনে
জীবনের প্রতিটি প্রপঞ্চে। অনিমেষ প্রত্যয়ে, কখনোবা দ্রোহে
তোমাকেই খুঁজি তৃষ্ণার রসদ, জীবনের অপার সুখ।
অথবা নেমে আসে রাত্রি কয়েক প্রস্থ কালো মেখে গায়ে?
অজস্র প্রশ্নবোধকতা ছুড়ে ফেলে সীমাহীন স্পর্ধ্বায়
তবে হোক দ্বৈরথ ঐ বিষাদের রাত্রিকে যুঝবার!
তোমাতেই খুঁজে ফিরি সপ্তবর্ণা স্বপ্ন সব।