খার্গ দ্বীপ দখলের ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন ঝুঁকি ও ইরানের প্রস্তুতি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই খার্গ দ্বীপে আক্রমণ বা দখলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০% পরিচালনার কেন্দ্র এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল হিসেবে বিবেচিত। খার্গ দ্বীপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?দ্বীপটি মাত্র পাঁচ মাইল দীর্ঘ এবং ম্যানহাটানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আকারের।দ্বীপের দীর্ঘ জেটি বড় তেল ট্যাঙ্কারগুলি বহন করতে পারে, যা এটিকে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র করে তোলে।সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল, যার মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রাখা আছে।বিকল্প রপ্তানি পথ যেমন জাস্ক তেল টার্মিনাল রয়েছে, তবে বড় পরিসরে পরীক্ষিত বা ব্যবহারযোগ্য নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বীপটি দখল করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কতটা কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারবে এবং হরমুজ প্রণালী খুলতে পারবে, তা নিশ্চিত নয়। মার্কিন মেরিনদের জন্য ঝুঁকিসীমান্ত অতিক্রম করা কঠিন: মারিনদের হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হবে, যেখানে ইরানের ড্রোন, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং জলমিন রয়েছে।বহির্গামী ও আকাশের আধিপত্য: দ্বীপের চারপাশে কমপক্ষে ১০০ মাইল এলাকায় পূর্ণ আকাশ ও স

খার্গ দ্বীপ দখলের ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন ঝুঁকি ও ইরানের প্রস্তুতি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই খার্গ দ্বীপে আক্রমণ বা দখলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০% পরিচালনার কেন্দ্র এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল হিসেবে বিবেচিত।

খার্গ দ্বীপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দ্বীপটি মাত্র পাঁচ মাইল দীর্ঘ এবং ম্যানহাটানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আকারের।
দ্বীপের দীর্ঘ জেটি বড় তেল ট্যাঙ্কারগুলি বহন করতে পারে, যা এটিকে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র করে তোলে।
সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল, যার মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রাখা আছে।
বিকল্প রপ্তানি পথ যেমন জাস্ক তেল টার্মিনাল রয়েছে, তবে বড় পরিসরে পরীক্ষিত বা ব্যবহারযোগ্য নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বীপটি দখল করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কতটা কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারবে এবং হরমুজ প্রণালী খুলতে পারবে, তা নিশ্চিত নয়।

মার্কিন মেরিনদের জন্য ঝুঁকি
সীমান্ত অতিক্রম করা কঠিন: মারিনদের হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হবে, যেখানে ইরানের ড্রোন, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং জলমিন রয়েছে।
বহির্গামী ও আকাশের আধিপত্য: দ্বীপের চারপাশে কমপক্ষে ১০০ মাইল এলাকায় পূর্ণ আকাশ ও সামুদ্রিক আধিপত্য থাকতে হবে।
জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা: হাজার হাজার তেলকর্মী এবং স্থানীয়দের নিয়ন্ত্রণ বা সরিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।
যুদ্ধবাজি ও মানবিক ঝুঁকি: সম্ভাব্য মার্কিন ও ইরানি ক্ষয়ক্ষতি ও বেসামরিক ক্ষতি।
কৌশলগত অজানা: দ্বীপ দখল করেও ইরানের নেতারা হরমুজ প্রণালী খুলতে বাধ্য হবে কিনা নিশ্চিত নয়।

জেমস স্টাভ্রিডিস, NATO-এর প্রাক্তন কমান্ডার: “খার্গ হারানো দ্বারা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব আতঙ্কিত হবে কিনা তা অনিশ্চিত।”

ইরানের প্রস্তুতি
সেনা ও প্রতিরক্ষা: অতিরিক্ত সেনা, MANPAD মিসাইল সিস্টেম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপন।
মাইন ফাঁদ: দ্বীপ ও উপকূলে এন্টি-পার্সনেল ও এন্টি-আর্মার মাইন বসানো হয়েছে।
সতর্কতা: ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো শত্রু ঘাটতি করলে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হবে।

মার্কিন হামলা ইতিমধ্যে হয়েছে
পূর্বে মার্কিন বিমান হামলা লক্ষ্য করেছিল দ্বীপের সামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে বিমানবন্দর।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী ব্লক করলে তেল অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
ট্রাম্প ১৯৮৮ সালেও দ্বীপ আক্রমণের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
ট্রাম্প কেন বিবেচনা করতে পারেন?
শ্বেত গৃহ কর্মকর্তারা মনে করেন, দ্বীপ দখল করলে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী প্রহরী বাহিনী (IRGC) অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হবে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে।
এছাড়া, দ্বীপ দখল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধি ও কৌশলগত চাপ প্রদানের সুযোগ দিতে পারে।

তবে, অনেক প্রশাসনিক ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ উচ্চ লোকসানের আশঙ্কা এবং ইরানি পাল্টা আক্রমণের কারণে দ্বীপ দখলের বিরোধী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow