গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বিপ্লবের পরিবারকে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিল জেলা প্রশাসন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বিপ্লব হাসানের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় শহীদের বাবা মো. বাবুল মিয়ার হাতে এ সঞ্চয়পত্র প্রদান করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) উম্মে হাবীবা মীরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই গৌরীপুরের কলতাপাড়া এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বিপ্লব হাসান। সেদিন কারফিউ উপেক্ষা করে ছাত্রজনতা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কলতাপাড়া বাজারে অবস্থান নেয়। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা বিপ্লব গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।শহীদ বিপ্লবের মা বিলকিস আক্তার শোকাহত কণ্ঠে বলেন, “আমি এখনো ঘুমাতে পারি না। বারবার মনে হয় আমার ছেলে আমাকে ডাকছে—‘মা, আমাকে নাস্তার টাকা দাও’। কোনো

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বিপ্লবের পরিবারকে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিল জেলা প্রশাসন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বিপ্লব হাসানের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় শহীদের বাবা মো. বাবুল মিয়ার হাতে এ সঞ্চয়পত্র প্রদান করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) উম্মে হাবীবা মীরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই গৌরীপুরের কলতাপাড়া এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বিপ্লব হাসান। সেদিন কারফিউ উপেক্ষা করে ছাত্রজনতা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কলতাপাড়া বাজারে অবস্থান নেয়। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা বিপ্লব গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।

শহীদ বিপ্লবের মা বিলকিস আক্তার শোকাহত কণ্ঠে বলেন, “আমি এখনো ঘুমাতে পারি না। বারবার মনে হয় আমার ছেলে আমাকে ডাকছে—‘মা, আমাকে নাস্তার টাকা দাও’। কোনো শব্দ হলেই সেই দিনের গুলির আতঙ্ক ফিরে আসে।” তিনি বলেন, “এই টাকা দিয়ে তো আর আমার সন্তানকে ফিরে পাব না। তারপরও সরকারের এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।”

বিপ্লবের বাবা মো. বাবুল মিয়া বলেন, “আমার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। কিন্তু সেই সময় পুলিশের চাপে আমরা ঠিকভাবে তার জানাজাও করতে পারিনি। প্রতিদিনই বাড়িতে পুলিশ আসতো, ভয়ে অনেক সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হতো।” তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে হয়তো ছেলের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণেই আমাকে বাকি জীবন কারাগারে থাকতে হতো।”

তিনি জানান, বিপ্লব ছিল তার তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে এবং সবার বড়। সে হাজী মোজাফফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন সকালে মায়ের কাছ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে নাস্তার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেয় সে। কিন্তু আর জীবিত ফিরে আসেনি—সহযোদ্ধাদের কাঁধে ভর করে তার নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়।

বিপ্লবের সহযোদ্ধা বাহালুল মুনশী বলেন, “সেদিন পুলিশ প্রথমে গুলি শেষ করে ফেলে, পরে আবার গুলি সংগ্রহ করে ছাত্রজনতার ওপর হামলা চালায়। আমার সামনেই বিপ্লব গুলিবিদ্ধ হয়।” অন্য এক সহযোদ্ধা ও ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. বিল্লাল মিয়ার অভিযোগ, পুলিশের এক সদস্য কাছ থেকে বিপ্লবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কের ডেলটা মিল সংলগ্ন মসজিদের কাছে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আশপাশে থাকা আন্দোলনকারীরা আতঙ্কে সরে যেতে বাধ্য হন।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা শহীদ বিপ্লবের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow