খুশকি থেকে চুল পড়া, আদাতেই মিলতে পারে একাধিক সমাধান

চুল পড়া, খুশকি, স্ক্যাল্পে চুলকানি কিংবা চুল পাতলা হয়ে যাওয়া-এগুলো এখন প্রায় সব বয়সের মানুষেরই পরিচিত সমস্যা। দূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, হরমোনের পরিবর্তন ও অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। তবে শুধু দামি হেয়ার কেয়ার পণ্যের ওপর নির্ভর না করে ঘরেই থাকা একটি পরিচিত উপাদান দিয়ে চুলের যত্ন নেওয়া সম্ভব। সেই উপাদানটি হলো আদা। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসায় আদার ব্যবহার রয়েছে। এতে থাকা জিনজেরল , অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান স্ক্যাল্পের যত্ন নিতে সাহায্য করে। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে আদা সুস্থ চুলের জন্য প্রয়োজন সুস্থ স্ক্যাল্প। আদার সক্রিয় উপাদান স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এতে চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি সহজে পৌঁছায়। ফলে চুলের গোড়া তুলনামূলক শক্ত থাকে এবং ভেঙে পড়ার প্রবণতাও কমতে পারে। নিয়মিত স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করলে মাথার ত্বকও সতেজ অনুভূত হয়। স্ক্যাল্প ম্যাসাজে আদার ব্যবহার

খুশকি থেকে চুল পড়া, আদাতেই মিলতে পারে একাধিক সমাধান

চুল পড়া, খুশকি, স্ক্যাল্পে চুলকানি কিংবা চুল পাতলা হয়ে যাওয়া-এগুলো এখন প্রায় সব বয়সের মানুষেরই পরিচিত সমস্যা। দূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, হরমোনের পরিবর্তন ও অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়।

তবে শুধু দামি হেয়ার কেয়ার পণ্যের ওপর নির্ভর না করে ঘরেই থাকা একটি পরিচিত উপাদান দিয়ে চুলের যত্ন নেওয়া সম্ভব। সেই উপাদানটি হলো আদা।

প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসায় আদার ব্যবহার রয়েছে। এতে থাকা জিনজেরল , অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান স্ক্যাল্পের যত্ন নিতে সাহায্য করে। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে আদা

সুস্থ চুলের জন্য প্রয়োজন সুস্থ স্ক্যাল্প। আদার সক্রিয় উপাদান স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এতে চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি সহজে পৌঁছায়। ফলে চুলের গোড়া তুলনামূলক শক্ত থাকে এবং ভেঙে পড়ার প্রবণতাও কমতে পারে। নিয়মিত স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করলে মাথার ত্বকও সতেজ অনুভূত হয়।

jagoস্ক্যাল্প ম্যাসাজে আদার ব্যবহার রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে

পাতলা চুলের যত্নে আদা ও নারিকেল তেল

যাদের চুল ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যাচ্ছে, তারা আদার রসের সঙ্গে খাঁটি নারিকেল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। দুটি উপাদান সমপরিমাণে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। প্রায় আধা ঘণ্টা রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে ২ দিন ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প আর্দ্র থাকবে এবং চুলের গোড়াও ভালো থাকবে।

খুশকি কমাতে আদা ও লেবুর মিশ্রণ

বর্ষাকালে খুশকি ও স্ক্যাল্পে ছত্রাকের সংক্রমণ বেড়ে যায়। আদার অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করতে পারে। আদার রসের সঙ্গে অল্প লেবুর রস এবং তিলের তেল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে লেবুর রস ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে এবং আগে প্যাচ টেস্ট করা ভালো।

jagoশুষ্ক ও রুক্ষ চুলে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে ব্যবহার করা যায় প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্ক

রুক্ষ চুলে ফিরবে কোমলতা

চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে আদা, অ্যালোভেরা জেল ও অলিভ অয়েলের মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের মতো কাজ করে। মাস্কটি চুলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে চুল তুলনামূলক নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
ঘন চুলের জন্য আদা ও পেঁয়াজের রস

চুলের ঘনত্ব বাড়ানোর ঘরোয়া উপায় হিসেবে আদা ও পেঁয়াজের রসের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। পেঁয়াজে থাকা সালফার এবং আদার উপকারী উপাদান স্ক্যাল্পের পরিচর্যায় সহায়ক হতে পারে। সমপরিমাণ আদার রস ও পেঁয়াজের রস মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। তবে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তারা আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করবেন।

আদা ব্যবহারে কিছু সতর্কতা

আদা প্রাকৃতিক হলেও সবার ত্বকে একইভাবে মানিয়ে নাও যেতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা হাতে সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। স্ক্যাল্পে কাটা, ঘা বা সংক্রমণ থাকলে আদা ব্যবহার করা ঠিক নয়। এছাড়া আদার রস দীর্ঘ সময় মাথায় রেখে দেওয়া উচিত নয়। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটই যথেষ্ট।

শুধু হেয়ার প্যাক নয়, প্রয়োজন ভেতর থেকেও যত্ন

চুল সুস্থ রাখতে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন সি ও বায়োটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, ভালো ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোও চুলের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আদা নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি স্ক্যাল্পের যত্নে সহায়ক হতে পারে। আর যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া, টাকের সমস্যা বা স্ক্যাল্পে সংক্রমণ থাকে, তাহলে ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, উইকালার

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow