খেলার ছলেই শিশুর মনের বিকাশ ঘটাতে পারেন যেভাবে
শিশুর মন স্বভাবতই খুব চঞ্চল। সারাদিন দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা আর নানা কৌতূহলে ভরা থাকে তাদের সময়। ফলে পড়াশোনায় মন বসানো অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুর দস্যিপনায় পরিবারের সবাই প্রায় নাজেহাল হয়ে যান। এক জায়গায় বেশিক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকা তাদের পক্ষে সহজ নয়। পড়তে বসালেই মন চলে যায় টিভি, খেলনা বা আশপাশের অন্য কিছুর দিকে। বারবার উঠে যাওয়া যেন নিত্যদিনের অভ্যাস—তা পড়াশোনা হোক, খেলা কিংবা গান শেখা, সব ক্ষেত্রেই। কোনোমতে বসে পড়লেও কিছুক্ষণ পরপর নানা অজুহাতে উঠে পড়ে। আবার বেশি বকাঝকা করলে শুরু হয় চিৎকার কিংবা কান্নাকাটি। এমন পরিস্থিতিতে শিশুর মনোযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে মা–বাবার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তবে সুখবর হলো, বেড়ে ওঠার এই বয়সে খেলাধুলার মধ্য দিয়েই শিশুর বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব। খেলার ছলেই তাদের মনঃসংযোগ বাড়ানো যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার শিশুকে মনোযোগী করতে যা করা উচিত— মননশীল খেলা নানা রকম আকার ম্যাচ করতে দেওয়া, জিগস পাজল ও দাবা খেলা শিশুর ধীরে চলার শিক্ষা দেয়। ম্যাচ করতে গেলে ভাবতে হয়, মন দিতে হয়। এতেই তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে। একই সঙ্গে পাজল সমাধ
শিশুর মন স্বভাবতই খুব চঞ্চল। সারাদিন দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা আর নানা কৌতূহলে ভরা থাকে তাদের সময়। ফলে পড়াশোনায় মন বসানো অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুর দস্যিপনায় পরিবারের সবাই প্রায় নাজেহাল হয়ে যান। এক জায়গায় বেশিক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকা তাদের পক্ষে সহজ নয়। পড়তে বসালেই মন চলে যায় টিভি, খেলনা বা আশপাশের অন্য কিছুর দিকে। বারবার উঠে যাওয়া যেন নিত্যদিনের অভ্যাস—তা পড়াশোনা হোক, খেলা কিংবা গান শেখা, সব ক্ষেত্রেই।
কোনোমতে বসে পড়লেও কিছুক্ষণ পরপর নানা অজুহাতে উঠে পড়ে। আবার বেশি বকাঝকা করলে শুরু হয় চিৎকার কিংবা কান্নাকাটি। এমন পরিস্থিতিতে শিশুর মনোযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে মা–বাবার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তবে সুখবর হলো, বেড়ে ওঠার এই বয়সে খেলাধুলার মধ্য দিয়েই শিশুর বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব। খেলার ছলেই তাদের মনঃসংযোগ বাড়ানো যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কীভাবে?
চলুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার শিশুকে মনোযোগী করতে যা করা উচিত—
মননশীল খেলা
নানা রকম আকার ম্যাচ করতে দেওয়া, জিগস পাজল ও দাবা খেলা শিশুর ধীরে চলার শিক্ষা দেয়। ম্যাচ করতে গেলে ভাবতে হয়, মন দিতে হয়। এতেই তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে। একই সঙ্গে পাজল সমাধান করার আনন্দ এবং তাদের আবার এ ধরনের খেলায় উৎসাহ জোগায়।
গল্প বলার খেলা
শুরুতেই অভিভাবকরা একটি গল্প শুরু করবেন। কয়েকটি বাক্য বলার পর শিশুকে গল্পটি এগিয়ে নিয়ে যেতে বলুন। আরও কয়েকটি বাক্য জুড়তে বলুন। এভাবে শিশু নতুন নতুন শব্দচয়ন করা যেমন শিখবে, ঠিক তেমনই কল্পনা শক্তিরও বিকাশ ঘটবে। ভাষার ওপর দখল বাড়বে এবং সৃজনশীলতারও বিকাশ হবে।
কাউন্টিং ব্যাকওয়ার্ড
আপনার শিশুকে ১ থেকে ১০০ অবধি গুনতে বলুন। তারপর ১০০ থেকে ১ অবধি পেছন দিকে গুনতে বলুন। শুরুতে হোঁচট খাবে, কিন্তু পরে তা অভ্যাসে পরিণত হবে। এই সহজ খেলা বুদ্ধির বিকাশ ঘটাবে, মনঃসংযোগও বৃদ্ধি করবে। স্থির হয়ে বসে ভাবনাচিন্তা করতে পারবে শিশু।
ক্রস ক্রল
এটি ব্যায়ামের একটি পদ্ধতি। শিশুকে বলুন ডান হাত দিয়ে বাঁ পায়ের হাঁটু স্পর্শ করতে। আবার একই ভাবে বাঁ হাত দিয়ে ডান পায়ের হাঁটু স্পর্শ করতে। পর্যায়ক্রমে এ পদ্ধতি চালিয়ে যেতে হবে। এই ব্যায়ামটি মস্তিষ্কের কোষগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধি করে। এতে মনঃসংযোগ বাড়বে এবং স্মৃতিশক্তির উন্নত ঘটবে।
বৃক্ষাসন
সহজ কিছু যোগাসনেও মনঃসংযোগ বৃদ্ধি হবে। এর মধ্যে একটি বৃক্ষাসন। এর পদ্ধতি সহজ ও শিশুরা করতে পারবে। প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুটি হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে বুকের কাছে আনতে হবে। তারপর শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে ডান হাঁটু ভাজ করে পায়ের পাতাটি বাম ঊরুর ওপর আনতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে মাথার ওপর তুলতে হবে। ৩০ সেকেন্ড এ ভঙ্গিতে এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। আবার পা বদলে একই ভাবে আসনটি করতে হবে।
What's Your Reaction?