অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। এসময় প্রধান উপদেষ্টাকে তারা পাঁচটি দাবির বিষয়ে জানিয়েছেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে বৈঠকের পর দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, আমরা মোট পাঁচটি বিষয় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছি। গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পার হয়ে গেলেও আমরা দেখতে পাচ্ছি গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং তাদের নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। আমরা কিছুদিন আগেও দেখেছিলাম শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের দাবি নিয়ে মাঠে নামলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেসময় বেশকিছু শহীদ পরিবারে সদস্যরা আহত হয়। আমরা শহীদ পরিবার এবং আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছি।
তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের দেশে থাকা সহযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রবাসী ভাইয়েরা অংশগ্রহণ করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কিছু লোক আটক হয়েছিল। সরকারের উদ্যোগে কিছু লোককে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে কিন্তু এখনো ২৫ জন সহযোদ্ধা সেখানে আইনি জটিলতায় আটকা রয়েছেন। সে বিষয়ে সরকার যেন উদ্যোগ গ্রহণ করে সে বিষয়ে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুম কমিশন করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ছিল। গুম কমিশন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে- গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার বিষয়ে তোর অভিযোগ এনেছেন এবং প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। আমরা সরকারের কাছে সুস্পষ্টভাবে দাবি করেছি, গুম কমিশনের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে রাষ্ট্রীয় যেসব সংস্থার মধ্যে যেসব সদস্যরা এসব অভিযোগে অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, একইসঙ্গে আমরা আশঙ্কা করছি বাংলাদেশে বিগত ১৫ বছরে যে নির্বাচনগুলো হয়েছিল সেই নির্বাচনে আমরা দেখেছিলাম রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিভিন্নভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করত। কারা বিরোধী দল হবে, কারা নির্বাচন করতে পারবে, কারা পারবে নাসহ নানা বিষয় তারা প্রভাবিত করত। সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখানোর জন্য বিভিন্ন লোককে গ্রেফতারসহ নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
আদিব বলেন, জুলাই সনদের আইনি এবং সাংবিধানিকভিত্তির জন্য আগামী নির্বাচন যেন অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হয় সেটি জানানো হয়েছে। গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘ ৫৪ বছরের রাজনৈতিক সংকট, একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের কাঠামো স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা মনে করি, আগামী নির্বাচন গণপরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করবে।
- আরও পড়ুন
- নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে, বিএনপিকে আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টার
- জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন হতে হবে: জামায়াত
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের সময়ে আমরা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম- নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা, নিরপেক্ষতার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা যেন ভূমিকা রাখেন।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার জন্য প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। জাতীয় পার্টি সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য সরকার যেনও আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করে সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি।
এনএস/এনএইচআর/জিকেএস