গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ নানা দাবিতে রাজশাহীতে ১১ দলের গণমিছিল
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং সারাদেশে শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাজশাহীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কুমারপাড়া মোড়, সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট, মনি চত্বর, রাজশাহী কলেজ ও লোকনাথ স্কুলের সামনে দিয়ে সোনাদিঘি মোড় হয়ে বাটার মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার এই রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় পেলেও বর্তমান সরকার পালানোর পথও খুঁজে পাবে না। জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ নানাবিধ সমস্যার স
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং সারাদেশে শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাজশাহীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কুমারপাড়া মোড়, সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট, মনি চত্বর, রাজশাহী কলেজ ও লোকনাথ স্কুলের সামনে দিয়ে সোনাদিঘি মোড় হয়ে বাটার মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার এই রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় পেলেও বর্তমান সরকার পালানোর পথও খুঁজে পাবে না।
জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছে না। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও বিদ্যুৎ নেই। জনগণকে বিদ্যুৎ দিতে না পারলে ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার এই সরকারের নেই।
শিক্ষাঙ্গণের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থীদের কুপিয়ে আহত করছে।
বিগত সরকারের ছাত্র সংগঠনের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা বলেন, বিগত সরকার সকল প্রশাসনকে ব্যবহার করেও টিকতে পারেনি। দেশের জনগণ ফুঁসে উঠলে বর্তমান সরকারও দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী টিকতে পারেননি, বর্তমান সরকারকেও এ ধরনের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে। সুতরাং বর্তমান সরকারের পতনের জন্য ১৭ দিন সময়ও লাগবে না। যারা একসময় আত্মগোপনে থেকে লড়াই করেছেন, তাদের অবদানেই আজ অনেকে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান নেতারা।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের নায়েবে আমির ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সেক্রেটারি এমাজউদ্দীন মণ্ডল, এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিন সরকার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ইমরান নাজিরসহ জোটের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মনির হোসেন মাহিন/এমএন/এমএস
What's Your Reaction?