গঠনমূলক সমালোচনা করেন, প্রশংসার দরকার নেই: সাংবাদিকদের প্রেস সচিব

1 month ago 27

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাদের গঠনমূলক সমালোচনা করেন, প্রসংশা করার দরকার নেই। আমরা চাই আপনারা প্রতিটি বিষয় তুলে ধরেন।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই এর ব্যানারে ‘গণমাধ্যমের ফ্যাসিবাদী বয়ান: ফিরে দেখা ১-৩৬ জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, কিছুদিন আগে দেখলাম একটা বড় পত্রিকা প্রফেসর ইউনূসকে নিয়ে প্রশংসাসূচক দু-তিনটি লেখা লিখেছে। আমরা তাকে ফোন দিয়ে বলছি এটি লেখার দরকার নেই। আপনি আমাদের গঠনমূলক সমালোচনা করেন, প্রশংসা করার দরকার নেই।

তিনি বলেন, আমরা চাই আপনারা প্রতিটি বিষয় তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার খুবই একটা ইম্পোর্টেন্ট সময় যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়তে চাই। সেটার জন্য গতকাল (শনিবার) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে। আমরা চাচ্ছি পুরো বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল এখানে কন্ট্রিবিউট করুক, বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটি কন্ট্রিবিউট করুক।

প্রেস সচিব বলেন, আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চাই যেখানে ফ্যাসিবাদের বয়ান কেউ তৈরি করবে না। অন্ধ হয়ে তার পার্টিকে ফলো করবে না; লিডার কিলিং করছে, অথচ আপনি তাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন, এ ধরনের পলিটিক্যাল সেটআপ যেন বাংলাদেশে না থাকে।

‘আমরা সবাই মিলে এমন একটা দেশ গড়ি যে দেশে সবার ভয়েস শোনা যায়। কেউ যেন বলতে না পারে আমি আমার কথা বলতে পারছি না। যা গত পনেরো বছর হয়েছে। আমরা দেখেছি অনেক অনেক ভয়েস শোনা যায়নি।’

প্রেস সচিব আরও বলেন, বিগত সময়ে সাংবাদিকতায় ভয়াবহ একটা সময় গিয়েছে। আমরা সেই ভয়াবহ সময়কে দূরে ঠেলতে চাই। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেখানে সব ধরনের ভয়েস থাকবে। আমাকে বড় গলায় যে ক্রিটিসিজম করবে তাকেও আমরা ধারণ করতে চাই। আমরা রিকনসিলিয়েশনের (পুনর্মিলন) পথ সবার জন্য উন্মুক্ত করতে চাই। সবাই মিলে আমরা একটা ভালো বাংলাদেশ গড়তে চাই। এমন একটা বাংলাদেশ, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। যেখানে আপনি যে কোনো মানুষকে ক্রিটিসাইজ করতে পারবেন, অবশ্যই সেটা এভিডেন্সসহ।

তিনি বলেন, কেউ কোনো একটা বয়ান তৈরি করবেন আর আপনার সম্পর্কে লেখা হবে না এটা ভাববেন না। প্রত্যেকটা জিনিস ওয়েল ডকুমেন্টেড থাকবে। আমাদের আগের জেনারেশনে আমরা এটি করতে ফেল করেছি। আমরা চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ নিয়ে লিখতে ফেল করেছি। রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার নিয়ে লিখতে ফেল করেছি। এর আগে আমাদের প্রচুর সমস্যা ছিল, এগুলো নিয়ে লিখতে আমরা ফেল করেছি। আমরা এবার যেন ফেল না করি।

শফিকুল আলম বলেন, আমরা যেন ফেল না করি। এর মূল কারণ হচ্ছে আমরা যা ফেইস করেছি আমাদের পরবর্তী জেনারেশন যেন তা ফেইস না করে। বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রকে বৈধতা দেওয়ার বয়ান যেন আর তৈরি না হয়। যে-ই ক্ষমতায় আসুক তার হয়ে যেন কোনো সাংবাদিক দালালি করতে না পারে। এই সরকার একটা উদাহরণ তৈরি করতে চাচ্ছে, আমরা বারবার বলছি আমাদের ভুলত্রুটি থাকলে আপনারা জোর গলায় বলেন, জোর কলমে লেখেন। সাংবাদিকতায় এটি হওয়া উচিত।

এসময় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই এর মুখপাত্র প্লাবন তারিক ও আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির প্রমুখ।

এসআরএস/এমকেআর

Read Entire Article