ক্রিকেটে মাতৃত্বকালীন বিরতির পর ফেরার পথ দেখালো আইসিসি

নারী ক্রিকেটারদের গর্ভধারণের পর আবারও মাঠে নিরাপদভাবে ফিরতে সহায়তা করার জন্য নতুন একটি নির্দেশিকা চালু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ‘গর্ভধারণ পরবর্তী ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন নির্দেশিকা’ নামের এই নীতিমালা খেলোয়াড়, সদস্য দেশগুলোর বোর্ড, চিকিৎসক এবং কোচদের জন্য একটি ব্যবহারিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, যাতে সন্তান জন্মের পর পেশাদার ক্রিকেটে ফেরা আরও পরিকল্পিত ও নিরাপদ হয়। নারী ক্রিকেট দ্রুত পেশাদার হয়ে উঠছে এবং একই সঙ্গে অনেক খেলোয়াড় তাদের ক্যারিয়ারের মাঝেই পরিবার গঠন করছেন। সন্তান জন্মের পর আবারও এলিট পর্যায়ের ক্রিকেটে ফেরা এখন একটি বাস্তব প্রবণতা। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা তৈরি করেছে আইসিসি। আইসিসি জানিয়েছে, নারী ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ তাদের ছয়টি প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকারের একটি। ‘১০০ শতাংশ ক্রিকেট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই নারী স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে খেলোয়াড় ও সহায়তাকারী স্টাফদের সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে এবং খেলাধুলার পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে স্ব

ক্রিকেটে মাতৃত্বকালীন বিরতির পর ফেরার পথ দেখালো আইসিসি

নারী ক্রিকেটারদের গর্ভধারণের পর আবারও মাঠে নিরাপদভাবে ফিরতে সহায়তা করার জন্য নতুন একটি নির্দেশিকা চালু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ‘গর্ভধারণ পরবর্তী ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন নির্দেশিকা’ নামের এই নীতিমালা খেলোয়াড়, সদস্য দেশগুলোর বোর্ড, চিকিৎসক এবং কোচদের জন্য একটি ব্যবহারিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, যাতে সন্তান জন্মের পর পেশাদার ক্রিকেটে ফেরা আরও পরিকল্পিত ও নিরাপদ হয়।

নারী ক্রিকেট দ্রুত পেশাদার হয়ে উঠছে এবং একই সঙ্গে অনেক খেলোয়াড় তাদের ক্যারিয়ারের মাঝেই পরিবার গঠন করছেন। সন্তান জন্মের পর আবারও এলিট পর্যায়ের ক্রিকেটে ফেরা এখন একটি বাস্তব প্রবণতা। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা তৈরি করেছে আইসিসি।

আইসিসি জানিয়েছে, নারী ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ তাদের ছয়টি প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকারের একটি। ‘১০০ শতাংশ ক্রিকেট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই নারী স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে খেলোয়াড় ও সহায়তাকারী স্টাফদের সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে এবং খেলাধুলার পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলা হচ্ছে।
নতুন এই নির্দেশিকার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর বোর্ডকে নিজেদের নীতিমালা তৈরি করতে সহায়তা করা হবে, যা স্থানীয় আইন অনুযায়ী হবে এবং একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও নিশ্চিত করবে।

নিরাপদভাবে ক্রিকেটে ফেরার জন্য এই নির্দেশিকায় ‘৬ ধাপের কাঠামো’ রাখা হয়েছে— প্রস্তুতি, পর্যালোচনা, পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন, প্রত্যাবর্তন এবং পরিমার্জন। এতে অন্তর্ভুক্ত আছে সন্তান জন্মের পর প্রাথমিক সুস্থতা, চিকিৎসা ও মানসিক মূল্যায়ন, ধাপে ধাপে অনুশীলনে ফেরা, ক্রিকেট-নির্দিষ্ট শারীরিক প্রস্তুতি, মাঠে প্রত্যাবর্তন এবং ফিরে আসার পর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ।

এই নির্দেশিকা তৈরির নেতৃত্ব দিয়েছেন আইসিসি মেডিকেল উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এবং অস্ট্রেলিয়া দলের চিকিৎসক ড. ফিলিপা ইনগে। তিনি বলেন, ‘আইসিসির গর্ভধারণ পরবর্তী ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন নির্দেশিকার উদ্দেশ্য হলো খেলোয়াড়দের বোঝানো যে সন্তান জন্ম দেওয়া ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার কারণ নয়। এই নীতিমালার মাধ্যমে আমরা সদস্য দেশগুলোকে তাদের খেলোয়াড়দের ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ তৈরি করে দিতে সহায়তা করতে চাই।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার আফি ফ্লেচার, যিনি ২০২১ সালে সন্তান জন্মের পর আবারও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলছেন, তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আইসিসি যে ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে সন্তান জন্মের পর নারীদের দেখাশোনার জন্য নীতিমালা দিচ্ছে, এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে করে খেলোয়াড়রা পরিবার গড়ার পরও আবার ফিরতে পারে, যা নারী ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজগুলোর একটি।’
নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা কঠিন ছিল, তবে তার চেয়েও বেশি কঠিন ছিল সন্তানকে ছেড়ে থাকা এবং তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো মিস করা। তাই মাঠে নামার প্রতিটি মুহূর্তই আমাকে শক্তি দেয়। প্রতিটি খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা আলাদা, তবে ভালো সহায়তা পাওয়া, সুস্থ হওয়া এবং প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখা জরুরি।’

এসকেডি/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow