গণভোট পাসের আগে ডেপুটি স্পিকার পদ না নেওয়ার পরামর্শ

সংসদে বিরোধী দলকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের বক্তারা। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে বিরোধী দলের উচিত ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া। একই সঙ্গে জুলাই সনদকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে বিরোধীদলকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পক্ষেও মত দেন তারা। গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য শুধু বিরোধী দল নয়; সরকারি দলকেও সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।   সোমবার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (সিপিএএ)’ আয়োজিত ‘নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশ : গণভোটের অঙ্গীকার, জুলাই সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাবসমূহের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিএএ’র প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সচিব ড. মো. শরিফুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম।  আলোচনায় বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের অঙ্গীকার উপেক্ষা করা হলে বর্তমান সরকার ও সংসদের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাদের মতে জুলাই

গণভোট পাসের আগে ডেপুটি স্পিকার পদ না নেওয়ার পরামর্শ

সংসদে বিরোধী দলকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের বক্তারা। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে বিরোধী দলের উচিত ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া। একই সঙ্গে জুলাই সনদকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে বিরোধীদলকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পক্ষেও মত দেন তারা। গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য শুধু বিরোধী দল নয়; সরকারি দলকেও সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।  

সোমবার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (সিপিএএ)’ আয়োজিত ‘নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশ : গণভোটের অঙ্গীকার, জুলাই সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাবসমূহের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিএএ’র প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সচিব ড. মো. শরিফুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। 

আলোচনায় বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের অঙ্গীকার উপেক্ষা করা হলে বর্তমান সরকার ও সংসদের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাদের মতে জুলাই বিপ্লবের পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে। ফলে জুলাই সনদ এবং প্রস্তাবিত সংস্কার উপেক্ষা করার কোনো নৈতিক বা আইনি ভিত্তি নেই। জনগণের আকাঙ্ক্ষা দমন করতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা আত্মঘাতী হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন। 

তারা আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবকে পাশ কাটিয়ে বর্তমান সংসদের বৈধতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের ব্যর্থ প্রচেষ্টার উদাহরণ টেনে বক্তারা বলেন, সেসব সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিকে গভীর সংকটে ফেলেছিল। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। এক্ষেত্রে বিরোধী দল যদি এই দাবির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় তবে তা গণভোটের দাবি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

আলোচনায় অংশ নেন সিপিএএ’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সচিব আবদুল কাইউম, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুর রব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আব্দুল লতিফ মাসুম, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাফিউল ইসলাম, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মিলি রহমান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow