গণভোটের মাধ্যমে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সরকার তা নষ্ট করে দিচ্ছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা যে সংস্কারের কথা বলেছিলাম, ঐকমত্য কমিশন ও গণভোটের মাধ্যমে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই সম্ভাবনাগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু একটি দলের জায়গায় আরেকটি দল এসেছে, কিন্তু কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি।   রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বারবার বলেছি- আমরা শুধু দল বা ব্যক্তির পরিবর্তন চাই না, আমরা চাই ক্ষমতার কাঠামোর পরিবর্তন। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে, দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমরা চাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ। যেখানে সব ধর্ম, মত, শ্রেণি ও পেশার মানুষ একসঙ্গে থাকবে এবং একটি বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এই পথে চলতে গিয়ে নানান মতভেদ, ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও উদ্যোগ তৈরি হয়েছে। তবে আমরা সবসময়

গণভোটের মাধ্যমে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সরকার তা নষ্ট করে দিচ্ছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা যে সংস্কারের কথা বলেছিলাম, ঐকমত্য কমিশন ও গণভোটের মাধ্যমে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই সম্ভাবনাগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু একটি দলের জায়গায় আরেকটি দল এসেছে, কিন্তু কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি।  

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বারবার বলেছি- আমরা শুধু দল বা ব্যক্তির পরিবর্তন চাই না, আমরা চাই ক্ষমতার কাঠামোর পরিবর্তন। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে, দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমরা চাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ। যেখানে সব ধর্ম, মত, শ্রেণি ও পেশার মানুষ একসঙ্গে থাকবে এবং একটি বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এই পথে চলতে গিয়ে নানান মতভেদ, ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও উদ্যোগ তৈরি হয়েছে। তবে আমরা সবসময়ই এসবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছি। কারণ, যত বেশি তরুণ রাজনীতিতে যুক্ত হবে এবং সংগঠিত হবে, ততই তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আজ আমরা সবাই উপলব্ধি করেছি যে, একসঙ্গে একটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। যারা আজ এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন, আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই এবং আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমাদের প্রত্যাশা-আমরা সবাই মিলে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) আরও শক্তিশালী করবো এবং দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনবো।

আরও পড়ুন
অতীতে কেউ ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবে: নাহিদ ইসলাম 
এনসিপিতে যোগ দিলেন জুনায়েদ-সানি-রিফাত রশীদ 

তিনি বলেন, আজ যারা এখানে একত্রিত হয়েছি বা যারা নতুন করে যোগ দিচ্ছেন, তারা আমাদের থেকে ভিন্ন কোনো লক্ষ্যে কাজ করেননি। হয়তো তারা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, সবার লক্ষ্য ছিল এক ও অভিন্ন। এই কারণেই আমরা মনে করি, একই লক্ষ্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার চেয়ে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হওয়া এখন সময়ের দাবি। তরুণদের দল হিসেবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী শক্তি হিসেবে এনসিপিকে আরও শক্তিশালী করা এবং তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া এখন বাংলাদেশের জন্য অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প নেই।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা দেখছি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত ও গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে। দেশে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার যে সংগ্রাম গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু হয়েছে, সেই সংগ্রামকে আমাদের সম্পূর্ণ করতে হবে।

তিনি বলেন, এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই আমরা তরুণদের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করছি। বিশেষ করে যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। তারা যে প্ল্যাটফর্মেই থাকুন না কেন, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি- যারা রাজনীতি করতে চান, তারা এনসিপিতে যোগ দিন। আর যারা সরাসরি রাজনীতির বাইরে থেকেও কাজ করতে চান, তাদের সঙ্গেও আমরা একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই মুহূর্তে একটি বৃহত্তর ঐক্য গঠন অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, আমরা দেশকে আবার আগের ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চাই না। বাস্তবে আমরা দেখছি, দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের শিকার হচ্ছে- বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে সর্বত্রই একই চিত্র।  

এনএস/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow