ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ‘উন্নত মমশির’ ক্লাব।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টরের অফিসে দাবি বাস্তবায়নের জন্য স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) যবিপ্রবি ক্যাম্পাসের ‘অদম্য একাত্তর’ এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীর হেঁটে যাওয়ার ভিডিও ধারণ করেন ফাহিম নামের এক বহিরাগত। পরে ওই ভিডিওতে অশালীন গান সংযোজন করে তা টিকটকে প্রচার করা হয়।
ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থীর হেঁটে যাওয়ার সময় কয়েকজন বহিরাগতকে অশোভন আচরণ করতেও দেখা যায়। রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। ঘটনা ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপির দাবিগুলো- ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং, নিয়মিত ক্যাম্পাস মনিটরিং, বেপরোয়া ও উচ্চগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করা। ইভটিজিং, হয়রানি ও বিশৃঙ্খলা কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ক্যাম্পাসে অনুমোদনহীন ভিডিও ধারণ, টিকটক ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির ক্ষেত্রে যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে উপরোক্ত বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ‘উন্নত মমশির’ ক্লাবের সভাপতি আল শাহরিয়ার রাফিদ বলেন, বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমাদের বোনদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। প্রক্টর স্যার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং আজকের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
রসায়ন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমা খান বলেন, গতকাল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তারা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়েছে এবং ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে আমরা প্রক্টরের কাছে দাবি জানিয়েছি। যাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। অভিযুক্ত বহিরাগতদের তাদের অভিভাবকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চৌগাছা থানার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।