গণভোট না থাকলে নির্বাচন কীভাবে থাকে, প্রশ্ন শিশির মনিরের
বাংলাদেশে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ না থাকলে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলো হোঁচট খেলে নির্বাচন ও সরকারের অস্তিত্বই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের বিষয়বস্তু বানিয়ে সরকার এক ধরনের ‘দ্বিচারিতা’ করছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রশ্নে রুল জারির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা।
শিশির মনির বলেন, সংবিধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অসাংবিধানিক হবে না এটি একটি রুল। আরেকটি রুল হল সংসদ সদস্যদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করানোর জন্য যে চিঠি দেয়া হয়েছিল ওই চিঠির দ্বিতীয় অংশ সংবিধান সংশোধন সভার সদস্য হিসেবে শপথ নেয়াটা কেন অবৈধ হবে না এটি আরেকটি রুল। আরেকটি রুল হল গণভোটের সেকশন-৩ এ যে চারটি প্রশ্ন দেয়া আছে সেটি কেন অব
বাংলাদেশে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ না থাকলে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলো হোঁচট খেলে নির্বাচন ও সরকারের অস্তিত্বই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের বিষয়বস্তু বানিয়ে সরকার এক ধরনের ‘দ্বিচারিতা’ করছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রশ্নে রুল জারির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা।
শিশির মনির বলেন, সংবিধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অসাংবিধানিক হবে না এটি একটি রুল। আরেকটি রুল হল সংসদ সদস্যদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করানোর জন্য যে চিঠি দেয়া হয়েছিল ওই চিঠির দ্বিতীয় অংশ সংবিধান সংশোধন সভার সদস্য হিসেবে শপথ নেয়াটা কেন অবৈধ হবে না এটি আরেকটি রুল। আরেকটি রুল হল গণভোটের সেকশন-৩ এ যে চারটি প্রশ্ন দেয়া আছে সেটি কেন অবৈধ হবে না? এটি আরেকটি রুল। আর আরেকটি হল ওই গণভোট অর্ডিন্যান্সের তফসিলের ৩০টি ঐক্যমতের ভিত্তিতে যে ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছিল সেটিকে কেন অবৈধ করা হবে না? এটি হল আরেকটি রুল। এই চারটি সেপারেট রুল জারি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি ৫ আগস্টের পরে যে সংস্কার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তা রাজনৈতিক ঐক্যের বাইরে নিয়ে এসে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটার বানানো হল। অতীতেও আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটার বানানো হয়েছে যে সমস্ত বিষয়কে যেগুলো রাজনৈতিকভাবে সেটেল করার বিষয় ছিল তার কোনোটারই ভালো ফলাফল আমরা দেখতে পাইনি। ৩০টি বিষয়ে যেখানে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল একমত হল সেই ৩০টি বিষয়কেও রুলের অধীনে কার ইনস্ট্রাকশনে আনা হল এটি আমরা এখনো বোধগম্য নই।
শিশির মনির বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি এই রিট মামলা শুনানি করা এবং পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সরকারের একাংশের ডাইরেক্ট সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ফলে আমরা ধরে নিতে পারি যে সরকার এই সংস্কার প্রস্তাবকে পার্লামেন্টকে বাইপাস করে কোর্টের মাধ্যমে সেটেল করে এক ধরনের স্থিতাবস্থা বা এক ধরনের সুবিধা নেয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। আবার সরকারকে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে দ্বিচারিতা করছেন। এই দ্বিচারিতার অংশ হিসেবে গতকাল তারা প্রস্তাব পাঠিয়েছেন ডেপুটি স্পিকারকে বিরোধীদল থেকে দেয়া হবে। অথচ এটা ৩০টি প্রস্তাবের মধ্যে আছে এবং সবাই একমত হয়েছিল। এটাকে আজকে রুলের অংশ করা হয়েছে। একদিকে বলছেন ডেপুটি স্পিকার দেয়া হবে, নাম প্রস্তাব করেন। আরেকদিকে নিজস্ব ইন্সট্রাকশনে ইনডাইরেকলি রিট পিটিশন দায়ের করে সংস্কার প্রস্তাবকে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটার বানাচ্ছেন। এটার নাম হল দ্বিচারিতা।
শিশির মনির আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি একটি রাজনৈতিক দল নিজের পায়ে কুড়াল মারার চেষ্টা করছে। যদি বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ না থাকে, ৩০টি কনসেনসাসের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব না থাকে, গণভোটের প্রশ্নও অবৈধ হয়। তাহলে শেষ পর্যন্ত থাকবে কি? শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থাকে? সরকার থাকে? নিজের গদি থাকে? সবকিছুই বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন। তো এই দায় দায়িত্ব তাদেরকে নিতে হবে। যারা এই প্যান্ডোরার বক্স ওপেন করাচ্ছেন, দে হ্যাভ টু টেক দ্য রেস্পন্সিবিলিটি অন দেয়ার সোল্ডার। জাতীয় জীবনের এত বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ডিজাইন করে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটার বানিয়ে পার্লামেন্টকে পাশ কাটানোর যে কৌশল, এটি অতীতেও ভালো কোনো কৌশল হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।’