ময়মনসিংহে স্বামীকে হত্যা মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

ময়মনসিংহ নগরীতে ছয় বছর আগে শফিকুল ইসলাম শপুকে হত্যার দায়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত নির্দেশ দেন। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলার অন্য আসামি দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, রায় ঘোষণার পর আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে তাকে সাজা ভোগের জন্য ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন নওগাঁয় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত শফিকুল ইসলাম শপু প্রথমে মাহমুদা আক্তার ঝুমুকে বিয়ে করে নগরীর বাঁশবাড়ি কলোনিতে বসবাস করতেন। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরে শপুর সঙ্গে নগরীর হাবুন ব্যাপারী মোড় এলাকার বাসিন্দা আফরোজা শেখ ইতির প্রেমের সম্পর্ক

ময়মনসিংহে স্বামীকে হত্যা মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

ময়মনসিংহ নগরীতে ছয় বছর আগে শফিকুল ইসলাম শপুকে হত্যার দায়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত নির্দেশ দেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।

একই মামলার অন্য আসামি দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, রায় ঘোষণার পর আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে তাকে সাজা ভোগের জন্য ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত শফিকুল ইসলাম শপু প্রথমে মাহমুদা আক্তার ঝুমুকে বিয়ে করে নগরীর বাঁশবাড়ি কলোনিতে বসবাস করতেন। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরে শপুর সঙ্গে নগরীর হাবুন ব্যাপারী মোড় এলাকার বাসিন্দা আফরোজা শেখ ইতির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পরও শপু প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও বিরোধ সৃষ্টি হতো।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১০ জুন সন্ধ্যায় ইতি পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে শপুকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ হাবুন ব্যাপারী মোড় এলাকার একটি পচা পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। ঘটনার তিন দিন পর, ১৩ জুন স্থানীয় লোকজন পুকুরে কচুরিপানার ভেতর থেকে একটি হাত দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় আফরোজা শেখ ইতি ও তার ভাই দ্বীন ইসলামকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আফরোজা শেখ ইতিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দ্বীন ইসলামকে খালাস দেওয়া হয়।

হোসাইন সুলভ/এসজেডএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow