‘ক্লান্তির ঘুমই’ মৃত্যু পর্যন্ত গড়াল কাস্টমস কর্মকর্তার
চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। কুমিল্লা শহরও তার খুব একটা চেনা-জানা নয়। চাকুরির সুবাদে গত দেড় বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস। মহাসড়কের এখনকার নিত্যদিন বিশেষ করে রাতের বেলার ঝুঁকি হয়তো খুব একটা জানতেন না তিনি। তার ওপর সারাদিনের প্রশিক্ষণের ক্লান্তি শরীর জুড়ে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা দীর্ঘ পথের বাস যাত্রা। পরিবারের কাছে ফেরার আকুতি। সব মিলে একটা অস্থিরতা। বাসে ওঠার পর বুলেট বৈরাগী ঘুমিয়ে পড়েন। বাসটি কখন মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশপথ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড স্টপেজ অতিক্রম করে তা টের পাননি তিনি। চট্টগ্রাম থেকে রাতে কুমিল্লা এলে এখানেই নামেন সবাই। এরই মধ্যে তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা কোটবাড়ি বিশ্বরোড স্টপেজও পার হয়ে যায় বাসটি। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে কুমিল্লায় নামার কথা বললে বাসের হেলপার তাকে মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায় নামিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত তার আর বাসায় ফেরা হয়নি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী হাড়াতলী এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে র্যাব, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই
চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। কুমিল্লা শহরও তার খুব একটা চেনা-জানা নয়। চাকুরির সুবাদে গত দেড় বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস। মহাসড়কের এখনকার নিত্যদিন বিশেষ করে রাতের বেলার ঝুঁকি হয়তো খুব একটা জানতেন না তিনি।
তার ওপর সারাদিনের প্রশিক্ষণের ক্লান্তি শরীর জুড়ে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা দীর্ঘ পথের বাস যাত্রা। পরিবারের কাছে ফেরার আকুতি। সব মিলে একটা অস্থিরতা।
বাসে ওঠার পর বুলেট বৈরাগী ঘুমিয়ে পড়েন। বাসটি কখন মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশপথ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড স্টপেজ অতিক্রম করে তা টের পাননি তিনি। চট্টগ্রাম থেকে রাতে কুমিল্লা এলে এখানেই নামেন সবাই।
এরই মধ্যে তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা কোটবাড়ি বিশ্বরোড স্টপেজও পার হয়ে যায় বাসটি। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে কুমিল্লায় নামার কথা বললে বাসের হেলপার তাকে মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায় নামিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত তার আর বাসায় ফেরা হয়নি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী হাড়াতলী এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে র্যাব, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই।
এরইমধ্যে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই পেশাদার ছিনতাইকারী।
তাদের ৪ জনই সোমবার রাতে কুমিল্লা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। একজন জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ৪১তম বিসিএস নন–ক্যাডার পদে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর সর্বশেষ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছে, বাসে ওঠার পর বুলেট বৈরাগী ঘুমিয়ে পড়ায় একপর্যায়ে বাসটি কখন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড অতিক্রম করে তা টের পাননি তিনি। এমনকি তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা কোটবাড়ি বিশ্বরোডও পার হয়ে যায় বাসটি। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে কুমিল্লায় নামার কথা বললে বাসের হেলপার তাকে মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায় নামিয়ে দেন।
রাত ২টা ২৫ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন বুলেট বৈরাগী। স্ত্রী ঊর্মি হীরাকে তিনি বলেন, ‘ঘুমিয়ে পড়ো, আমার আসতে দেরি হবে।’ এরপর আর পরিবারের সঙ্গে কথা হয়নি তার। বাসেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
আর দুই কিলোমিটার সামনে গেলে তিনি নামতে পারতেন আলেখারচর বিশ্বরোডে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসার প্রবেশপথ এটি।
কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে বুলেট বৈরাগী যোগ দেন গত ৮ মাস আগে। চাকরির সুবাদে কুমিল্লা থাকা। কুমিল্লা তার শৈশবে- কৈশোরের বেড়ে ওঠা শহর নয়। রাত ১০টার পর মহাসড়কে নামা যাত্রীদের শহরে প্রবেশের জন্য তেমন সিএনজি বা অটোরিকশা থাকে না। এরপর থেকেই এটি অনিরাপদ হয়ে পড়ে।
বাসে আরেকটু অগ্রসর হলে বুলেট বৈরাগী আলেখারচর বিশ্বরোড নেমে যেতে পারতেন। ওই স্থান থেকেও তিনি সহজে শহরে প্রবেশ করতে পারতেন। এটা স্টপেজ ছিল।
এদিকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) কারওয়ান বাজারের র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামার পর উল্টোপথের জাঙ্গালিয়ার গাড়ি খোঁজ করেন। সেখানে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঁৎ পেতে থাকা পেশাদার ছিনতাইকারীরা বুলেট কোথায় যাবেন জানতে চান। তিনি বলেন, জাঙ্গালিয়ায় যাবেন। এটা শহরের আসার ভেতরের পথে। এ সময় তারা তাকে সিএনজিতে তোলেন।
তিনি আরও বলেন, ওই খুনের সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্র। যাত্রী সেজে ফাঁদ পাতেন তারা। জড়িত সবাই কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা। তারা হলো- ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), ইসমাইল হোসেন জনি (২৫), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)।
বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ মহাসড়কের পাশ থেকে শনিবার সকাল পৌনে ৮টায় উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে আইরিশ হিল হোটেলের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করে পথচারীরা। সেখান থেকে খবর পায় ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।
What's Your Reaction?